বঙ্গবাজারের পোড়া লুঙ্গি লাখ টাকায় কিনলেন তাহসান
“লুঙ্গি কেনাটা এখানে আসলে প্রতীকী। বিদ্যানন্দ তাদের প্রচারের জন্য ছবি তুলেছে, আমিও মনে করেছি সবাইকে বিদ্যানন্দের এই সুন্দর উদ্যোগটির কথা জানানো দরকার”, বলেন তাহসান।
বঙ্গবাজারে আগুনে পোড়া একটি লুঙ্গি লাখ টাকায় কিনেছেন সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খান। সামর্থ্যবান সবাইকে বঙ্গবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানোরও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তাহসান বলেছেন, “আমরা সবাই যদি একটু একটু করেও এগিয়ে আসি, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলো হয়ত ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।”
ভয়াবহ এই আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে সামিল হয়ে তাহসান লুঙ্গিটি কেনেন।
বিদ্যানন্দ বঙ্গবাজার থেকে পুড়ে যাওয়া কাপড় সংগ্রহ করছে। সেই কাপড় পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে ব্যবহার করতে চায় তারা। সেই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সহায়তা করতে এক কোটি টাকার একটি তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে তারা।
বিদ্যানন্দ একটি স্লোগানও বেছে নিয়েছে- "বঙ্গবাজারের কাপড়ে বড় হইছি। আর তাদের বিপদে একটা কাপড় কিনতে পারব না?"
তাহসানের লুঙ্গি কেনার খবরটি জানিয়ে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের ফেইসবুক পেইজে বলা হয়েছে, “জনপ্রিয় শিল্পী তাহসান বঙ্গবাজারের পোড়া লুঙ্গির একটা কিনে নিয়েছেন এক লাখ টাকায়। যে টাকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত বিক্রেতাদের কাছে।
“অনেক তারকা ব্যক্তিত্বের অনুরোধ আসছে বিদ্যানন্দে, সবাই সংগ্রহে রাখতে চান কিছু কাপড়।”
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের হাতে এক কোটি টাকা তুলে দেওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়ে বিদ্যানন্দ লিখেছে, “আপনাদের মত অসাধারণ সাপোর্টারদের পাশাপাশি আমরা কিছু তারকা ব্যক্তিত্বকে সংযুক্ত করতে চাচ্ছি সচেতনতা বাড়াতে।”
অভিনেতা তাহসান খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি এমনিতেই এক লাখ টাকা উনাদের (বিদ্যানন্দ) পাঠাতে চেয়েছিলাম। তখন তারা বলল, ‘আপনি তাহলে আমাদের প্রথম কাস্টমার হন’। আমি তাই করলাম।”
তিনি বলেন, “লুঙ্গি কেনাটা এখানে আসলে প্রতীকী। বিদ্যানন্দ তাদের প্রচারের জন্য ছবি তুলেছে, আমিও মনে করেছি সবাইকে বিদ্যানন্দের এই সুন্দর উদ্যোগটির কথা জানানো দরকার।
“ঈদে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোর মুখে হাসি ফোটাতে চাইলে সারা বাংলাদেশের মানুষকে ঐকবদ্ধ হয়ে পাশে দাঁড়াতে হবে।”
মঙ্গলবারের আগুনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন বঙ্গবাজারের মূল মার্কেটে থাকা বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স, গুলিস্তান ইউনিট, মহানগর ইউনিট ও আদর্শ ইউনিট পুরে ভস্ম হয়ে যায়।
বঙ্গবাজারের উত্তর পশ্চিম কোণে সাততলা এনেক্সকো টাওয়ার, তার পূর্ব পাশে মহানগর কমপ্লেক্স মার্কেটও পুড়েছে। আগুন বঙ্গবাজারের পশ্চিম পাশের সড়কের অপর প্রান্তের দুটি মার্কেটেও ছড়ায়। এই কয়েকটি মার্কেট মিলিয়ে ৫ হাজারের মতো দোকান রয়েছে; পুড়েছে তার অধিকাংশ।
এতে ৫ হাজারের মতো ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে একটি হিসাব দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের উঠে দাঁড়াতে ৭০০ কোটি টাকা প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে আট সদস্যের কমিটি করেছে ডিএসসিসি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান।
বিদ্যাননন্দের উদ্যোগে যুক্ত হতে
বিকাশ (মার্চেন্ট): 01878116230 (counter no: 1), বিকাশ (ব্যক্তিগত): 01708521955 , 01708521956, নগদ (মার্চেন্ট): 01631554646 (counter no: 1), রকেট (ব্যক্তিগত): 017141180737, Biller ID 151, পেপাল - donate@bidyanondo.org
