আমার গান ভালো না লাগলে শুনবেন না, কেন বললন সেলেনা গোমেজ
তিনি নিকোটিন নেওয়া ‘পুরোপুরি বন্ধ করেছেন’।
ভেপিং ছেড়ে দিলেও বিরাট ক্ষতি হয়ে গেছে মার্কিন গায়িকা ও অভিনেত্রী সেলেনা গোমেজের। প্রচুর নিকোটিন ভেপ করার কারণে কণ্ঠ বদলে গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বিবিসি জানিয়েছে, ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিওতে ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, "আমি হয়ত আর আগের গলার স্বরে ফিরতে পারব না। আমি প্রচুর নিকোটিন ভেপ করেছি।"
ভেপিংয়ের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে অনুরাগীদের সতর্ক করেছেন তিনি।
সেলেনা বলেন, "নিকোটিন ছাড়া খুব কঠিন। আপনারা যদি এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যান কিংবা ভেপ নেওয়ার কথা ভাবেন, তবে বলব, এতে কোনো লাভ নেই।
"এটা ভীষণ বোকামি; এটি আমার কণ্ঠ বদলে দিয়েছে।”
হাসতে হাসতে সেলেনা আরও বলেন, "আমার এই কণ্ঠ যদি আপনাদের অপছন্দ হয়, সেটা স্বাভাবিক। আমি কিছু মনে করব না, স্রেফ শুনবেন না।"
দীর্ঘদিন ধরে অটোইমিউন রোগ লুপাসেতে ভুগছেন ‘অনলি মার্ডারস ইন দ্য বিল্ডিং’ তারকা। এর আগেও এই রোগের কারণে তার স্বরতন্ত্রী (ভোকাল কর্ড) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি।
গত ডিসেম্বরে ইনস্টাগ্রামের প্রশ্নোত্তর পর্বে কণ্ঠ নিয়ে এক প্রশ্নে সেলেনা বলেন, "মাঝেমধ্যে এমনটা হয়। কিছুটা অদ্ভুত লাগে, কখনো গলার ভেতরটা ফুলে ওঠে। এটুকুই।"
চিকিৎসকদের মতে, লুপাসের তীব্রতায় ল্যারিংসের (ভয়েসবক্স) আশপাশে প্রদাহ হতে পারে। এতে কণ্ঠ কর্কশ বা ভারী হয়ে যায়, যার উপসর্গ অনেকটা সাধারণ সর্দির মত।
পাশাপাশি বয়সের সঙ্গে স্বাভাবিক নিয়মেই সেলেনার কণ্ঠ খানিকটা ভারী হয়েছে। তবে ভক্তদের একাংশ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন; ইউটিউবে তার কথা বলার ধরনের পরিবর্তন নিয়ে একাধিক ভিডিও ক্লিপও প্রকাশ পেয়েছে।
ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা ভিডিওতে সেলেনা জানান, সম্প্রতি তিনি নিকোটিন নেওয়া ‘পুরোপুরি বন্ধ করেছেন’।
তিনি বলেন, "আমি সত্যিই আনন্দিত যে এটা ছাড়তে পেরেছি। আশা করি এভাবেই চালিয়ে নিতে পারব। কাজটা অনেক কঠিন, তবে আপনি কোনো খারাপ অভ্যাসের ভেতর দিয়ে গেলে চেষ্টা করলেই তা কাটিয়ে উঠতে পারবেন।"
এদিকে ভেপিংয়ের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার প্রমাণ মিলছে। চিকিৎসকদের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্বাসকষ্ট, কাশি, দাঁতের ক্ষয়, অনিদ্রা, মানসিক জটিলতা এমনকি চোখের সমস্যার সঙ্গেও ভেপিংয়ের যোগসূত্র রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ (এনএইচএস) জানিয়েছে, ভেপিং একেবারেই ঝুঁকিমুক্ত নয়।
এতে থাকা নিকোটিন তীব্র আসক্তি তৈরি করে। তাই শিশু-কিশোর ও অধূমপায়ীদের এটি শুরু না করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। তবে প্রচলিত ধূমপান ছাড়ার ক্ষেত্রে এটিকে একটি কার্যকর বিকল্প মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
