সেই বিজ্ঞাপনেই মিলেছে পাত্র, মেয়ের বিয়ে দিলেন পি সি সরকার
“কাগজে পাত্রপাত্রীর বিজ্ঞাপনে যেদিন থেকে নির্দিষ্ট বর্ণ বা জাতের উল্লেখ করে পাত্রপাত্রী খোঁজা বন্ধ হবে, সেদিনই বোঝা যাবে, সমাজ বদলেছে।”
ভারতের জাদুশিল্পী পি সি সরকার জুনিয়র তার তিন মেয়ের জন্য পাত্র খুঁজতে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে শোরগোল তুলেছিলেন গেল বছর। সেই কাজে সফলতা এসেছে। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেই এক মেয়ের জন্য পাত্র খুঁজে পেয়েছেন পি সি সরকার।
আর সেই পাত্রের সঙ্গে মেজ মেয়ে মৌবনী সরকারের বিয়েও দিয়েছেন তিনি।
পি সি সরকারের তিন মেয়ে। তারা হলেন মানেকা সরকার, মৌবনী সরকার ও মমতাজ সরকার; তাদের কেউ আছেন অভিনয়ে আবার কেউ ঠাকুরদা ও বাবার পথ ধরে জাদুও দেখান।
বড় মেয়ে মানেকা ও ছোট মেয়ে মমতাজের জন্য এখনও সুপাত্রের সন্ধানে আছেন জাদুশিল্পী ও তার স্ত্রী জয়শ্রী সরকার। কিন্তু তাতে নানা ধরনের বাধা আসছে বলে কলকাতার বাংলা দৈনিক আনন্দবাজারকে জানিয়েছেন পি সি সরকার।
তিনি বলেন, “বলতেও লজ্জা বোধ হচ্ছে! আধুনিক মানুষ, শিক্ষিত হয়েছি। কিন্তু এখনও সেই জাত-ধর্ম-বর্ণ নিয়ে পড়ে আছি! আমার ম্যাজিকের মধ্যে দিয়ে যেমন নিজেকে প্রকাশ করি, আমি চাই সমাজেও ম্যাজিক ঘটুক।’’
মেয়েদের ‘বিবাহ অভিযানে’ নেমে জাদুশিল্পীর ভাষ্য, “কাগজে পাত্রপাত্রীর বিজ্ঞাপনে যেদিন থেকে নির্দিষ্ট বর্ণ বা জাতের উল্লেখ করে পাত্রপাত্রী খোঁজা বন্ধ হবে, সেদিনই বোঝা যাবে, সমাজ বদলেছে।”
পিসি সরকার আরও বলেন, “এই জাতপাতের সমস্যাটা শুধু আমাদের মেয়েদের পাত্র খুঁজতে গিয়ে নয়, আমার বাবাকেও এই সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল। অনেকেই সেই সময় বাবাকে বলেছিলেন, সরকার পদবি বলে আমরা নাকি অনেকের থেকে নিচু। আমি তো বুঝতেই পারি না আসলে কে উঁচু কিংবা নিচু। যদিও আমাদের পদবি আসলে ‘দেব সরকার’। জমিদারি পাওয়ার দরুণ এই ‘দেব সরকার’ পাওয়া। কিন্তু আমরা সে সব নিয়ে বড়াই করি না। আসলে আমরা সঠিক মানুষটা চাই।’’
জাদুশিল্পীর ভাষ্য, ধর্ম-জাতির ভেদাভেদ মানে না সরকার পরিবার। মেয়েদের জন্য কাঙ্ক্ষিত সুপাত্র তাদের নিজেদের ধর্মের মানুষ হতে পারেন, অন্য যে কোনও ধর্মেরও হতে পারেন।
পাত্র খুঁজতে কাগজে দেওয়া বিজ্ঞাপনে জাদুকর পি সি সরকার জুনিয়র লিখেছিলেন, “জাদুশিল্পী পি সি সরকার জুনিয়র এবং জয়শ্রী সরকারের কন্যাদের জন্য জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ৩৮-৪৫ উপযুক্ত, সুদর্শন, দীর্ঘাঙ্গ, সুপ্রতিষ্ঠিত পাত্র চাই।’’
এই বিজ্ঞাপন দিয়ে একসঙ্গে তিন মেয়ের জন্য পাত্র খুঁজতে শুরু করে সরকার পরিবার। তা নিয়েই হইচই পড়ে যায়।
পি সি সরকার বলেছেন, মেজ মেয়ের জন্য পাত্র পছন্দ হওয়ার পরে প্রথমেই বিয়ে দিয়ে দেওয়ার পক্ষে তিনি ছিলেন না। বরং সময় নিয়ে হবু জামাইকে চেনাজানার পরামর্শ দিয়েছিলেন মেয়েকে। দুপক্ষের একে অপরকে পছন্দ করার পর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয় দুই পরিবার।
যদিও পাত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রথম পর্যায়ের বাছাইটা করেন জাদুশিল্পীর স্ত্রী জয়শ্রী। সেখান থেকে যায় মেয়েদের কাছে। তারপর মূল সিদ্ধান্ত নেন পি সি সরকার।
পি সি সরকার বললেন, “আমার ছোট মেয়ে মমতাজ় বেশ লম্বা, আর বাঙালি ছেলেরা সাধারণত আমার উচ্চতার হয়। তাই কিছু পাত্র পছন্দ হলেও উচ্চতা নিয়ে একটা সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি ও ভীষণ স্পষ্টবাদী। তাই পাত্রকে তেমনই হতে হবে। অন্য দিকে, আমার বড় মেয়ের বৌদ্ধাঙ্কের পরিমাপ অনেকটা বেশি এবং অসম্ভব যুক্তিবাদী, তবে ঈশ্বরবিশ্বাসী মানুষ। আসলে একটা সচেতন মানুষ চাই, নয়তো ইট-কাঠ, পাথরকে মানুষ বিয়ে করতে পারত। আমি তো অন্য ধর্মের ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি। কিন্তু আমরা আরও একটু দেখে নিতে চাই।’’
তবে মেজ মেয়ের বিয়ে দেওয়ায় সরকার পরিবার খুশি। আপাতত বাকি দুই মেয়ের জন্য তেমনই পাত্রের সন্ধান অব্যাহত রাখছেন তারা। পাত্রের সন্ধান মিললে ফের বাড়িতে সানাই বাজবে বলে জানিয়েছে জাদুশিল্পী।
