Published : 11 May 2026, 07:04 PM
চার প্রজন্মের কয়েকজন অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে নির্মিত হয়েছে ঈদের বিশেষ টেলিফিল্ম ‘জোহরা বেগমের ইচ্ছাপত্র’।
এতে একসঙ্গে পর্দায় দেখা যাবে ফেরদৌসী মজুমদার, মামুনুর রশীদ, আফজাল হোসেন, তৌকীর আহমেদ, দীপা খন্দকার, রওনক হাসান, জাকিয়া বারী মমদের।
তৌকীর আহমেদের গল্প ও চিত্রনাট্যে ‘জোহরা বেগমের ইচ্ছাপত্র’ টেলিফিল্মের কেন্দ্রে রয়েছেন জোহরা বেগম, যিনি এক সময়কার খ্যাতিমান অভিনেত্রী, জীবনের শেষ অধ্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছেন নিজের মূল্যবোধ ও বাস্তবতার দ্বন্দ্বের মুখোমুখি। সারা জীবন নিজের আদর্শে অবিচল থাকা এই নারী যখন বয়সের ভারে ক্লান্ত, তখন তার সেই আদর্শই হয়ে ওঠে পরিবারে দ্বন্দ্বের কারণ।
সন্তানেরা বাস্তবতার যুক্তি তুলে ধরলেও জোহরা বেগম ছাড়তে চান না নিজের বিশ্বাস। এই টানাপোড়েন একসময় তীব্র রূপ নেয় এবং পারিবারিক সম্পর্কের ভেতরে তৈরি হয় গভীর সংকট।
এই চরিত্রে রূপদান করেছেন ফেরদৌসী মজুমদার।
জোহরা বেগমের বড় ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফজাল হোসেন। টেলিফিল্মটি নিয়ে এই অভিনেতা গ্লিটজকে বলেন, “আমার তো ৫০ বছর হয়ে গেছে। এখন অভিনয়ের জন্য যখন কেউ কিছু বলে তখন ভেতর থেকে একটা তাগিদ অনুভব করি। সেটা এমন না যে আমি অভিনয়ের প্রস্তাব পেলাম, ওটার জন্য আমি এত পয়সা পাব, এইটা বিষয় না। আমার বিষয়টা হচ্ছে প্যাশন।
“যদি কাজটি করি তাহলে নিজের ভিতরে এক ধরনের সন্তুষ্টি, আগ্রহ, উত্তেজনা নিয়ে। সেই তাগিদা থেকে একদিন মনে হলো ফেরদৌসী মজুমদার, মামুনুর রশীদ উনাদের নিয়ে একটা কাজ হওয়া প্রয়োজন। ”

আফজাল হোসেন বলেন, “উনাদের নিয়ে কাজ করা মানে একটা সময়কে ফেরানো, ওই সময়ের আনন্দটা ফেরানো।”
এই টেলিফিল্মের শুটিং অভিজ্ঞতা নিয়ে আফজাল বলেন, “আমরা যখন এই নাটকটাতে অভিনয় করেছি চারদিন ধরে, এই যে অভিনয়ের পরিবেশটা, এটা আমরা ২০ বছর, ৩০ বছর আগে যেরকম পরিবেশে কাজ করতাম, ঠিক ওই একই পরিবেশটা আমরা ফেরত পেয়েছি। সুতরাং অভিনয়ের চেয়ে অনেক আনন্দ হয়েছে কাজটি করতে গিয়ে যে আমরা একটা জীবনকে পেয়ে গেছি।”
'জোহরা বেগমের ইচ্ছাপত্র' নিয়ে এই অভিনেতা বলেন, এই কাজটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে বিভিন্ন প্রজন্মের শিল্পীদের একসঙ্গে কাজ করা।
“কয়েকটা জেনারেশন একটা নাটকে আছে এটা খুব উপভোগ করেছি। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, এখন এরকম নাটক হয় না। মানে এই গল্পের নাটক, এই ঘটনার, এই চরিত্রগুলো এখন আমরা নাটকে দেখতে পাই না। আমরা আগে রিহার্সেল করেছি। গল্পটা পড়ে সেসময় তৌকিরকে বলেছিলাম এটা নিয়ে একটা সিনেমা করো।”

টেলিফিল্মের ছোট ছেলে ও ছেলের স্ত্রীর ভূমিকায় আছেন তৌকীর আহমেদ ও জাকিয়া বারী মম। অন্যদিকে মেয়ে ও জামাতার চরিত্রে দীপা খন্দকার ও রওনক হাসান। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে আছেন মামুনুর রশীদ।
সম্প্রতি ঢাকার উত্তরা ও গুলশানের বিভিন্ন লোকেশনে শেষ হয়েছে টেলিফিল্মের দৃশ্যধারণ। এটি নির্মাণ করেছেন আরিফ খান। ‘জোহরা বেগমের ইচ্ছাপত্র’ প্রচার হবে চ্যানেল আইয়ে।