সুস্থ্য হয়ে পরিচালনায় মন দিতে চান রিফাত চৌধুরী
দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, অনিদ্রা, কোমর ও পায়ের জটিল সমস্যা এবং অতিরিক্ত দুর্বলতায় ভুগছেন এই কবি ও নাট্যাভিনেতা।
কবি ও প্রবীণ নাট্যাভিনেতা রিফাত চৌধুরী গুরুতর অসুস্থ হয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের নতুন ভবনের মেডিসিন ইউনিট-৩ এ চিকিৎসাধীন।
আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে তার কোমড়ে একটি জরুরি অস্ত্রোপচার হতে পারে বলছেন চিকিৎসকরা।
অন্যদিকে রিফাত চৌধুরী বলছেন, সুস্থ্য হয়ে ফিরে লেখালেখির পাশাপাশি আবার অভিনয় নয়; বরং মন দিতে চান নাটক পরিচালনায়।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৪ সেপ্টেম্বর রিফাত চৌধুরীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুরুতে বেড না পাওয়ায় ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তার ঠাঁই হয় হাসপাতালের ওয়ার্ডের ফ্লোরে। তবে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ওইদিনই রিফাত চৌধুরীকে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে বেডে নেওয়া হয়।
২১ সেপ্টেম্বর রাতের দিকে তাকে নেওয়া হয় কেবিনে। দীর্ঘদিন ধরে রিফাত চৌধুরী শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, অনিদ্রা, কোমর ও পায়ের জটিল সমস্যা এবং অতিরিক্ত দুর্বলতায় ভুগছেন।
হাসপাতালের বিছানায় বসে বুধবার নিজের অসুস্থতার বর্ণনা দেন এই কবি ও অভিনেতা। রিফাত চৌধুরী বলেন, “বেশ কয়েক বছর ধরে আমি অসুস্থ; বলতে গেলে অচল অবস্থায় আছি। বেশিক্ষণ হাঁটতে পারি না। একশ গজ হাঁটার পরই বসে বিশ্রাম নিতে হয়। আমার মূল সমস্যা পায়ে ও কোমরে। কদিন ফ্লোরে থাকতে আমার খুব কষ্ট হয়েছে, তবে এখন বেশ আরামে আছি।”
এরইমধ্যে আর্থিক সংকটের কারণে রিফাত চৌধুরীর চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভাতের ক্ষুধা নেই, এখন আমার টাকার ক্ষুধা লেগেছে।”
পরিবার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তার ভাষ্য, “আপনারাই তো আমার পরিবার। আপনারাই তো আমার প্রতিদিন খোঁজখবর রাখছেন। আপনারাই তো আমার অসুস্থতার খবর সব জায়গায় ছড়িয়ে দিচ্ছেন। আপনারাই তো আমার আপনজন।”
সরকার থেকে কোন সাহায্য এসেছে কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি তো এ দেশের নাগরিক না। আমার ভোটার আইডি কার্ড নেই, পাসপোর্ট নাই, হোল্ডিং নম্বর নাই। আমাকে কেন সরকার সাহায্য করবে? করলে আপনাদের মত মানুষ করবে। আগে আমি বিশ্বাস করতাম টাকার রঙ সাদা এবং কালো। এখন দেখি টাকার রঙ লাল।”
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা নিয়ে প্রশ্নে তিনি বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার কোনো আইডি নেই। আমি বাস্তবের মানুষ, বাস্তবেই থাকতে চাই। বাস্তবটাই ভীষণ সুন্দর।”
অভিনয় প্রসঙ্গে প্রশ্নে রিফাত চৌধুরী বলেন, “আমি কখনো অভিনেতা হতে চাইনি। আমি অভিনয় করিনি; যা করেছি সবই বাস্তব। তবে সবসময় আমি চেয়েছি কবি হতে, কবিতা লিখতে, কবিতার সাথে বাঁচতে। কবিতাই আমার কাছে বাস্তব মনে হয়। কবিতায় যত মনের কথা প্রকাশ করা যায়, অভিনয়ে তা যায় না। আমি কোথাও আটকে থাকতে চাই না। আমি চলমান।”
সুস্থ হয়ে বাসায় যাওয়ার পর আবার অভিনয় না করে পরিচালনায় মন দিতে চান বলে জানান তিনি।
বর্তমানে তার অনুজ বন্ধু ও চিকিৎসক অমিতাভ অরণ্য সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছেন তথ্য দেন রিফাত চৌধুরী।
হাসপাতালে কিভাবে সময় কাটছে প্রশ্নে তিনি বলেন, “হাসপাতাল তো আমার কাছে পাতাল। মনে হয় পাতালে বসবাস করছি, যেখানে হাঁস প্যাক প্যাক করছে। আমি তো কবিতার মানুষ। বর্তমানে আমার কবিতা পড়েই সময় কাটছে।”
সহকর্মীরা খোঁজখবর নিচ্ছেন কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, “আগে কেউ খোঁজখবর নেয়নি, গণমাধ্যমে আমার অসুস্থতার খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পরে এখন সহকর্মীরা আমার প্রতিদিন খোঁজখবর নিচ্ছেন।”
কিশোরগঞ্জে ১৯৬০ সালে জন্মগ্রহণ করেন রিফাত চৌধুরী। ১৯৮৪ সালে ‘আলিঙ্গনের নাম’ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে সাহিত্যে আত্মপ্রকাশ তার। গত চার দশকে তার ২৯টি বই প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ‘মেঘের প্রতিভা’, ‘উঠন্ত বৃক্ষের পত্র’, ‘বধির ব-দ্বীপ’, ‘সমুদ্রে নুনের পুতুল’।
রিফাত চৌধুরীর অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ নূরুল আলম আতিকের ‘বিজন মানুষ’ নাটক দিয়ে। তবে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ‘সিক্সটি নাইন’ ধারাবাহিকে জাতীয় কাকা চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পান। তার অভিনীত জনপ্রিয় নাটকগুলোর মধ্যে আছে- হাউসফুল, এইম ইন লাইফ, ফোর টোয়েন্টি, ক্যারম, মুড়ির টিন, বনমানুষ, বাইসাইকেল। ‘ব্যাচেলর’ ও ‘মেহেরজান’ সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন তিনি।
