Published : 10 Nov 2025, 06:15 PM
যারা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গনের জমির মালিকানা দাবি করে মামলা করেছেন, তাদের সঙ্গে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর ভারতে বসবাস করা বংশোধরদের কোনো আলোচনা বা যোগাযোগ হয়নি বলে দাবি করেছেন এই সংগীতজ্ঞের প্রপৌত্র সিরাজ আলী খান।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেছেন, “আমাদের যে আত্মীয়রা ভারতে বসবাস করেন, তাদের কেউ এই জমির মালিকানা দাবি করেননি।”
পঞ্চাশের দশকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পুরাতন জেলরোডে একটি বাড়ি কিনেছিলেন সংগীতজ্ঞ ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ; তার ইচ্ছা ছিল এই বাড়িতে একটি সংগীত কলেজ প্রতিষ্ঠা করবেন। ১৯৫৬ সালে সেখানে প্রতিষ্ঠা পায় ‘দি আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গন’।
পাঁচ বছর আগে সেই সংগীতাঙ্গনের জমির মালিকানা দাবি করে আদালতের দ্বারস্থ হন চারজন। তারা আলাউদ্দিন খাঁর বড় মেয়ে সরোজা বেগমের বংশোধর।
এ বিষয়ে সোমবার 'জমির বিরোধে সংকটে আলাউদ্দিন খাঁর সংগীতাঙ্গন' শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
সেই সংবাদটি সিরাজ আলী খানের নজরে এলে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং জানুয়ারিতে বাংলাদেশে এলে এ বিষয়ে কথা বলারও আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সিরাজ আলী খান ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, জমিটি আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গনের কাছেই থাকা উচিত এবং সেখানে বড় পরিসরে সংগীত কলেজ করা উচিত।

ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর তিন মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে সরোজা বেগমই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় থাকতেন। অন্য দুই মেয়ে এবং ছেলের বংশধরেরা ভারতের মাইহার, কলকাতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। তিন প্রজন্মে অন্তত ৮০ জনের মত বংশধর দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে রয়েছেন।
আলাউদ্দিন খাঁর ছেলে আলী আকবর খান; তাঁর সন্তান ধ্যানেশ খানের ছেলে সিরাজ আলী খান। তিনি মাইহার ঘরানার সংগীতের একজন খ্যাতিমান শিল্পী।
গত ৮ অক্টোবর ঢাকার লালবাগ কেল্লায় ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর ১৬৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনের ধ্রুপদী সংগীতের অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিল সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
ওই অনুষ্ঠানে সরোদ পরিবেশন করেছিলেন সিরাজ আলী খান। তিনি দেড়শ বছরের পুরোনো একটি সরোদ দিয়ে সংগীত পরিবেশন করেছিলেন; যে সরোদটি এক সময় তার বড় দাদা আলাউদ্দিন খাঁ বাজাতেন। সরোদটি বংশ পরম্পরার তিনি পেয়েছেন।
সিরাজ আলী খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আগামী জানুয়ারিতে আমি বাংলাদেশে আসব এবং তখন আলাউদ্দিন খাঁ সংগীতাঙ্গনের বিষয়ে কথা বলব।"
আলাউদ্দিন খাঁর স্মৃতি-স্মারক সংরক্ষণে যারা তৎপর রয়েছেন, তাদেরকে ধন্যবাদও জানান তিনি।
পুরনো খবর