Published : 08 Jul 2025, 12:23 AM
সরকার বিদায়ী অর্থবছরের জন্য সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের তালিকা প্রকাশের পর থেকেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
অভিযোগ উঠেছে, মন্ত্রণালয়ের চলচ্চিত্র বিষয়ক বিভিন্ন কমিটির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনও এবার অনুদান পেয়েছেন; যা ‘স্বার্থের সংঘাত বা কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ বলে মনে করছেন কেউ কেউ।
এছাড়া অনুদান কমিটির অন্তত তিনজন সদস্যের বিভিন্ন সময়ে পদত্যাগ, আমলানির্ভর অনুদান কমিটি এবং এক দিনে ৯৫জন আবেদনকারীর পিচিং বা সাক্ষাৎকারের ঘটনা অনুদান প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে মনে করেন অনেকে।
‘মুক্তিযুদ্ধ ক্যাটাগরি’ এবার অনুদান থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে অনুদান কমিটির একজন সদস্য বলেছেন, এবার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোনো সিনেমার আবেদনই জমা পড়েনি।
অনুদান কমিটির সদস্য এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ‘শতভাগ স্বচ্ছতার মধ্য দিয়েই’ এবার অনুদান দেওয়া হয়েছে।
গত ১ জুলাই মধ্যরাতে দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে অনুদানপ্রাপ্ত প্রযোজকদের নাম ঘোষণা করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
সদ্যবিদায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকার ৯ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে, যা পাবেন ৩২টি চলচ্চিত্রের জন্য নির্মাতারা। এর মধ্যে ১২টি পূর্ণদৈর্ঘ্য এবং ২০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।
মন্ত্রণালয় বলেছে, পূর্ণদৈর্ঘ্য ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকারি অনুদান প্রদান নীতিমালা, ২০২৫ মেনেই অনুদানের জন্য চলচ্চিত্র নির্বাচন করা হয়েছে।
“এই নীতিমালার আলোকে গঠিত 'পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বাছাই ও তত্ত্বাবধান কমিটি' এবং 'স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বাছাই ও তত্ত্বাবধান কমিটি' সরকারি অনুদানে চলচ্চিত্র নির্মাণের আবেদন যাচাই-বাছাইপূর্বক সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রস্তুত করে।
“এই দুই কমিটি ছিল ১১ সদস্যবিশিষ্ট, যেখানে চলচ্চিত্র সম্পর্কে অভিজ্ঞ পাঁচ জন ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। চলচ্চিত্র বাছাই ও তত্ত্বাবধান কমিটি কর্তৃক বাছাইকৃত গল্প/চিত্রনাট্য এবং আবেদন অনুদান কমিটি মূল্যায়ন করেছে।”
নীতিমালা অনুযায়ী, অনুদান দেওয়ার জন্য পূর্ণদৈর্ঘ্য ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্বাচনের লক্ষ্যে দুটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়। উভয় কমিটি ছিল নয় সদস্যবিশিষ্ট, যেখানে ‘চলচ্চিত্র বিষয়ে অভিজ্ঞ’ চার জন ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
কমিটির প্রত্যেক সদস্য অনুদানের জন্য আবেদন করা চলচ্চিত্রের গল্প/চিত্রনাট্য মূল্যায়ন করে আলাদাভাবে নম্বর দেন।
“কমিটির সকল সদস্যের মূল্যায়নকৃত নম্বরের যোগফলের ভিত্তিতে অনুদানের জন্য চলচ্চিত্র বাছাই করা হয়। অনুদান কমিটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে অনুদানের জন্য চলচ্চিত্র বাছাই করেছে,” বলছে মন্ত্রণালয়।
পূর্ণদৈর্ঘ্য এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অনুদান কমিটির সদস্যদের ‘সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে’ এ অনুদান দেওয়ার কথা বলা হয়েছে সরকারের তরফ থেকে।
প্রতিটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য অনুদান দেওয়া হবে ৭৫ লাখ টাকা এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণকারী পাবেন ২০ লাখ টাকা।
তিন সদস্যের পদত্যাগ
গত বছরের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অনুদান দেওয়ার জন্য কমিটি চূড়ান্ত করে অন্তর্বর্তী সরকার। রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের সভাপতি এবং ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামালের মত অভিজ্ঞদেরও যুক্ত করা হয় কমিটিতে, যিনি পঞ্চমবারের মত এই কমিটিতে আছেন।
কমিটির সদস্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবুল বাশার মো. জিয়াউল হকের (তিতাস জিয়া) পাশাপাশি অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মমকেও রাখা হয়।
এছাড়া চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজক খান শারফুদ্দীন মোহাম্মদ আকরাম (আকরাম খান), চলচ্চিত্র নির্মাতা ও চিত্রনাট্যকার নার্গিস আখতার, নির্মাতা ও সম্পাদক সামির আহমেদকেও কমিটিতে রাখা হয়।
তবে অনুদান ঘোষণার পর জানা যায়, আহমেদ মুজতবা জামাল, জাকিয়া বারী মম ও তিতাস জিয়া আরো আগেই পদত্যাগ করেছেন। তাহলে কীভাবে অনুদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হল–সেই প্রশ্ন ওঠে।
আহমেদ মুজতবা জামাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, তিনি অক্টোবরে কমিটি ঘোষণার পর মাস দেড়েক ছিলেন। বর্তমান অনুদান প্রক্রিয়ার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
আর তিতাস জিয়া বলেছেন, তিনি দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করে গত ১০ ফেব্রুয়ারি অব্যহতিপত্র দিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে।
জাকিয়া বারী মম বলেছেন, ‘ব্যক্তিগত কারণে’ তিনি গত ২৫ মে পদত্যাগ করেছেন।
তারা কেউই মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি। তবে তাদের পদত্যাগের ঘটনা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছেন, তিনজন সদস্যের পদত্যাগের ঘটনার পর মন্ত্রণালয় নজরুল ইন্সটিটিউটের নির্বাহী পরিচালক লতিফুল ইসলাম শিবলী এবং ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি) এর মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইমরান ফিরদাউসকে অনুদান কমিটিতে যুক্ত করে।

একদিনে ৯৫ পিচিং!
সরকারি অনুদানের চলচ্চিত্রের জন্য চিত্রনাট্য জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল এপ্রিলের শেষে। এবার পূর্ণদৈর্ঘ্য শাখায় ১৮৯টি এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য শাখায় ১৪০টি আবেদন জমা পড়ে। সেখান থেকে ৯৫টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়।
গত ২৯ জুন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের ৯৫টি চিত্রনাট্য নিয়ে প্রার্থীরা পিচিং প্রেজেন্টেশন বা সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণ করেন বলে ওই দিনই এক ফেইসবুক পোস্টে জানান লতিফুল ইসলাম শিবলী।
নজরুল ইন্সটিটিউটের নির্বাহী পরিচালকের পোস্টেই একদিনে ৯৫ জন আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার নেওয়ার ঘটনাটি সামনে আসে।
শিবলী ফেইসবুকে লেখেন, “সকাল ১১টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়।”
অনুদান তালিকা ঘোষণার আগেই শিবলী দাবি করেন, “শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে এবং কোনো ধরণের পক্ষপাতিত্ব ও সুপারিশ ছাড়াই যোগ্য ব্যক্তিরা এবার রাষ্ট্রীয় অনুদান পাবেন।”
শিবলীর ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরেই সমালোচনা করেন কেউ কেউ। প্রশ্ন ওঠে একদিনে ৯৫ জন আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার কীভাবে করা হল?
পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অনুদানের জন্য আবেদন করেছিলেন ‘কুড়া পক্ষীর শূন্যে উড়া’ সিনেমা দিয়ে খ্যাতি পাওয়া নির্মাতা মুহাম্মদ কাইউম।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “একদিনে ৯৫জনের সাক্ষাৎকার নেওয়ার বিরল ঘটনার পরও কীভাবে অনুদান প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হয়? আমি যে প্রেজেন্টেশন নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলাম, তা তো ঠিকমত তুলে ধরতেই পারিনি।
সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এই নির্মাতা বলেন, “আমাকে আগেই বলা হয়েছে, সময় ৫ মিনিট। আমি যেন পাওয়ার পয়েন্টে প্রেজেন্টেশন নিয়ে উপস্থিত থাকি। সেখানে যাওয়ার পর আমাকে প্রথমেই একজন বললেন, সিনেমার কাহিনীটা শোনান। আমি বললাম, কাহিনী সংক্ষেপ তো আবেদনের সঙ্গেই লিখে দিয়েছি। এখন কাহিনী বললে তো ৫ মিনিটে হবে না।
“আমার প্রেজেন্টেশনে ৩২টা স্লাইড ছিল, তারা টেনে টেনে দেখে ফেললেন। আমি যে প্রেজেন্টেশন নিয়ে উপস্থিত হলাম, তা তো তারা দেখতেই পারলেন না। হুট করে শুনি সময় শেষ।”
আবেদনকারীদের মধ্যে যাদের সঙ্গে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কথা হয়েছে, তাদের অন্তত পাঁচজন ‘সাক্ষাৎকার পর্ব স্বচ্ছ হয়নি’ বলে অভিযোগ করেছেন।
একদিনে ৯৫ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়ার পর অনুদান প্রক্রিয়া কীভাবে স্বচ্ছ হতে পারে–সেই প্রশ্ন তারা তুলেছেন।
সাক্ষাৎকার গ্রহণের জন্য ৫ মিনিট যথেষ্ট সময় ছিল কিনা জানতে চাইলে অনুদান কমিটির সদস্য আকরাম খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সময়টা যথেষ্ট হয়নি, তবে আমরা অতিরিক্ত পরিশ্রম করে কাভার করার চেষ্টা করেছি। আমাদের তাড়াহুড়ো করতে হয়েছে, তবে স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল না।”
তার ভাষ্য, “আমরা চেষ্টা করেছি শতভাগ স্বচ্ছ থেকে অনুদানপ্রাপ্তদের নাম চূড়ান্ত করতে। এবার বাছাই কমিটি পেরিয়ে অনুদান কমিটির হাতে এসেছে ৯৫টা সিনেমা। সেখানে থেকে যে ১২টি সিনেমাকে অনুদানের জন্য মনোনীত করা হয়েছে, তা আমার দিক থেকে বলতে পারি শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে করেছি।
“যারা পাননি তাদের তো মন খারাপ হতেই পারে। আর সবাইকে তো একসঙ্গে দেওয়া সম্ভবও নয়। ফলে সব সময় অনুদানের পর এরকম বিতর্ক হবেই।”
অনুদান প্রক্রিয়ায় কিছু ত্রুটির কথা স্বীকার করে আকরাম খান বলেন, “আমাদের হাতে সময় ছিল কম। যার জন্য অল্প সময়ে আমরা রাত-দিন কষ্ট করে কাজটি শেষ করেছি। কোনো স্বজনপ্রীতি বা দুর্নীতি হয়নি, এটা বলতে পারি। ভবিষ্যতে আগে থেকেই পরিকল্পনা করা উচিত, যেন এমন তাড়াহুড়ো করতে না হয়।”
জবাবদিহিতা চেয়ে প্রতিবাদ
সরকারি চলচ্চিত্র অনুদান প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে গত ৪ জুলাই বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম্যাপ।
তারা বলেছে, “জনগণের করের টাকায় পরিচালিত সরকারি চলচ্চিত্র অনুদান প্রক্রিয়াকে ঘিরে সম্প্রতি ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। আমরা মনে করি, এই প্রক্রিয়াটি অবশ্যই স্বচ্ছ, জবাবদিহিতামূলক এবং পক্ষপাতহীন হতে হবে।”
জুরিবোর্ডসহ সকল কমিটিতে ‘আমলাদের আধিক্য’ থাকায় সংশ্লিষ্ট চলচ্চিত্র বোর্ডের সদস্যরা ‘কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন না’ বলেও অভিযোগ তোলা হয় বিবৃতিতে।
সেখানে কয়েকটি সুপারিশও করা হয়েছে।
• শর্টলিস্ট থেকে চূড়ান্ত অনুদানপ্রাপ্তদের নম্বরসহ প্রতিটি ধাপে সকল ধরনের (চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিচারক ও আমলা বিচারক) বিচারকদের প্রদত্ত নম্বর জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।
• প্রযোজক/পরিচালকদের জন্য একটি কাঠামোগত আপিল প্রক্রিয়া রাখতে হবে, যেখানে তারা প্রাপ্ত নম্বর বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ পাবেন এবং এর জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকতে হবে।
• যারা সরকারি চলচ্চিত্র সংক্রান্ত কমিটির (যেমন: সার্চ কমিটি, জুরি, বা অ্যাডভাইজরি বোর্ড) দায়িত্বে থাকবেন, তাদের কোনোভাবেই একই অর্থবছরে অনুদানের জন্য আবেদন বা প্রাপ্তির সুযোগ থাকা উচিত নয়। তাদের নিকটজনেরাও ওই একই সময়ে অনুদানপ্রাপ্ত হতে পারবেন না বিষয়ক বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
• চূড়ান্ত নম্বরের মানদণ্ড কী ছিল, তা স্পষ্টভাবে জানানো হোক। প্রস্তাব, পূর্ব অভিজ্ঞতা, নাকি কেবল কয়েক মিনিটের পিচিং—কোন ভিত্তিতে কাকে কত নম্বর দেওয়া হলো, তা স্পষ্ট করা জরুরি।
• জুরিবোর্ডসহ সকল কমিটিতে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আধিক্য থাকতে হবে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরের অনুদানের প্রাপ্ত স্কোর পাবলিকলি উন্মুক্ত করতে হবে।
চলচ্চিত্র নির্মাতা নূরুল আলম আতিকসহ অনেকেই ফেইসবুকে পোস্ট লিখে অনুদান প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।


অনুদান কমিটি ও মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (চলচ্চিত্র-২) মোছা. শারমিন আখতারের সই করা প্রজ্ঞাপনেই এ বছর অনুদানপ্রাপ্তদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
অনুদান নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে জানতে শারমিন আখতারকে ফোন করা হলে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি এ বিষয়ে কথা বলার জন্য যথাযথ ব্যক্তি নই। আপনি ঊর্ধ্বতন কারো সঙ্গে কথা বলুন।”
পরে মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানাকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে এখন কথা বলতে পারব না।”
উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকে ফোন করা তিনি ধরেননি। তবে রোববার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগে যোগাযোগ করে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি লিখিত বক্তব্য পাওয়া যায়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিনেমা নির্মাণের জন্য অনুদানপ্রাপ্ত মো. আবিদ মল্লিককে চলচ্চিত্র অনুদান উপকমিটির সদস্য বলা হলেও মন্ত্রণালয় বলছে, “পূর্ণদৈর্ঘ্য/স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকারি অনুদান প্রদান নীতিমালা, ২০২৫-এ 'চলচ্চিত্র অনুদান উপকমিটি' নামে কোনো কমিটি নেই।”
অভিযোগ উঠেছে, তথ্য মন্ত্রণালয় সংস্কারে গঠিত সার্চ কমিটির সদস্য মোহাম্মদ সাইদুল আলম খান চলচ্চিত্রের প্রযোজক হিসেবে এবার অনুদানের জন্য মনোনীত হয়েছেন।
এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় বলছে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের গঠিত সার্চ কমিটির মেয়াদ কয়েক মাস আগেই শেষ হয়েছে। ফলে তার অনুদান পেতে কোনো বাধা নেই।
সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হচ্ছে চলচ্চিত্রবিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটি এবং চলচ্চিত্র অনুদান স্ক্রিপ্ট বাছাই কমিটির সদস্য সাদিয়া খালিদ রীতির অনুদান পাওয়া নিয়ে। অনুদান বাছাই কমিটিতে থেকেও তিনি কীভাবে অনুদান পেলেন, তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন।
এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, সাদিয়া খালিদ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকারি অনুদানের জন্য আবেদন করেছিলেন। তিনি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বাছাই ও তত্ত্বাবধান কমিটিতে ছিলেন না।
তিনি ছিলেন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বাছাই ও তত্ত্বাবধান কমিটির সদস্য। তার ক্ষেত্রে ‘স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি প্রযোজ্য হবে না’ বলে মনে করছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় বলছে, “অন্য কোনো কমিটির সদস্য চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকারি অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন না-এমন কোনো বিষয় 'পূর্ণদৈর্ঘ্য/স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকারি অনুদান প্রদান নীতিমালা, ২০২৫'-এর কোথাও উল্লেখ নেই।”
অনুদান কমিটির সদস্য আকরাম খান বলেন, “আইনগত দিক থেকে তো তাকে দিতে কোনো বাধা নেই। তবে নৈতিক দিক থেকে প্রশ্ন উঠতেই পারে।”
মন্ত্রণালয়ের অন্য কমিটিতে থেকেও আবেদন করতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে আরও স্পষ্ট হওয়া উচিত বলে মনে করেন আকরাম খান। এ বিষয়ে ভবিষ্যতে নীতিমালা সংস্কারের পরামর্শ দেন তিনি।
এবার অনুদান প্রক্রিয়া থেকে মুক্তিযুদ্ধ ক্যাটাগরি বাদ দেওয়া হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন।
এ বিষয়ে আকরাম খান বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা অনুদান পায়নি বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা ঠিক নয়। অনুদান পাওয়া একাধিক সিনেমায় নানাভাবে মুক্তিযুদ্ধের বিষয়টি আছে।”
আর সরাসরি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমার কোনো আবেদনও জমা পড়েনি বলে তার ভাষ্য।
তিনি বলছেন, জুলাইকেন্দ্রিক যে সিনেমার আবেদন জমা পড়েছে, সেখানেও মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গ এসেছে।
আগের খবর