Published : 10 Apr 2026, 03:03 PM
নাট্যদল বটতলা 'খনা' নাটকের শততম প্রদর্শনী উদযাপন করছে বর্ণাঢ্য এক সাংস্কৃতিক উৎসবের মধ্য দিয়ে।
রাজধানীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী এই উৎসব। সকালে শিল্পী ও অ্যাক্টিভিস্ট অরূপ রাহীর পরিচালনায় ‘উদয়ভানু সঙ্গ’ অধিবেশনের মাধ্যমে উৎসব শুরু হয়।
এরপর আমন্ত্রিত শিল্পীদের যন্ত্রসংগীত সরোদ, বেহালা এবং গান পরিবেশনার আয়োজন উপভোগ করেছেন দর্শক-শ্রোতারা।
২০১০ সালের ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শততম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হয়েছিল সামিনা লুৎফার লেখা ‘খনা’ নাটকের প্রথম প্রদর্শনী। নির্দেশনা দেন মোহাম্মদ আলী হায়দার। এরপর গত ষোল বছরে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শিত হয়েছে নাটকটি।

শনিবার উৎসবের দ্বিতীয় দিন সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে ‘খনা’র শততম প্রদর্শনী।
উৎসবের অংশ হিসেবে শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে ‘দেশীয় পণ্যের মেলা’, যেখানে দর্শনার্থীরা বিষমুক্ত শাকসবজি, কৃষিপণ্য, দেশীয় খাবার, কারুপণ্য, পোশাক ও বইপত্রের পসরা দেখতে পারবেন। এই মেলার ব্যবস্থাপনায় রয়েছে ‘প্রাকৃত সমাজ’।
এই মেলার উদ্বোধন করেন নাট্যনির্দেশক মোহামদ বারী। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বটতলার সভাপ্রধান খুশী কবির।

সকালের পর্বে শিশুদের জন্য ছিল বিশেষ আয়োজন- ব্রতচারী নৃত্য, ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, গান ও আবৃত্তি। পাশাপাশি মৃৎশিল্পী খোকন কারিগরের পরিচালনায় ‘মাটির পাঠশালা’ এবং চিত্রশিল্পী মনজুর রশীদের পরিচালনায়
‘আঁকিবুকিতে বসন্ত’ শীর্ষক আর্ট ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া শিশুদের বিনোদনের জন্য দিনের আয়োজনে রয়েছে কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের পরিবেশনা।
প্রথম দিনের আয়োজনে আরো আছে টাঙ্গাইলের প্রয়াত কুদরত আলী লাঠিখেলা দলের পরিবেশনায় ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা প্রদর্শন। পাশাপাশি কুমার গাতা ওয়াসিম বয়াতি ও মাহমুদপুর আজিজুল বয়াতির দলের পরিবেশনায় ঐতিহ্যবাহী ধুয়া গান।

সন্ধ্যায় সমগীত, চারকোল, মাভৈ, কুয়াশা মূর্খ, গীতলবঙ্গ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন পরিবেশনা রয়েছে। একই সঙ্গে ‘দর্শকের ক্যামেরায় খনা’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন আছে।
প্রথম দিন সন্ধ্যায় গবেষক, শিক্ষক, শিল্পী ও সমালোচকদের অংশগ্রহণে হবে ‘খনা’র আলাপ অনুষ্ঠানও হবে। এরপর সৌম্য সরকার ও ব্রাত্য আমিন নির্মিত বিশেষ তথ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে শেষ হবে প্রথম দিনের আয়োজন।

বটতলা বলছে, 'খনা' এমন এক আখ্যানের মঞ্চকৃতি; যা নারী ও শ্রেণির প্রশ্নকে সামনে আনে। গল্পটা পনেরশ বছর আগের হলেও আজো সমান প্রাসঙ্গিক।
নারী প্রশ্নে, সমতার প্রশ্নে, শ্রেণির প্রশ্নে ক্ষমতাকাঠামোর নানান সমীকরণের নিবিড় ও বহুমাত্রিক পাঠের প্রস্তাবনা নিয়ে 'খনা' এমনই মঞ্চকৃতি; যা এই সময়ের কথাই বলে দূর অতীতের ইশারাসমেত।
বটতলা বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলেছে, “ঘরের বাইরে পা ফেলা নারীর প্রথম বাধা যে ঘরের ভেতর থেকেই আসে। এই নাট্যের বর্ণনা আমাদের বলে যে- যে জানে সে মূঢ় নয়, মূঢ় সেই যে যে জেনেও বোঝে না কত কম জানা যায়।

“প্রজন্মান্তরে চলা যে কৃষি জ্ঞান ও প্রজ্ঞা খনার নামে বহমান তার ঠিকুজি কুষ্ঠির খোঁজে নাটক খনা চলে চাষীদের বেগুন ক্ষেত, কলা বাগান মাড়িয়ে ছোট্ট উঠানে। আর খনা তার জীবনের নানা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে এক অন্য সত্যের মুখে দাঁড় করান দর্শকদের।”
দুই দিনের এই উৎসব শনিবার সন্ধ্যায় 'খনা' নাটকের ১০০তম প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে।