Published : 16 Jun 2023, 03:36 PM
দীর্ঘ ৪৭ বছর পর ফের পর্দায় আসছে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস ‘দত্তা’। নির্মল চক্রবর্তী পরিচালিত এ সিনেমায় ‘বিজয়া’ চরিত্রটি করেছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।
আনন্দবাজার জানিয়েছে, অজয় কর পরিচালিত ‘দত্তা’য় সুচিত্রা সেন অভিনীত চরিত্রে সুযোগ পেয়ে ঋতুপর্ণা গর্বিত বোধ করেছেন।
শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে ‘দত্তা’। সিনেমা মুক্তির আগে আনন্দবাজার অনলাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।
‘দত্তা’ নিয়ে কতটা আশাবাদী সে প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, খুব জটিল প্রক্রিয়ায় নির্মিত হয়নি সিনেমাটি। কেননা পিরিয়ড সিনেমা হিসেবে বাজেট খুব বেশি ছিল না। তাই খুব যত্ন নিয়ে চরিত্রদের পোশাক পরিকল্পনা ও শিল্প নির্দেশনা দেয়ার চেষ্টা করেছেন নির্মাতা।
“ঋতুদার (পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষ) সিনেমায় অন্দরসজ্জাতেও এরকম ছোট ছোট জিনিসগুলো গুরুত্ব দেওয়া হত। অতিমারি সামলে ৪ বছরের চেষ্টায় সিনেমাটি করেছি। আশা করছি দর্শক পাশে থাকবেন।”
ঋতুপর্ণা জানান, ‘দত্তা’র প্রস্তাব পেয়ে রীতিমতো চমকে গিয়েছিলেন তিনি। কারণ সুচিত্রা সেনের অভিনীত চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পাওয়া কম কথা নয়। তবে অভিনেত্রী রাজি হলেও, সিনেমার কাস্টিং নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন।
সে প্রসঙ্গে অভিনেত্রীর বক্তব্য, “অনেকেই দাবি করেছেন বিজয়া চরিত্রটির তখন নাকি ১৮ বছর বয়স ছিল। সিনেমার কাস্টিং নিয়ে তাই তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্তু বয়স মাথায় রেখে কি সব চরিত্রায়ন সম্ভব হয়? সময়ের সঙ্গে কিন্তু যে কোনও গল্পকে নতুন ভাবে বিশ্লেষণ করাই যায়। তাছাড়া সুচিত্রা সেন খুব পরিণত বয়সে সিনেমাটি করেছিলেন। সেদিক থেকে পরিচালকেরও মনে হয়েছিল যে, আমাকে মানাবে ভালো।”
সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রীকে তরুণ অভিনয় শিল্পীদের মনোস্তত্ব নিয়ে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। সে প্রসঙ্গে ইন্ডাস্ট্রির অভিজ্ঞ অভিনেতা ও তরুণ অভিনেতাদের মধ্যে বিস্তর ফারাক আছে বলে অভিনেত্রী মনে করেন। কারণ নতুনদের মধ্যে এখন অনেকের ম্যানেজার রয়েছে। অনেককে আবার ফোন করলে উত্তর মেলে না।
ইন্ডাস্ট্রির বদলে যাওয়া নিয়ে ঋতু বলেন, “নতুন প্রজন্মের এই ঔদ্ধত্যকে আমি সমর্থন করি না! কারণ আমি বিশ্বাস করি, এভাবে কিছু প্রমাণ করা যায় না। আমার পারিবারিক শিক্ষা আমাকে শিখিয়েছে যে, ঔদ্ধত্য মানুষকে তাঁর চারিত্রিক গুণ থেকে দূরে ঠেলে দেয়।”

ঋতুপর্ণা মনে করেন, এর পেছনে সহজে প্রচার পাওয়ার ইচ্ছা কাজ করে। কারণ আগের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা খুব সহজে কিছু পাননি। প্রচণ্ড পরিশ্রম করে এই অবস্থান তৈরি করতে হয়েছে। কারণ ইন্ডাস্ট্রিতে প্রযোজকরা এখনকার মতো এতটা ‘কর্পোরেট’ ছিলেন না। এখনকার মতো এত পারিশ্রমিক, এসি ফ্লোর, মেকআপ ভ্যান কিছু ছিল না।
“শুক্রবারের কাগজে একটা মাত্র সাদা-কালো বিজ্ঞাপন আর রাস্তায় কিছু পোস্টার, সোশ্যাল মিডিয়াও ছিল না- তাই টিকে থাকার গুরুত্বটা বুঝি। ঔদ্ধত্য আমার কাছে বিলাসিতা ছাড়া কিছুই নয়!”
ঋতুপর্ণা এখনও সাফল্যের জন্য পরিশ্রম করে যাবেন বলে জানান।
অভিনেত্রীর ভাষায়, “এখনও পরিশ্রম করছি, ভবিষ্যতেও করব। দেখুন, আমার জীবনে যেমন প্রাপ্তি প্রচুর, পাশাপাশি অনেক প্রতিবন্ধকতাও এসেছে। প্রচুর স্বার্থত্যাগ করেছি শুধু সিনেমাকে ভালোবেসে। সাফল্য যদি পরিশ্রমের মাধ্যমে আসে, তা হলে তার স্বাদটা কিন্তু অনেক দীর্ঘস্থায়ী হয়।”
সম্প্রতি বলিউড অভিনেতা আরবাজ খানের বিপরীতে ‘কাল ত্রিঘোরী’র শুটিং শেষ করেছেন ঋতুপর্ণা। আগামীতে অভিনেত্রীকে ‘আ বিউটিফুল লাইফ’, ‘সল্ট’ ও ‘গুডবাই মাউন্টেন’ এর মতো বেশ কিছু সিনেমায় দেখা যাবে।