প্রতিভার ঘাটতি থাকলেই সিনেমায় সহিংসতা ঠেসে দেয়: আমির

আমিরের ভাষ্য, “সহিংসতা এবং যৌনতা সহজে মানুষের মনোযোগ কেড়ে নেয় এবং সিনেমা হিটও হয়। কিন্তু তাতে করে সিনেমা তৈরির কারিগর এবং শিল্পীরা সমাজ এবং তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ আদর্শিক ভাবনা উপহার দিতে ব্যর্থ হন।“

গ্লিটজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 Dec 2023, 11:25 AM
Updated : 5 Dec 2023, 11:25 AM

বলিউডে ইদানিংকালের সিনেমায় ‘অ্যাকশন’ বড় জায়গা নিলেও মুক্তি পাওয়া ‘অ্যানিমাল’ অ্যাকশন ছাড়াও আলোচনায় এসেছে রক্তপাত-খুনখারাবি এবং অন্তরঙ্গ দৃশ্যের জন্য। সিনেমার গল্পের এমন উপজীব্য নিয়ে সমালোচনা করেছেন তারকা অভিনেতা আমির খান।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস লিখেছে, প্রতিভাবান নির্মাতারা সহিংসতার ওপর ভর করে সিনেমা তৈরি করেন না বলেই মনে করেন ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির।

তার ভাষ্য, “সহিংসতা এবং যৌনতা সহজে মানুষের মনোযোগ কেড়ে নেয় এবং সিনেমা হিটও হয়। কিন্তু তাতে করে সিনেমা তৈরির কারিগর এবং শিল্পীরা সমাজ এবং তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ আদর্শিক ভাবনা উপহার দিতে ব্যর্থ হন।“

গত ১ ডিসেম্বর মুক্তির পর বক্স অফিসে রমরমা ব্য্যবসা করে চলেছে সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা নির্মিত ‘অ্যানিমাল’। অনেক ব্লকবাস্টার সিনেমাকে পেছনে ফেলে দিয়েছে রাণবীর কাপুর-ববি দেওলের এই সিনেমা।

‘অ্যানিমাল’ সিনেমায় দক্ষিণী অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানার সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন রাণবীর কাপুর। খল চরিত্রে ববি দেওল এবং আরেক প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন অনিল কাপুর।

সোশাল মিডিয়ায় ‘অ্যানিমাল’ সিনেমার রক্তঝরানো মারামারির দৃশ্যের ছোট ছোট ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে দিয়ে সিনেমাটি দেখার পক্ষে চলছে প্রচার।

এর মধ্যেই আমির খানের একটি ভিডিও এসেছে সোশাল মিডিয়ায়, সেখানে তিনি সিনেমার গল্পের কাঙ্ক্ষিত ধরন এবং সিনেমার সঙ্গে জড়িতদের দায়দায়িত্ব নিয়ে নিজস্ব মতামত তুলে ধরেছেন।

‘লগন’, ‘রং দে বাসন্তি’, ‘তারে জামিন পার’, ‘থ্রি ইডিয়টস’, ‘পিকে’র মত ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দেওয়া আমির খান বলেন, “যেসব পরিচালকের প্রতিভার ঘাটতি আছে, তারা সিনেমা হিট করতে সহিংসতাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। কিছু বিষয় আছে যা দিয়ে সহজে মানুষের চোখ মনোযোগ ধরে রাখা যায়। তারমধ্যে দুটি হল সহিংসতা এবং যৌনতা। যারা মেধা খাটানোর ধার ধারেন না, তারা যে কোনো গল্পে এই দুটো বিষয় ঢুকিয়ে দর্শক মাতাতে চান। কারণ তাদের গল্প বলার যোগ্যতা নেই। “

আমির মনে করেন, সিনেমা হিট করানোর এই পদ্ধতি ভুল। হতে পারে এসব করে সিনেমা জনপ্রিয় হল, সেইসঙ্গে সমাজের কাছে ভুল বার্তাও পৌঁছে দেওয়া হয়।

আমিরের ভাষ্য, “সিনেমার প্রযোজক-নির্মাতা-অভিনয় শিল্পীদের নৈতিক দায়িত্ব আছে। আমরা যখন কোনো সিনেমা বানাই, আমাদের প্রথমে মনে রাখতে হবে অল্প বয়সী দর্শকদের কথা। তারা যেন ভুল কোনো বার্তা না পায় সেটা মাথায় রাখতে হবে।“

তবে সিনেমার প্রয়োজনে অ্যাকশনও দরকার আছে বলে মনে করেন আমির। তবে সেই অ্যাকশন দৃশ্য যেন অসঙ্গতিপূর্ণ না হয়, মাত্রা ছাড়িয়ে না যায়, সেটাও সিনেমা সংশ্লিষ্টদের মাথায় রাখার তাগিদ দিয়েছেন কয়েক প্রজন্মের দর্শক ধরে রাখা এই অভিনেতা।