Published : 26 Jul 2024, 03:27 PM
নব্বই দশকের গায়ক এবং টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাতা হাসান আবিদুর রেজা জুয়েল অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনদিন ধরে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে তাকে।
শুক্রবার এই শিল্পীর অসুস্থতার খবর গ্লিটজকে জানিয়েছেন তার মেজ ভাই মহিবুল রেজা রুবেল।
তিনি বলেন, "২৩ জুলাই সন্ধ্যার দিকে জুয়েলের শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং সেটা গুরুতর হলে দ্রুত ইউনাইটেড হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়। ডাক্তার তাকে ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রেখেছেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় সেটা শেষ হবে।"
অনেক বছর ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছেন জুয়েল। দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।
এর মধ্যে দেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে খবর আসে ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে জুয়েলকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে জুয়েলের ভাই রুবেল গ্লিটজকে বলেন, “জুয়েল ঠিক লাইফ সাপোর্টে আছে তা নয়। তার ফুসফুস কাজ না করায় কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার জন্য তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে।
“লাইট সাপোর্ট বলতে আমরা সাধারণত যেটা বুঝি রোগী কোমায় চলে যায়, বা তার শরীরের অঙ্গগুলো অকার্যকর হয়ে যায়। কিন্তু জুয়েলের শরীর রেসপন্স করছে এবং সে নিজেও একজন যোদ্ধার মত শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করছে।"
রুবেল বলেন, “দুপুরের দিকে একটা ভালো খবর পাই। জুয়েলের হৃদযন্ত্র, কিডনি ও ব্রেন কাজ করছে। ভালো আছে। তবে শারীরিক অবস্থার কথা যদি বলি, যে অবস্থায় আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি সেটাই আছে। উন্নতি হয়নি, খারাপও হয়নি। তিন দিনের পর্যবেক্ষণ শেষে হয়ত হাসপাতালে আরো দুয়েক দিন থাকতে হতে পারে। আমরা আশা করছি জুয়েল নিজে নিজে শ্বাস নিতে পারবে।"
ভাইয়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন রুবেল।
হাসান আবিদুর রেজা জুয়েলের প্রথম অ্যালবাম ‘কুয়াশা প্রহর’ প্রকাশিত হয় ১৯৯৩ সালে।
এরপর একে একে প্রকাশিত হয় ‘এক বিকেলে (১৯৯৪)’, ‘আমার আছে অন্ধকার’ (১৯৯৫), ‘একটা মানুষ’ (১৯৯৬), ‘বেশি কিছু নয়’ (১৯৯৮), ‘বেদনা শুধুই বেদনা’ (১৯৯৯), ‘ফিরতি পথে’ (২০০৩), ‘দরজা খোলা বাড়ি’ (২০০৯) এবং ‘এমন কেন হলো’ (২০১৭)।
জুয়েলের ১০টি একক অ্যালবামের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে ‘এক বিকেলে’ অ্যালবামটি। এটি প্রকাশের পর তার নাম হয়ে যায় ‘এক বিকেলের জুয়েল’।