প্রামাণ্যকার পর্ষদের দুই দিনের আয়োজন
প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণে বিশেষ অবদানের জন্য চিত্রগ্রাহক ও শিক্ষক মো. মকসুদুল বারীকে আজীবন সম্মাননা দেবে প্রামাণ্যকার পর্ষদ।
প্রামাণ্যচিত্র পুরস্কার বিতরণী উপলক্ষে দুই দিনের বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে প্রামাণ্যকার পর্ষদ।
আগামী ১৭ ও ১৮ মার্চ ঢাকার ছায়ানট সংস্কৃতি ভবন মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান হবে।
প্রথম দিনের আয়োজনে শুক্রবার বিকাল ৫টায় চলচ্চিত্রাচার্য আলমগীর কবির প্রামাণ্যচিত্র পুরস্কার ২০২২ এবং চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ প্রামাণ্যচিত্র পুরস্কার ২০২২ দেওয়া হবে।
পাশাপাশি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণে বিশেষ অবদানের জন্য চিত্রগ্রাহক ও শিক্ষক মো. মকসুদুল বারীকে আজীবন সম্মাননা দেবে প্রামাণ্যকার পর্ষদ।
এ আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চলচ্চিত্রকার মোরশেদুল ইসলাম। সেদিন থাকবে শায়ান এর গান। এছাড়া পুরস্কৃত প্রামাণ্যচিত্রগুলোর প্রদর্শনীও হবে।
এরপর শনিবার বেলা ১১টায় থাকবে নির্বাচিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী। বিকাল ৩টায় ‘বাংলাদেশে প্রামাণ্যচিত্র চর্চার প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা হবে এবং নির্বাচিত প্রামাণ্যচিত্রের প্রদর্শনী হবে।
বিকাল ৫টায় ব্রাত্য আমিন নির্মিত ‘কোম্পানিদেশ’ প্রামাণ্যচিত্রের উদ্বোধনী প্রদর্শনী হবে। সৌম্য সরকার ও ব্রাত্য আমিনের যৌথ চিত্রনাট্যে ৩২ মিনিট দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে। সেদিন সন্ধ্যা ৭টায় থাকবে নির্বাচিত প্রামাণ্যচিত্রের প্রদর্শনী।
চলচ্চিত্রকার ব্রাত্য আমিন তার নিজস্ব অভিজ্ঞতার আলোকে রূপগঞ্জ থানার মানুষের নিজের ভুবন ‘হারিয়ে ফেলার হাহাকার’ তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন ‘কোম্পানিদেশ’ প্রামাণ্যচিত্রে।
ব্রাত্য আমিন গ্লিটজকে বলেন, “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, ১৯৭১ সালে লক্ষ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে প্রাপ্ত বাংলাদেশ আর সাধারণ জনগণের নয়, কতিপয় কোম্পানি ও একদল সম্পদশালী মানুষের। রূপগঞ্জ উপজেলা ও ইউনিয়ন তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।”
নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে ব্রাত্য আমিন বলেন, “আমার জন্মস্থান নারায়নগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গীর গ্রামে। এখানেই আমার বেড়ে ওঠা। ছোটবেলা থেকেই দেখে এসেছি যে রূপগঞ্জ মূলত একটি কৃষিভিত্তিক অঞ্চল। এখানকার প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ কৃষক বা কৃষি কাজের সাথে জড়িত ছিল। চারিদিকে ছিল ফসলের মাঠ, বিল ভরা মাছ, জঙ্গলে ছিলো নানা জাতের বন্য পশুপাখি।
“কিন্তু গত প্রায় ২০ বছর ধরে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা বা কোম্পানির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ উদ্যোগে এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে কৃষক হারিয়েছে ফসলের জমি, ক্ষেতের ধান ও অন্যান্য ফসল, বিলের মাছ, গাছের ফল আর বন্য পশুপাখি হারিয়েছে তাদের আবাসস্থল ও খাদ্য।”
