Published : 12 Apr 2026, 10:25 AM
অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ভারতের বর্ষীয়ান সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে।
এনডিটিভি বলছে তাকে শনিবার মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়; এই গায়িকার বয়স হয়েছে ৯৩ বছর।
তার নাতনি জানাই ভোঁসলে এক্সে গায়িকার স্বাস্থ্যের খবর জানিয়ে লিখেছেন ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
My grandmother, Asha Bhosle due to extreme exhaustion and suffering a chest infection has been admitted to hospital and we request you to value our privacy. Treatment is ongoing and hopefully everything will be well and we shall update you positively.
— Zanai Bhosle (@ZanaiBhosle) April 11, 2026
জানাইয়ের পোস্টের মন্তব্যে আশা ভোঁসলের ভক্তরা তার আরোগ্য কামনা করেছেন।
একজন লিখেছেন, "কিংবদন্তী যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন, তার জন্য প্রার্থনা।”
আরেকজনের মন্তব্য, “আশা করি আশাজি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। তার আরোগ্যের জন্য শুভকামনা ও প্রার্থনা রইল। আমি চাই তিনি অমর হোন। তিনি সুস্থ থাকুন।”
আট দশকের বেশি সময় ধরে ২০টি ভিন্ন ভাষায় ১১ হাজারেরও বেশি গান গেয়ে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে স্থান পাওয়া শিল্পী আশা ভোঁশলে। তার জন্ম ১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর।

বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের হাত ধরে সংগীতজীবনে পা রেখেছিলেন আশা ভোঁসলে। সময়টা ছিল ১৯৪৩ সাল। প্রথম প্লেব্যাক করেন মারাঠি সিনেমায়।
এরপর ১৯৪৮ সালে ‘চুনারিয়া’ সিনেমায় ‘খাতু আয়া’ গানের মধ্য দিয়ে হিন্দি চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক জগতে তার যাত্রা শুরু। তিনি প্রথম এককভাবে হিন্দি গানে কণ্ঠ দেন ১৯৪৯ সালে। শাস্ত্রীয়, লোকসংগীত, পপ, গজলসহ বিভিন্ন ঘরানার গান গেয়ে ক্যারিয়ার সমৃদ্ধ তিনি।
সংগীত পরিচালক রাহুল দেববর্মণকে আশা বিয়ে করেন ১৯৮০ সালে, এটি তার দ্বিতীয় বিয়ে। ১৪ বছর সংসার করার পর রাহুল মারা যান।

ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মান ‘দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার’-এ ভূষিত হয়েছেন আশা ভোঁসলে এবং ‘পদ্মবিভূষণ’ও অর্জন করেছেন।
এসব সম্মাননার পাশাপাশি একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও জিতেছেন তিনি।
২০২৩ সালে আশা ভোঁশলে জাঁকজমকের সঙ্গে তার ৯০তম জন্মদিন উদযাপন করেন। বাড়িতে কেবল স্বজনদের নিয়ে উদযাপন করে নয়, দুবাইয়ে একটি লাইভ কনসার্ট করে জন্মবার্ষিকী পালন করেছিলেন তিনি।
সে সময় পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আশা বলেন, “৯০ বছর বয়সে আমাকে মঞ্চে তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে গান গাইতে হয়, এই বয়সে এটা করতে পেরে আমি খুশি। আমার জন্য সঙ্গীতই আমার শ্বাস। এই ভাবনা নিয়েই আমি আমার জীবন কাটিয়েছি।
“জীবনে অনেকবার মনে হয়েছে আমি হয়ত টিকতে পারব না, কিন্তু পেরেছি।”
সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে আশা ভোঁসলেও নিজেকে বদলে ফেলা এক শিল্পী। এই প্রবীণ গায়িকা এক্স, ফেইসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সক্রিয়।
গানের পাশাপাশি রান্না এই শিল্পীর নেশা। রান্নার প্রতি ভালোবাসা থেকেই ২০ বছর আগে রোস্তোরাঁ ব্যবসায় যুক্ত হন। অনেক দেশেই তার রেস্তোরাঁর শাখা আছে এখন।