Published : 10 Oct 2025, 01:05 AM
দীর্ঘ কর্মজীবনে যার নামের পাশে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে শিল্প আর বিতর্ক, তিনি বলিউডের নির্মাতা মহেশ ভাট। জীবনের এক ক্রান্তিলগ্নে তিনি বড় মেয়ে অভিনেত্রী পূজা ভাটকে পাশে পেয়েছিলেন।
জীবনের সেই গল্পের কথা মহেশ ভাট বলেছেন এক ইউটিউব চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে। পূজা ভাটও এসেছিলেন সেখানে।
আনন্দবাজার লিখেছে, মহেশের প্রথম স্ত্রী ছিলেন লরেন ব্রাইট, যিনি পরে নাম পরিবর্তন করে কিরণ ভাট হন।
কিরণ ভাটের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্কে থাকাকালেই সোনি রাজদানের প্রেমে পড়েন মহেশ। কিরণের সঙ্গে ছাড়াছাড়ির আগেই সোনিকে বিয়ে করেন।
কিরণ ও মহেশের দুই সন্তান, পূজা ভাট ও রাহুল ভাট।যখন সোনিকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন মহেশ, সেটা ছিল তার পরিবারের জন্য বড় ধাক্কা।
তবে ওই কঠিন সময়ে বাবার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন পূজা।
কন্যার সামনে তাই মহেশের স্বীকারোক্তি, “তোমার মনে আছে, বলেছিলাম, আমি আর তোমাদের সঙ্গে থাকব না। তবে এর মানে আমি তোমাদের প্রত্যাখ্যান করছি–এমনও নয়। আমার জীবনে এক অন্য নারী রয়েছেন। কিন্তু আমি তোমাকেও ভালবাসি। আমি তোমার মা এবং এই বাড়ির খেয়াল রাখব।”
এই কথা বলতে বলতেই কন্যার সামনে কেঁদে ফেলেন মহেশ ভাট।
তিনি বলেন, “আমি তোমাকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেষ করতে পারব না। কারণ তুমিই সে সময় আমার খেয়াল রেখেছিলে। আমি ভেবেছিলাম, অন্তত তুমি আমাকে খারাপ চোখে দেখছ না।”
এর উত্তরে পূজা বলেন, “আমি তোমাকে কখনোই খারাপ চোখে দেখিনি।”
সোনিকে বিয়ের পরেও বাবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন পূজা। এমনকি, সোনির সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক ছিল তার।
মহেশকে বিয়ের বেশ কয়েক বছর পর পূজার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন সোনি।
মহেশ আর পূজাকে নিয়ে বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে বিতর্ক কম নেই।
নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে ঘটনা। ভারতের একটি জনপ্রিয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে প্রকাশিত হয় মহেশ ও পূজা ভাটের ছবি।
তাতে দেখা যায়, কিশোরী পূজা বাবার কোলে বসে আছেন, আর মহেশ ভাট মেয়ের ঠোঁটে চুম্বন করছেন।
বাবা মেয়ের এমন ছবি প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় সমালোচনা।
অনেকে বিষয়টিকে কেবল পিতা-কন্যার স্নেহময় মুহূর্ত হিসেবে দেখেননি, বরং সেটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য, অস্বাভাবিক সম্পর্কের প্রতীক’ হিসেবে চিহ্নিত করেন।