Published : 15 Jun 2026, 05:52 PM
আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন বলেছেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী যদি দাবি করে থাকেন যে, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল তার পেছনে কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে, তাহলে সেই অভিযোগের প্রমাণ তাকেই দিতে হবে।
সোমবার বিকেলে আদ-দ্বীন হাসপাতালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “টাকা নিয়ে কেন ঘুরব। এমন কিছু করিনি।”
হাসপাতালের লাইসেন্স ফিরে পেতে মঙ্গলবার আপিল করা হবে বলেও জানিয়েছেন শেখ মহিউদ্দিন।
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গত ১১ জুন রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে সরকার। তিন দিনের মধ্যে রোগীদের অন্য হাসপাতালে সরিয়ে নিতে বলা হয়। লাইসেন্স বাতিলের পর বিপাকে পড়েন সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীরা।
আদ-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিল নিয়ে আলোচনার মধ্যে ১৩ জুন নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল দাবি করেন, লাইসেন্স বাঁচাতে হাসপাতালটির কর্তৃপক্ষ কোটি কোটি টাকা নিয়ে তার পেছনে ঘুরেছে।
মন্ত্রী বলেন, “এই যে আদ-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে আমার পেছনে। আল্লাহর রহমতে আপনাদের দোয়ায় কোনো টাকার প্রতি লোভ হয় নাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আপনি যা করবেন, আমি পূর্ণ সমর্থন দেব। আমি লাইসেন্স বাতিল করে দিয়েছি।
“আর জামায়াতের লোকেরা বলে, এটা নাকি বেইনসাফ হইছে। মানে, ওই ব্যাটাও জামায়াত করে। মানুষকে ধোঁকা দেয়। কয়েকটা টাকা কম নেয়। ছয়টা বাচ্চাকে মেরে ফেলছে। ওরা এখন উনার পক্ষে কথা বলে। কথা বলুক আর যাই করুক, লাইসেন্স বাতিল করছি তো করছিই। এই একটা শাস্তি সারা বাংলাদেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলো ঠিক হয়ে যাবে।”
তিনি বলেন, “মানুষকে সেবা দিতে হবে। সস্তার কথা বলে টাকা কম নেয়! আরে কী কম নেয়? ছয়টা মায়ের কোল খালি করছে। কাজেই এগুলো থেকে আপনাদের সাবধান থাকতে হবে।”
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এ বক্তব্যের দুদিন পর সোমবার সংবাদ সম্মেলনে এসে অভিযোগ নাকচ করলেন আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক।
শিশু মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে শেখ মহিউদ্দিন বলেন, ঠিক কী কারণে শিশুদের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনেও স্পষ্ট করা হয়নি কী কারণে মারা গেছে। যেসব শিশু মারা গেছে, তাদের ময়নাতদন্তও হয়নি।
“আমাদের বিশেষজ্ঞদের মত অনুসারে সেখানে যে পরিমাণ কার্বনডাই অক্সাইড ছিল, তাতে শিশুর মৃত্যু হওয়ার মত নয়। মৃত্যুর কারণ এটা না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।”
লাইসেন্স বাতিলের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি প্রতিবেদন দিয়েছে জানিয়ে আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদনে সুস্পষ্ট কারণ না থাকলেও যেসব বিষয়ে বলা হয়েছে, তা সংস্কার শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী বুয়েটের ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে সংস্কার শুরু করেছি। তিনজন ইঞ্জিনিয়ার কাজ করছে।
“পুরো হাসপাতালের ভেন্টিলেশন ঠিক করার জন্য যা যা প্রয়োজন আমরা সব করছি। এ ছাড়া শিশু ওয়ার্ড সিলগালা করা হয়েছে, সেটিও ঠিক করতে চাবি চাওয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে এক সপ্তাহেই সংস্কার করা যাবে।”
আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদনে শিশুদের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “শিশু মৃত্যুর সঠিক কারণ আমাদেরও জানা নেই।”
লাইসেন্স ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা থেকে হাসপাতালে সংস্কার করা হচ্ছে কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে শেখ মহিউদ্দিন বলেন, “হাসপাতালের লাইসেন্স ফিরে পাওয়ার বিষয়ে কেউ কোনো ধরনের আভাস দেয়নি। অনেকের কষ্টের কথা ভেবে এসব সংস্কার করা হচ্ছে। লাইসেন্স বাতিলের পর স্টাফ, নার্স ও ডাক্তারদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি।”
হাসপাতালের ভেতরে বেকারির বিষয়ে তিনি বলেন, “বেকারিতে অনেক জনবল কর্মরত ছিল। কিন্ত সেটি আমরা সরিয়ে ফেলছি। এখানে ওই বেকারি আর চলবে না।”
সংবাদ সম্মেলনে আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশন ও হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।