যৌন পাচারের শিকারে’ হওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে গোমেজের চোখের পানি কোথায় ছিল, এমন প্রশ্নও তুলেছেন হোম্যান।
Published : 03 Feb 2025, 12:05 PM
যুক্তরাষ্ট্রের মাটি থেকে অবৈধ অভিবাসীদের তাড়াতে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে যে ‘ঝটিকা অভিযান’ চলছে, সেই ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না দেশটির গায়িকা এবং অভিনেত্রী সেলেনা গোমেজ।
কদিন আগে ইনস্টাগ্রামের স্টোরিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন তিনি, যেখানে তাকে অভিবাসীদের পক্ষে কিছু কথা বলার সময় অঝোরে কাঁদতে দেখা গেছে। যদিও পরবর্তীতে অভিবাসীদের পক্ষে আবেগঘন কথাবার্তার বলায় প্রবল সমালোচনার মুখে ভিডিওটি গোমেজ মুছে ফেলেছেন।
ভিডিওটির ক্যাপশনে মেক্সিকান পতাকার একটি ‘ইমোজি’ দিয়ে তিনি লিখেছেন, “আমি দুঃখিত! অনেকে হামলার শিকার হচ্ছেন, শিশুরাও বাদ যাচ্ছেন না। যদি তাদের জন্য কিছু করতে পারতাম, কিন্তু আমি পারছি না।”
যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় ফেরার একদিন আগেও ট্রাম্প বলেছিলেন, অভিবাসনের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করবেন তিনি। ক্ষমতা নিয়ে অভিবাসী তাড়াতে মাঠে নেমেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
গোমেজের পোস্টের পর হোয়াইট হাউসের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলের একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন ট্রাম্প।
ভিডিওতে তিন নারীকে দেখানো হয়। যারা দাবি করছেন তাদের সন্তান অবৈধ অভিবাসীদের হাতে খুন হয়েছেন। তারা বলেছেন অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়া ব্যক্তিদের কারণে হাজারো মা সন্তানহারা হয়েছেন।
ভিডিওতে কারো নাম উচ্চারণ করা না হলেও তিন নারী যে গোমেজের কথা বলছেন, সেটা পরিস্কার।
গোমেজের কান্নাকাটি করে অভিবাসীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জবাব দিয়েছেন ট্রাম্পের সীমান্ত বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা টম হোম্যান।
সাবেক এই পুলিশ কমকর্তা ফক্স নিউজকে বলেছেন, “যদি তারা এটা (অভিবাসী বিতারণ) পছন্দ না করে , তাহলে তারা কংগ্রেসে যাক এবং আইন পরিবর্তন করুক। আমরা কোনো ধরনের ক্ষমা ছাড়াই অভিযান চালিয়ে যাবো।”
হোম্যান বলেন, “আমরা আমাদের সম্প্রদায়কে নিরাপদ রাখতে কাজ করছি। এটা জাতির সবার জন্যই ভালো এবং আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। কোনো ক্ষমা করা হবে না, আমরা এগিয়ে যাবো।”
জননিরাপত্তা এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি, এমন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন হোম্যান।
এর আগেও হোম্যান জানিয়েছিলেন, নথিপত্রবিহীন অভিবাসীরা অভিযানে ধরা পড়লে তাদেরও নির্বাসিত করা হবে।
এছাড়া ‘যৌন পাচারের শিকারে’ হওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে গোমেজের চোখের পানি কোথায় ছিল, এমন প্রশ্নও তুলেছেন হোম্যান।
“আমরা পাঁচ লাখের মত শিশুকে পেয়েছি, যারা এদেশে যৌনকাজে ব্যবহারের জন্য পাচার হয়ে এসেছিল, তারা তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন, জোর করে তাদের পাচারের জন্য অপরাধীদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন এখনও ৩ লাখ শিশুর কোনো খোঁজ পাচ্ছে না। তাদের জন্য চোখের জল কোথায়।”
এরপর হোম্যানের সমালোচনা করে ইনস্টাগ্রামে আরো একটি পোস্ট দিয়ে, পরে সেটিও সরিয়ে ফেলেন গোমেজ।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসীদের ধড়পাকড়ের নির্দেশনার পর গেল সপ্তাহে ৯৫৬ জনকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)।
অন্যদিকে মেক্সিকো সরকার ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের মত ‘মেক্সিকোতে থাকুন’ নীতিতে আসছে সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠান হাজার হাজার অভিবাসীকে গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গোমেহের বক্তব্যের মিশ্র প্রতিক্রিয়া এসেছে।
র্যাপাল ফ্লেভার ফ্লাভ তার এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “এই নারী, যিনি সত্য প্রকাশে সর্বদা সাহসী এবং তাকে সমালোচনা করতে অনেকেই সদা প্রস্তুত।”
জনপ্রিয় সঞ্চালক মেগিন কেলি গোমোজের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন।
কেলি বলেন, “তার (গোমেজ) ভক্তদের সমালোচনার পর তিনি এটি সরিয়ে ফেলেছেন। দেশের বেশিরভাগ মানুষ অভিবাসী নীতির সমর্থন করেছেন। আমি নিশ্চিত তিনি এতে হতবাক হয়েছেন।”
গোমেজ এর আগেও ট্রাম্পের অভিবাসী নীতির সমালোচনা করেছেন।
গেল বছরেও ভ্যারাইটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “অবশ্যই আমি মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।”
গোমেজের পরিবার মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে থিতু হয় সাড়ে পাঁচ দশক আহে। ১৯৭০ সালে অভিনোত্রীর দাদা, দাদি ও ফুফু সীমান্ত পার হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর পরিবারটি ট্রেক্সাসে বসবাস করতে থাকেন।
গোমেজের জন্ম টেক্সাসে ১৯৯২ সালে। ২০১৯ সালে‘লিভিং আনডকুমেন্টেড’ নামে একটি ডকুমেন্টরিতে গোমেজকে দেখা গিয়েছিল। নেটফ্লিক্সের এই ডকুমেন্টরিটি যুক্তরাষ্ট্রের আটটি অভিবাসী পরিবারের যন্ত্রণা ও সংগ্রমের গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছিল।
বর্তমানে তিনি জনপ্রিয় ডিজনি টিভির ‘অনলি মার্ডারারস ইন দ্য বিল্ডিং’ সিরিজে কাজ করছেন।