‘ফেব্রুয়ারির শুরুতেই’ বাংলাদেশকে পাঠান দেখাতে চান হল মালিকরা

‘পাঠান’ দেশে মুক্তি পেলে ‘ঘরে বসে যাওয়া’ দর্শক সিনেমা হলে ফিরবে বলে প্রদর্শক সমিতির প্রত্যাশা।

মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 Jan 2023, 11:05 AM
Updated : 25 Jan 2023, 11:05 AM

ভারতের বিনোদন দুনিয়ায় ঝড় তোলা শাহরুখ খানের প্রত্যাবর্তনের সিনেমা পাঠান ফেব্রুয়ারির শুরুতেই বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে পারে বলে আশা করছেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমার দাস। 

বুধবার ভারতে সিনেমাটির মুক্তির দিন গ্লিটজকে তিনি বলেন, ‘সাফটা’ চুক্তির আওতায় ‘পাঠান’ বাংলাদেশে মুক্তি দেওয়া সম্ভব, আর সব ঠিক থাকলে ৩ ফেব্রুয়ারিই সেটা হতে পারে।

“যেহেতু চুক্তিটি করেছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, তাই ওই মন্ত্রণালয় তাদের সিদ্ধান্ত জানানোর পর ‘পাঠান’ মুক্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে তথ্য মন্ত্রণালয়।”

গ্লিটজকে সুদীপ্ত কুমার দাস বলেন, দেশে পাঠান মুক্তির অনুমতি চেয়ে তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পরিচালক অনন্য মামুন চিঠি দিয়েছিলেন। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার তথ্য মন্ত্রণালয়ে জরুরি বৈঠক বসে।

ওই বৈঠকে যুগ্মসচিব মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব মো: ফারুক আহমেদ, উপসচিব সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সরবোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মুহা, সাইফুল্লাহ, বিএফডিসির এমডি নুজহাত ইয়াসমিন, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি কাজী হায়াত, নির্মাতা শাহ আলম কিরণ, চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমার দাস, চলচ্চিত্র গবেষক ও লেখক অনুপম হায়াতসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।  

বৈঠকের হালনাদাগ তথ্য জানিয়ে সুদীপ্ত বলেন, “সিনেমা মুক্তির পক্ষে আমরা যারা ছিলাম, তারা বলেছি, এতদিন সাফটা চুক্তির আওতায় ভারতের কলকাতা থেকে বাংলা ছবি এসেছে। আমাদের দেশ থেকেও ছবি গেছে। এতে কোনো আপত্তি তোলা হয়নি। এবার ওই একই দেশ থেকে যখন একটা হিন্দি ছবি আনতে যাচ্ছি, তখন এত আপত্তি কেন? আইনের কোনো ধারায় কি লেখা আছে, হিন্দি ছবি বাদ রেখে শুধু বাংলা ছবি আমদানি করা যাবে’?

“বিপক্ষের বক্তাদের ভাষ্য হল, চলচ্চিত্র আমদানি নীতিমালার ক ও খ ধারায় লেখা আছে উপমহাদেশীয় তথা হিন্দি ও উর্দু ভাষার চলচ্চিত্র দেশে আমদানি করা যাবে না। তখন আমরা বলেছি, গ ধারায় তো লেখা আছে সাফটা চুক্তির আওতায় সাফটাভুক্ত দেশ থেকে সমান সংখ্যাক চলচ্চিত্র আমদানি ও রপ্তানি করা যাবে। ক ও খ ধারা পাস করা হয়েছে ১৯৭৩ সালে। সাফটা চুক্তির পর ‘গ’ ধারা যোগ করা হয়েছে ২০১২ সালে। এটাই লেটেস্ট নীতিমাল।”

তিনি বলেন, “আমাদের কথার ভিত্তিতে অতিরিক্ত সচিব ফারুক আহমেদ বললেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি কী বলেন?’ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি বললেন, ‘হ্যাঁ, আইনে সাফটা চুক্তির আওতায় সাফটাভুক্ত দেশ থেকে সিনেমা আমদানির সুযোগের কথা উল্লেখ আছে। পরে সিদ্ধান্ত হয়, যেহেতু বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই আইনটা করেছে, তারাই সিদ্ধান্ত নেবে।”

সুদীপ্ত জানান, বুধবার তথ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাঠানোর কথা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে, চিঠি পেয়ে তারা তথ্য মন্ত্রণালয়কে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে। তারপর তথ্য মন্ত্রণালয় জানাবে তাদের সিদ্ধান্ত। তখন জানা যাবে পাঠান দেশে মুক্তি পাবে কি না।

“আইনে কোনো ঝামেলা নেই। আমরা আশা করছি পাঠান দেশে মুক্তি পাবে। কারণ এর আগে একটি বাংলা সিনেমা ভারতে মুক্তি পেয়েছে। এরপর ভারতীয় সিনেমা বাংলাদেশে আসেনি।”

কবে নাগাদ মুক্তি পেতে পারে জানতে চাইলে সুদীপ্ত বলেন, “বুধবার সারা বিশ্বের সাথে বাংলাদেশেও মুক্তি দিতে পারলে ভালো হত। কিন্তু এখন সেটা সম্ভব হবে না। আমি আশাবাদী আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি দেশের বেশ কয়েকটা হলে বছরের আলোচিত ছবি পাঠান মুক্তি পেতে পারে।”


   
চলচ্চিত্র নির্মাতা অনন্য মামুন বলেন, “আমরা দেখেছি পাঠান মুক্তিতে আইনের কোনো বাধা নেই। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পজেটিভ খবর আসবে বলে আমার বিশ্বাস।”

দেশের এই অবস্থায় বলিউডের ‘পাঠান’ আনা কেন জরুরি?

জবাবে সুদীপ্ত কুমার বলেন, “তিন চার বছর ধরে হল মালিকরা লোকসান গুনছে। এখন দর্শকের হলে যাওয়ার অভ্যাস নেই, তারা ঘরে বসে গেছে। পাঠানের মতো সিনেমা আসলে দর্শকের হলে যাওয়ার অভ্যাস তৈরি হবে। পরিবেশ উন্নত হলে, ভালো সিনেমা পেলে দর্শক নিয়মিত হলে যাবে।”

“তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী হল নির্মাণে যে এক হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ঘোষণা করেছেন, কেউ টাকা নিতে যাচ্ছে না। কারণ হল বানালেই তো হবে না। টাকা তুলে সেটা ফেরতও দিতে হবে। দর্শক না থাকলে টাকা উঠবে কীভাবে? পাঠানের মতো সিনেমাগুলো যদি আসে, দর্শক হলে ফেরে, বন্ধ হলগুলো খুলবে তো বটেই; নতুন সিনেমা হলও নির্মাণে এগিয়ে আসবে।”

বাংলাদেশের হলগুলোতে এখনো পেনড্রাইভে সিনেমা চলে। বলিউড/হলিউডের সিনেমা চালাতে সার্ভার সিস্টেম লাগে। পাঠানের মত সিনেমা আনলে এই সমাধান কী হবে?

সুদীপ্ত বলেন, “ভারতে কিছু যন্ত্রপাতি আছে, যেগুলো দিয়ে সাময়িকভাবে সার্ভার যে কোনো সিনেমা হলকে সার্ভার সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করা যায়। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান যশরাজ ফিল্মের সঙ্গে ইম্পোর্টারের কথা হয়েছে। মুম্বাই থেকে সিনেমার পাশাপাশি কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত আছে। এ নিয়ে সমস্যা হবে না।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক