Published : 08 Mar 2026, 11:58 PM
ভারতের জ্বালানি কেনাকাটায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘নাক গলানোয়’ ক্ষেপেছেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে নাম লেখানো কমল হাসান।
ভারত যে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ, সেটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশে কড়া ভাষায় লেখা এক খোলা চিঠিতে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন।
তার দেশের জ্বালানি কেনার বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন কমল হাসান।
সরাসরি ট্রাম্পকে লেখা চিঠিটি কমল পোস্ট করেছেন এক্সে।
বার্তায় তিনি লিখেছেন, ভারত স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ, যার কোনো বিদেশি সরকারের নির্দেশ মানার প্রয়োজন হয় না।
“আমরা, ভারতের জনগণ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতি। আমরা বিদেশিদের নির্দেশ মেনে চলি না।”
ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে কমল হাসান আরও লিখেছেন, “দয়া করে আপনি যথাসাধ্য নিজের কাজে মনোযোগ দিন। সার্বভৌম দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাই স্থায়ী বিশ্ব শান্তির একমাত্র ভিত্তি।”
তিনি যুক্তরাষ্ট্র এবং দেশটির নাগরিকদের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বার্তা চিঠি শেষ করেছেন।
আর চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন ‘একজন গর্বিত ভারতীয় নাগরিক’ এবং রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার ভারতীয় শোধনাগারগুলোকে রাশিয়া থেকে জ্বালানি কিনতে ৩০ দিনের অস্থায়ী ছাড় ঘোষণা করার পরে এই মন্তব্য করেছেন কমল হাসান।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের জারি করা ছাড়ের ঘোষণাটি ৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংকটের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এমন অবস্থায় ভারতীয় শোধনাগারগুলো যেন আটকে থাকা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করতে পারে, সেজন্য এই ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
কমল হাসান এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছেন, ভারতের জ্বালানি এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বহিরাগত প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণা ভারতে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি এই ছাড়কে একটি কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা সংকটের সময় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরবে।
অন্যদিকে বিরোধী দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস বলছে, জ্বালানি আমদানির জন্য ভারতের অন্য দেশের অনুমতির প্রয়োজন হওয়া উচিত নয়।