Published : 30 May 2026, 05:44 PM
বলিউডের নায়ক সালমান খানের জীবন নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা এসেছে, যেখানে তার জীবনের বিতর্কিত ও অন্ধকার অধ্যায়গুলো তুলে ধরা হবে।
আনন্দবাজার লিখেছে, সালমান খানের কৃষ্ণসার হরিণ শিকার এবং গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সঙ্গে তার পুরনো শত্রুতা নিয়ে নির্মিত হচ্ছে চলচ্চিত্র ‘কালা হিরণ’।
শনিবার পরিচালক ভরত এস শ্রীনাত পরিচালিত এই সিনেমার প্রথম পোস্টার প্রকাশিত হয়েছে। আগামী ২০ জুন আসবে সিনেমার টিজার।
প্রযোজক অমিত জানি বলেন, ১৯৯৮ সালে যোধপুরের কাকানি গ্রামে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ সিনেমার শুটিং করতে গিয়েছিলেন সালমান। সেখানে তার সহ-অভিনেতারা ছিলেন সাইফ আলি খান, টাবু, সোনালি বেন্দ্রে ও সতীশ শাহ।
“শুটিংয়ের ফাঁকে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারে বেরিয়েছিলেন তিনি। শিকার করেছিলেন সালমান। ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইন-আদালত, লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়া, তারকা অভিনেতার হাজতবাস সব উঠে আসবে সিনেমায়।”
উত্তর প্রদেশের সম্বল ও মোরাদাবাদে হয়েছে এ সিনেমার শুটিং। প্রযোজকের দাবি, হরিণ শিকারের নেপথ্যের ‘প্রকৃত ঘটনা’ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সিনেমায় সালমান খানের চরিত্রে কে অভিনয় করছেন–তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে গুঞ্জন রয়েছে, অভিনেতা সোনু মিশ্র এই চরিত্রে অভিনয় করতে পারেন। এর আগে ‘সিকান্দার’ সিনেমায় সালমানের সাথে কাজ করেছিলেন তিনি।
বিষ্ণোই-সালমান দ্বন্দ্বের আখ্যান
১৯৯৮ সালে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের সেই মামলা থেকে সালমান রেহাই পেলেও তখন থেকেই গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ‘নিশানায়’ থেকে যান তিনি।
বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের মানুষ কৃষ্ণসার বা চিংকার হরিণকে পবিত্র বলে মনে করে, বলতে গেলে তারা পূজা করে।
ওই ঘটনার ‘বদলা নিতে’ ২০১১ সালে ‘রেডি’ সিনেমার শুটিংয়ের মাঝে সালমান খানকে হত্যার হুমকি দিয়ে আলোচনায় আসেন লরেন্স বিষ্ণোই।
এই গ্যাংস্টারের নাম ফের সামনে আসে ২০১৮ সালে। সে সময় সালমানকে হত্যার জন্য বিষ্ণোই তার সহযোগী সম্পত নেহরাকে দায়িত্ব দেন, যদিও তা ভেস্তে যায়।
এরপর ২০২১ সাল থেকে সালমানকে নিয়মিত হত্যার হুমকি দিয়ে আসছেন বিষ্ণোই। কখনো চিঠিতে, কখনো ই-মেইলে।
হামলার লক্ষ্য ছিল সালমানের পানভেলের খামারবাড়িও। তবে প্রতিবারই পুলিশের তৎপরতায় হামলার ছক প্রকাশ্যে এসেছে।
সালমানকে হত্যার হুমকি কেবল কথার কথা হয়ে থাকেনি। ২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল ভোরে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সালমানের বাসভবনে গুলির করে পালিয়ে যায় মোটরসাইকেলে করে আসা দুই ব্যক্তি।
ঘটনার দায় স্বীকার বিষ্ণোই বলেন, এরপর গুলি আর বাড়ির সামনে হবে না। এবং সালমান নিজেকে বাঁচাতে আর কোনো সুযোগও পাবেন না।
পুলিশও জানিয়েছে ২০২১ সাল থেকে কারাবন্দি বিষ্ণোই যে ১০ জনকে ‘খতমের তালিকায়’ রেখেছেন, তাদের মধ্যে প্রথমেই রয়েছে সালমানের নাম।
এরপর থেকে বুলেটপ্রুফ গাড়ি ব্যবহার করেন সালমান। বাড়িয়েছেন নিরাপত্তা রক্ষীর সংখ্যা। নিজেও আগ্নেয়াস্ত্র সঙ্গে রাখেন।
মূলত দুই দশকের এই দ্ব্ন্দ্বই ‘কালা হিরণ’ সিনেমার মূল উপজীব্য।