মাদ্রাসার ছাদে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দগ্ধ পাঁচ ছাত্রীর ৩ জনই চলে গেল
চিকিৎসাধীন দুজনের অবস্থা এখন স্থিতিশীল।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মহিলা মাদ্রাসার ছাদে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দগ্ধ আরও কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে; এ নিয়ে ওই ঘটনায় তিন কিশোরীর প্রাণ গেল।
বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন লামিয়া মারা গেছে বলে ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ শিকদার জানিয়েছেন।
১৩ বছরের লামিয়ার শরীরের ৫৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
আগের দিন বুধবার মৃত্যু হয় ১৪ বছরের জিদনির, তার শরীরের ৮২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। আর মঙ্গলবার বিকালে মারা যায় ১১ বছরের দগ্ধ আতিয়া। সে ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
মারা যাওয়া সবাই জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন একই বয়সি সুমাইয়ার শরীরের ১৩ এবং আছিয়ার ৭ শতাংশ দগ্ধ হয়; এ দুজনের অবস্থা স্থিতিশীল। ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা চলছে।
গত শনিবার বিকাল ৫টার দিকে ফতুল্লার কাশিপুর হাজীপাড়া এলাকার মাহেলা খাতুন মহিলা মাদ্রাসার ছাদে বিদ্যুতায়িত হয় পাঁচ ছাত্রী।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস বলছে, শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার চারতলা ভবনের ছাদে খেলতে যায়। তাদের সঙ্গে খাওয়ার জন্য আখ ছিল। ছাদের ওপর দিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের তার গেছে। অসাবধানতাবশত আখ বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এলে বিকট শব্দে ঝলকানি ও আগুন ধরে তারা দগ্ধ হতে পারে।
শুরুতে দগ্ধদের নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান মাদ্রাসার শিক্ষক ও স্থানীয়রা। পরে ওই রাতেই তাদের ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফতুল্লা বিসিক ফায়ার অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আব্দুল হালিম বলেছিলেন, “ছাদে কাঁচা পাতাযুক্ত আখ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আখটি ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এলে ঝলকানি থেকে আগুনের সৃষ্টি হয়।”
তিনি বলেন, “ভবনের নিচতলায় থাকা গ্যাসের রাইজারেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুতের স্পার্কের সময় গ্যাস লিকেজ থেকে সেখানে বিস্ফোরণ হতে পারে। তবে নিচতলায় তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।”
