Published : 01 May 2026, 12:22 AM
বাঙালি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা, ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক সভাপতি সন্জীদা খাতুন স্মরণে প্রকাশিত হয়েছে স্মারকগ্রন্থ ‘কী রাগিণী বাজালে’।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডির ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবন মিলনায়তনে এ গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সমবেত ও একক সংগীত পরিবেশন, বক্তব্য এবং পাঠপর্বে উঠে আসে তার জীবন, কর্ম এবং সাংস্কৃতিক অবদানের গভীর অনুরণন।
অনুষ্ঠানে সাহিত্য গবেষক ও সমালোচক ভীষ্মদেব চৌধুরী গ্রন্থটির পরিকল্পনা, বিন্যাস ও অন্তর্নিহিত দর্শন তুলে ধরেন। বলেন, “সন্জীদা খাতুনের ৯৩তম জন্মবার্ষিকীতে গ্রন্থটি প্রকাশের পরিকল্পনা থাকলেও নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে কিছু বিলম্বে হলেও বইটি পাঠকের হাতে তুলে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত।
“এটি কেবল একটি গ্রন্থ নয় বরং এক অ্যালবামধর্মী সংকলন। ৪৯টি লেখা, একটি সাক্ষাৎকার এবং অসংখ্য রঙিন ছবির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে সন্জীদা খাতুনের জীবন, কর্ম, দর্শন ও প্রভাব। আমরা চেয়েছি লেখকদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আড়ালে রেখে সন্জীদা খাতুনকে আলোকিত করতে; যেন তার আলোয় আমরা সবাই স্নাত হতে পারি।”
গ্রন্থটির সম্পাদকমণ্ডলীতে আছেন রামেন্দু মজুমদার, মফিদুল হক, বেগম আকতার কামাল, ভীষ্মদেব চৌধুরী, রুচিরা তাবাসসুম নভেদ্ ও জয়ন্ত রায়। প্রকাশক ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লাইসা। গ্রন্থটির প্রচ্ছদ ও নকশা করেছেন শিল্পী সব্যসাচী হাজরা।
প্রকাশনা সংশ্লিষ্টরা বলেন, বইটিতে ব্যবহৃত হয়েছে সন্জীদা খাতুনের স্বাক্ষর এবং তার ব্যবহৃত শাড়ির পাড়; যা এক অনন্য ‘আবেগময় স্পর্শ’ যোগ করেছে বইটিতে।
সম্পাদকমণ্ডলী লেখাগুলোকে বিষয়ভিত্তিক বিন্যাসে সাজিয়েছেন। যেমন ‘জীবন ও কৃতি’, ‘শিক্ষাগুরু’, ‘স্মৃতিচারণ’, ‘গ্রন্থ আলোচনা’ ও ‘সাক্ষাৎকার’।
পাশাপাশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা থেকে প্রকাশিত কয়েকটি গ্রন্থ ও পত্রিকা থেকেও গুরুত্বপূর্ণ লেখা সংযোজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বইটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন ছায়ানট সভাপতি সারওয়ার আলী।
ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ সন্জীদা খাতুনের জীবনাবসান ঘটে।