Published : 18 Mar 2024, 02:27 PM
তথ্যচিত্র, সিরিজসহ আরও কিছু কাজ হাতে নিয়েছিলেন হলিউডের অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র ‘দ্য কিংস স্পিচ’ এর চিত্রনাট্যকার ডেভিড সেইডলার। সেসব কাজ অনেকটা এগিয়ে নিয়েও শেষ করার সময় পেলেন না তিনি।
বিবিসি জানিয়েছে, ৮৭ বছর বয়সী সেইডলার মারা গেছেন শনিবার।
রাজা ষষ্ঠ জর্জ কীভাবে তার তোতলামো কাটিয়ে উঠেছিলেন, সেই সত্য কাহিনী বড় পর্দায় তুলে আনতে একটি চিত্রনাট্য লিখেছিলেন লন্ডনে জন্ম নেওয়া ডেভিড সেইডলার। সেই চিত্রনাট্যের সিনেমা ‘দ্য কিংস স্পিচ’ কুড়ায় দারুণ প্রশংসা। সিনেমাটি অ্যাকাডেমি আওয়ার্ডস জিতে নেয় ২০১১ সালে। তোতলা রাজার গল্প লিখে সেইডলারের হাতে ওঠে সেরা চিত্রনাট্যকারের অস্কার।
সেইডলারের মৃত্যুর খবর সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তার ম্যানেজার জেফ আগাসি।
এই চিত্রনাট্যকার ইদানিং পুনর্জন্ম নিয়ে ভাবছিলেন জানিয়ে আগাসি বলেন, “সেইডলারকে তার সবচেয়ে পছন্দের জায়গা নিউ জিল্যান্ডে শায়িত করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, তিনি শান্তিতে আছেন। তার আগামী যাত্রা হবে তার চিত্রনাট্যের মতই সুন্দর, মায়াময়।“
বয়স হলেও সেইডলার কাজে সক্রিয় ছিলেন।
আগাসি বলেন, এই চিত্রনাট্যকারের হাতে তথ্যচিত্র, সিরিজসহ কয়েকটি কাজ ছিল। সেগুলোর কোনোটি প্রায় শেষ করে এনেছিলেন, কোনোটি আবার সবে হাতে নিয়েছিলেন।
সেইডলারের জন্ম ১৯৩৭ সালে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর দিকে তার পরিবার চলে যায় যুক্তরাষ্ট্রে। নিউ ইয়র্কের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি পড়ালেখা করেন। মার্কিন লেখক টমাস পিনচনের কাছের বন্ধু ছিলেন সেইডলার।
১৯৬০ সালে ক্যারিয়ার শুরু করেন সেইডলার। তখন তিনি টেলিভিশন সিরিজের স্ক্রিপ্ট লিখতেন। প্রথমদিকে প্রচুর জাপানি সিনেমা-সিরিজও অনুবাদ করেছেন। শিশুদের জন্য নির্মিত অ্যানিমেটেড সিরিজ ও সিনেমার চিত্রনাট্যেও সেইডলারকে পাওয়া যায়।
১৯৮৮ সালে ‘ওনাসিস: দ্য রিচেস্ট ম্যান ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ সিনেমার চিত্রনাট্য লিখে ‘রাইটার্স গিল্ড’ পুরস্কার পেয়েছিলেন সেইডলার। ১৯৮৮ সালে কমেডি ড্রামা ‘টাকার: দ্য ম্যান অ্যান্ড হিজ ড্রিম’ লিখে পরিচিতি পান। তবে তার খ্যাতি ছড়ায় ‘দ্য কিংস স্পিচ’ এর চিত্রনাট্য লিখে।
ক্যারিয়ারে দুবার বাফটা পুরস্কার পাওয়া সেইডলার ২০১১ সালে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ‘দ্য কিংস স্পিচ’ নিয়ে বলেন, “এমন কিছুই করিনি। রাজার জায়গায় নিজেকে বসিয়ে তার পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেছি।“
‘দ্য কিংস স্পিচ’ এর চিত্রনাট্য ইতালীয়, জাপানি, স্প্যানিশসহ আধডজনের বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।