Published : 30 Nov 2025, 09:15 PM
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর এক বছরে নিজেদের অনলাইন কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার ঘোষণা দিয়েছে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট।
এর মধ্যে রয়েছে গবেষণাধর্মী কনটেন্ট, আর্কাইভ-ভিত্তিক উপস্থাপনা, সাংস্কৃতিক স্মৃতি সংরক্ষণে বিশেষ প্রকল্প।
রোববার রাজধানীর ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবনের রমেশচন্দ্র দত্ত স্মৃতি মিলনকেন্দ্রে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক বছরের কর্মকাণ্ডের তথ্য তুলে ধরা হয়। এ সময় নতুন কনটেন্টের কিছু অংশও প্রদর্শন করা হয়।
ছায়ানটের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম উপসংসদের আহ্বায়ক জয়ন্ত রায় স্বাগত বক্তব্যে বলেন, "সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বৃহত্তর মানুষের সংযুক্তির আকাঙ্ক্ষায় ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর আমরা প্রায় তিন হাজার মানুষ একত্র হয়েছিলাম রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে। সেই সম্মিলিত জনারণ্যে আমাদের কণ্ঠে উঠেছিল জাতীয় সংগীত, যা আকাশজুড়ে এক মুহূর্তের জন্য প্রতিধ্বনিত হয়েছিল মানুষের অন্তর্গত শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
"'মা তোর বদনখানি মলিন হলে আমি নয়ন জলে ভাসি’ মাতৃভূমির প্রতি অকুণ্ঠ ভালোবাসার এই চরণ উচ্চারণ করতে করতে আমাদের চোখ নিজের অজান্তেই ভিজে উঠেছিল। এই কন্টেন্টটিই পূর্ণাঙ্গ দর্শনে সবচেয়ে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছেছে; মানুষের হৃদয় যেন নিজেই ঠিক করে নিয়েছে কোনো বাণীকে, কোনো সুরকে আপন করবে।"
ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা বলেন, “এক বছর আগে আমাদের স্বপ্ন ছিল প্রতিদিনের শিল্পচর্চাকে মানুষের জীবনের স্বাভাবিক অংশে পরিণত করা। আজ আমরা দেখছি হাজারো মানুষ এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হচ্ছেন, শোনছেন, শিখছেন ও নিজেদের সমৃদ্ধ করছেন।”
২০১৭ সালের নববর্ষের কথনে সন্জীদা খাতুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপরিসীম শক্তি ও সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন, সে কথা স্মরণ করে লিসা বলেন, "আরো মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছায়ানটকে যুক্ত করার ভাবনা ছিল তার। সেই ভাবনাকে সঙ্গী করে আমাদের এই যাত্রা বিস্তৃত হয় পহেলা ডিসেম্বর ২০২৪ সকাল ৯টায় ‘জাগরণী’ দিয়ে।
“‘জাগরণী’ তে প্রতিদিন সকালে প্রকাশিত হয়েছে এমন গান, পাঠ-ভাবনা, যা ঘুম ভাঙার মতই অসংখ্য মানুষের মনকে নতুন করে জাগিয়েছে, দিয়েছে শক্তি, করেছে উজ্জীবিত।"
২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছায়ানটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। লক্ষ্য ছিল আবহমান বাংলার সংস্কৃতির মূল্যবান উপাদানকে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া।
ছায়ানট বলেছে, ধারাবাহিক সংস্কৃতিচর্চাই সত্য, সুন্দর ও সহৃদয় সমাজ গড়ে তোলে–এই বিশ্বাস থেকেই এ ডিজিটাল উদ্যোগ।
ছায়ানটের এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিগত বছরে প্রচার হয়েছে সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান ‘চিরন্তন’, যেটি প্রতি মঙ্গলবার রাত ৯টায় দেখা যেত এবং বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় প্রচার হওয়া ‘গানের নিবিড় পাঠ’ দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
পাশাপাশি ছায়ানটের বিভিন্ন অনুষ্ঠান সংগীতবিদ্যায়তনের ‘সূচনা-সমাবেশ’, ‘শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠান’ এবং সবার অংশগ্রহণে ‘গান অবিরাম’ নিয়মিত প্রচার করা হয়েছে।
ছায়ানট জানিয়েছে, ডিজিটাল জগতে এমন একটি সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য, যেখানে সৌন্দর্য, মানবতা, ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতা মিলেমিশে মানুষের মনকে নির্মল করে এবং চিন্তাকে জাগ্রত করে।
অন্যদের মধ্যে ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী, সহ-সভাপতি পার্থ তানভীর নভেদ্, ডিজিটাল আরকাইভস ও প্ল্যাটফর্মের তত্ত্বাবধায়ক অনিন্দ্য রহমান সংবাদ সম্মলনে উপস্থিত ছিলেন।