Published : 18 Feb 2026, 06:20 PM
বলিউডের বর্ষীয়ান চিত্রনাট্যকার সেলিম খানকে আইসিইউতে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে।
মুম্বাইয়ের বান্দ্রার লীলাবতী হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে বলে লিখেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার পর তার মস্তিষ্কের ডান পাশে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, একটি রক্তনালি ফেটে যাওয়ার কারণেই এই জটিলতা তৈরি হয়।

প্রবীণ এই চিত্রনাট্যকারে মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারও করা হয় ভর্তির পর। এরপর থেকে তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। তবে সেলিম খানের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সেলিম খানকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয় মঙ্গলবার সকালে। এরপর বাবাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান তার বড় ছেলে অভিনেতা সালমান খান। এছাড়া বাকি ছেলেমেয়ে ও স্বজনরাও সেলিম খানের খোঁজ নিতে দফায় দফায় হাসপাতালে যাচ্ছেন।
বলিউডের ইতিহাসে সেলিম খানের অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে জাভেদ আখতারের সঙ্গে তার জুটি হিন্দি চলচ্চিত্রের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। ‘শোলে’, ‘জঞ্জির’, ‘হাতি মেরে সাথি’, ‘দিওয়ার’ কিংবা ‘মিস্টার ইন্ডিয়ার' মত কালজয়ী সিনেমার চিত্রনাট্য তারই কলম থেকে বেরিয়েছে।

বিশেষ করে জাভেদ-সেলিম জুটির হাত ধরে হিন্দি সিনেমায় ‘অ্যাংরি ইয়াং ম্যান’ নামের যে চরিত্রের উত্থান ঘটে, তা পর্দায় কালজয়ী করে তোলেন অমিতাভ বচ্চন।
ব্যক্তিজীবনে সেলিম খান প্রথমে সালমা খানকে বিয়ে করেন। তাদের চার সন্তান—সালমান, আরবাজ, সোহেল ও আলভিরা। পরে তিনি অভিনেত্রী হেলেনকে বিয়ে করেন।
গত বছর তার ছোট ছেলে ও প্রযোজক সোহেল খান সোশাল মিডিয়ায় বাবা-মা এবং সৎমা হেলেনের একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন, “সবচেয়ে সেরা ত্রিভুজ সিরিজ।”
এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে সালমান খান বলেছিলেন, বয়স হলেও তার বাবা এখনো খাওয়াদাওয়ায় আগ্রহী। দিনে দুইবার তিনি পরোটা, ভাত, মাংস ও মিষ্টান্ন খান।
সেলিম খান এই বয়সেও প্রতিদিন হাঁটতে বের হওয়ার অভ্যাস বজায় রেখেছেন। বান্দ্রার গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টে থাকা বাসা থেকে সমুদ্রতীরবর্তী ব্যান্ডস্ট্যান্ড এলাকা পর্যন্ত তিনি হাঁটেন।
১৯৬০ সালে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রজীবন শুরু করেন সেলিম খান। ‘তিসরি মঞ্জিল’ ও ‘সরহাদি লুটেরা’সহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে তিনি ‘প্রিন্স সালিম’ নামে অভিনয় করেছিলেন।
বাবা সেলিম খান হাসপাতালে, ছুটে যান সালমান -