Published : 28 Jun 2026, 10:47 PM
তেইশ বছর আগে ২০০৩ সালে ‘মুন্না ভাই এম.বি.বি.এস.’ দিয়ে যে সফরের শুরু হয়েছিল, ২০০৬ সালে ‘লাগে রহো মুন্না ভাই’-এর হাত ধরে তা বক্স অফিসে সাফল্যের নতুন ইতিহাস গড়ে।
দুই দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মুন্না ও সার্কিটের জুটিকে বড় পর্দায় ফিরে পাওয়ার জন্য দর্শকদের উন্মাদনা কমেনি। ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় সিনেমা ‘মুন্না ভাই ৩’ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা চলছে।
তৃতীয় পর্ব আদৌ আসবে কী আসবে না, তা নিয়ে সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়ালের’ সঙ্গে কথা বলেছেন এই ফ্র্যাঞ্চাইজির পরিচালক রাজকুমার হিরানি এবং মুন্না ভাইয়ের স্যাঙাত সার্কিট চরিত্রের আরশাদ ওয়ার্সি। তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘মুন্না ভাই ৩’ এর চিন্তাভাবনা বন্ধ হয়ে যায়নি। তাই আশা ছাড়া যাবে না।
সাক্ষাৎকারে পরিচালক হিরানি বলেন, মুন্না ও সার্কিটের নতুন কোনো গল্প বা অভিযান ভাবা তার জন্য একেবারেই কঠিন নয়। আসল চ্যালেঞ্জ হল এমন একটি গল্প তৈরি করা, যা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দর্শকদের সমানভাবে ধরে রাখতে পারবে।
সিনেমা তৈরি দেরির কারণ ব্যাখ্যা করে হিরানি রসিকতার সুরে বলেন, “আপনারা যদি মুন্না ভাইকে শুধু ইন্টারভ্যাল বা মধ্যান্তর পর্যন্ত দেখতে চান, তবে আমি এখনই পাঁচটা সিনেমা বানিয়ে দিতে পারি। কারণ ইন্টারভ্যালের পরের গল্পটাই আমার কাছে নেই।”
হিরানির ভাষ্য, কেবল ব্যবসার খাতিরে বা টাকা উপার্জনের জন্য তিনি এই সিনেমা বানাতে চান না।
তার কথায়, “অন্য কেউ আমার জায়গায় থাকলে যে কোনো একটা স্ক্রিপ্ট লিখে সিনেমা বানিয়ে দিত। কারণ সে জানত, সিনেমাটা বাম্পার ওপেনিং পাবে এবং প্রচুর টাকা আয় করবে। কিন্তু আমি তা করতে চাই না। আমরা আগে দুটো দুর্দান্ত সিনেমা বানিয়েছি। টাকার লোভ থাকলে এতদিনে চার-পাঁচটা পার্ট তৈরি হয়ে যেত। নতুন সিনেমার মান অন্তত আগের দুটির সমকক্ষ হতে হবে, আর এখানেই আমি আটকে যাচ্ছি।”
কথাপ্রসঙ্গে রাজকুমার হিরানি স্মৃতিচারণ করে জানান, এই ফ্র্যাঞ্চাইজির সবচেয়ে আইকনিক বিষয়গুলো কোনও পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই তৈরি হয়েছিল এবং তা কাল্ট-এ পরিণত হয়েছিল। তিনি বলেন, “কেউ খাতা-কলম নিয়ে বসার সময় এটা ভেবে লেখে না যে মানুষ ‘জাদু কি ঝাপ্পি’ বা ‘গান্ধীগিরি’ মনে রাখবে। ওভাবে লিখলে সেটা জোড়াতালি দেওয়া মনে হয়।”
পরিচালক ‘লাগে রহো মুন্না ভাই’ সিনেমার একটি মজার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “সিনেমার টিম ভেবেছিল অন্য একটি সংলাপ দর্শকদের মুখে মুখে ঘুরবে। সিনেমায় লাকি সিং (লাকি সিং একজন দুর্নীতিপরায়ণ প্রোমোটার, যাকে গান্ধীগিরির পথ বেছে নিতে হয়েছিল) চরিত্রটিকে উদ্দেশ্য করে মুন্না ও সার্কিট বলেছিল—‘জীবনে সাধারণত যা করো, ঠিক তার উল্টোটা করো’।
“আমরা ভেবেছিলাম এই সংলাপটি খুব জনপ্রিয় হবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত একজন মানুষও ওই সংলাপটি মনে রাখেনি! উল্টোদিকে, আমরা ভেবেছিলাম ‘গান্ধীগিরি’ শব্দটা হয়তো মানুষের মনে ধরবে না, অথচ সেটাই দেশজুড়ে এক বিরাট সামাজিক আলোড়ন তৈরি করেছিল। তাই নিজের মন যা বলে, সেটাই লিখে ছেড়ে দেওয়া উচিত।”
আড্ডার মাঝে একটি মজার স্মৃতি শেয়ার করে আরশাদ ওয়ার্সি জানান, কোনো প্রজেক্ট শেষ হওয়ার পর তিনি নিজের অভিনয় পুরোপুরি ভুলে যান। হাসতে হাসতে আরশাদ বলেন, “শুটিং শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি আক্ষরিক অর্থেই আমার কাজ ভুলে যাই। রাজু (রাজকুমার হিরানি) ভালো করেই জানে, ‘লাগে রহো মুন্না ভাই’ করার সময় আমার কোনও ধারণাই ছিল না যে প্রথম পার্টে আমি কেমন অভিনয় করেছিলাম! শেষমেশ ওরা আমাকে প্রথম সিনেমার টেপ দেখায় এবং বলে, ‘বাবা, দেখ, তুমি এভাবে অভিনয় করেছিলে’। তারপর আমি নিজের অভিনয় দেখে নিজেকেই নকল করেছিলাম।”
‘মুন্না ভাই ৩’-এর শুটিং এখনও শুরু না হলেও সঞ্জয় দত্ত, আরশাদ ওয়ার্সি এবং লেখক অভিজাত জোশীর সঙ্গে রাজকুমার হিরানির আলোচনা চলমান রয়েছে। দর্শকরা যেভাবে মুন্না-সার্কিটকে দেখতে অভ্যস্ত, সেই মান ধরে রাখার জন্য শেষ মোক্ষম উপাদানটির খোঁজ চালাচ্ছেন তারা।
ভক্তদের আশ্বস্ত করে হিরানি ইতিবাচক সুরে বলেন, “একটা সময়ে এই সিনেমা অবশ্যই তৈরি হবে।”
আপাতত দর্শকদের অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই, তবে পরিচালকের কথায় স্পষ্ট যে মুন্না ভাইয়ের ম্যাজিক এখনো ফুরিয়ে যায়নি।
আরও পড়ুন-