১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘শেষ বইটি’ দেখা হলো না মিলন কান্তির

“এটাই হতে পারে আমার শেষ বই। জীবনের শেষ মুহূর্ত কাটাচ্ছি,” ফেইসবুকে প্রচ্ছদের ছবি দিয়ে লিখেছিলেন এ যাত্রাশিল্পী।

‘শেষ বইটি’ দেখা হলো না মিলন কান্তির
যাত্রাশিল্পী মিলন কান্তি দে (বাঁয়ে) ও নবান্ন প্রকাশনীর উপদেষ্টা আমিনুর রহমান সুলতান।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Feb 2026, 10:40 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:53 PM

যে বইটি প্রকাশের অপেক্ষায় ছিল, তা আর দেখে যেতে পারলেন না যাত্রাশিল্পী মিলন কান্তি দে। 

শনিবার বিকাল ৩টা ২৫ মিনিটে চট্টগ্রামের পটিয়ায় গ্রামের বাড়িতে এ শিল্পীর মৃত্যু হয়।

‘যাত্রাশিল্পের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নন্দিত নায়িকারা’ শিরোনামে একটি বইয়ের প্রচ্ছদ সোমবার ফেইসবুকে পোস্ট করেন মিলন কান্তি দে।

সঙ্গে লেখেন, “এটাই হতে পারে আমার শেষ বই। জীবনের শেষ মুহূর্ত কাটাচ্ছি। সবাই প্রার্থনা করবেন। ধন্যবাদ নবান্ন প্রকাশনীকে।”

কয়েক বছর ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন মিলন কান্তি দে। কয়েক দিন আগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে গ্রামের বাড়ি যান। সেখানে তার শরীরের অবস্থা আরো খারাপ হতে থাকে। একদম কথা বন্ধ হয়ে যায়। শনিবার সকালে অবস্থার আরও অবনতি হয়। বিকালে নিজ বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়।

নবান্ন প্রকাশনীর উপদেষ্টা আমিনুর রহমান সুলতান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বইটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে। আগামী মঙ্গলবারই ছাপা সম্পন্ন হয়ে উনার হাতে দেওয়ার কথা ছিল। তিনি ঢাকায় আসার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন।”

মিলন কান্তি দের বইয়ের প্রচ্ছদ

মিলন কান্তি দের বইয়ের প্রচ্ছদ

বইটি নিয়ে সোমবার রাত ৯টায় শেষ কথা হয় জানিয়ে আমিনুর রহমান সুলতান বলেন, “তখন আমি জানতে চেয়েছিলাম, বইটা কাকে উৎসর্গ করা হবে? তিনি ঠিকমতো কথা বলতে পারছিলেন না।”

“এর আগে ৩ ফেব্রুয়ারি কিছুটা কথা বলতে পেরেছিলেন। সেদিন বলেছিলেন, ‘এটাই হয়তো আমার শেষ কথা, আর বলতে পারবো কিনা জানি না’। তিনি যে সত্যিই চলে যাবেন, এটা ভাবিনি।”

চট্টগ্রামেই মিলন কান্তি দে’র শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন আমিনুর রহমান সুলতান।

চট্রগ্রামের পটিয়া উপজেলার ছন‌হরা গ্রামে ১৯৪৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন মিলন কান্তি দে । তিনি যাত্রাশিল্পে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই লেখালেখি চালিয়ে গেছেন। আত্মজীবনীসহ যাত্রাশিল্প নিয়ে তার একাধিক গ্রন্থ রয়েছে।

তার প্রকাশিত রচনার সংখ্যা প্রায় দেড় শতাধিক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগে অতিথি শিক্ষক হিসেবে পড়িয়েছেন।

অভিনয়জীবনে তিনি ১২০টির বেশি যাত্রা প্রযোজনা-পরিচালনা করেছেন এবং ১৫১টির বেশি যাত্রায় অভিনয় করেছেন। ১৯৬৬ সালে অভিনয়ে তার আত্মপ্রকাশ। ১৯৯৩ সালে তিনি ‘দেশ অপেরা’ প্রতিষ্ঠা করেন।

যাত্রাশিল্পে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বিশেষ যাত্রা ব্যক্তিত্ব (১৯৯৩) ও বিশেষ যাত্রাশিল্পী সম্মাননা (২০২৩)।

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারও (২০২২) আছে তার ঝুলিতে। এছাড়া ‘সিকোয়েন্স অ্যাওয়ার্ড অব অনার’ (১৯৮৬), অমলেন্দু বিশ্বাস স্মৃতিপদক, আন্তর্জাতিক ইবসেন অ্যাডওয়ার্ড (২০০৯), নাট্যচক্র সম্মাননা (২০১৬), প্রত্যয় শিল্প ও সাংস্কৃতিক একাডেমি চট্টগ্রাম সম্মাননাও (২০২২) পেয়েছেন তিনি।

আগের খবর

যাত্রাশিল্পী মিলন কান্তি দে মারা গেছেন