Published : 22 Apr 2026, 07:01 PM
সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খান জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এর শুভেচ্ছাদূত হিসেবে তার চুক্তি নবায়ন করেছেন।
তাহসান এর আগে ২০২১ সালে প্রথম শুভেচ্ছাদূত হিসেবে যুক্ত হয়েছিলেন।
ইউএনএইচসিআরের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তাহসান বলেন, "রোহিঙ্গারা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় ও নিরাপত্তার খোঁজে আসার পর নয় বছর পার হয়েছে। একটি টেকসই সমাধান না আসা পর্যন্ত তাদের এই দুর্দশার প্রতি আমাদের সহানুভূতিশীল থাকা প্রয়োজন।
"আমি এমন সব পরিবারের সাথে কথা বলেছি যারা অকল্পনীয় ক্ষতি ও কষ্টের শিকার হয়েছেন। তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি আমাকে অনুপ্রেরণা দেয়। আমি তাদের গল্পগুলো সবার কাছে তুলে ধরতে চাই।"
তাহসান আগেও জাতিসংঘের এ সংস্থার হয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জনসম্পৃক্ততার কাজে সহায়তা করে এসেছেন। তিনি শরণার্থীদের দুর্দশা, ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা এবং অধিকার রক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সাহায্য করছেন।
ইউএনএইচসিআরের রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইসেন বলেন, “তাহসান দীর্ঘদিন ধরে শরণার্থীদের পক্ষে একজন নিবেদিত কণ্ঠস্বর। তার সম্পৃক্ততা এমন এক সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধের প্রতিফলন, যা এই সময়ে আমাদের সবার প্রয়োজন।
“তার চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে পেরে আমরা গর্বিত এবং শরণার্থীদের সুরক্ষা ও আশার প্রসারে তার সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা করি। দশ লাখের বেশি শরণার্থীকে উদারভাবে আশ্রয় দেওয়া এই দেশে এমন একটি কণ্ঠস্বর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

গত কয়েক বছরে তাহসান কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি শরণার্থী ক্যাম্পগুলো পরিদর্শন করেছেন, শরণার্থী সম্প্রদায়ের সাথে যুক্ত হয়েছেন এবং বিশ্ব শরণার্থী দিবসে বৈশ্বিক সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন।
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছেন, যাদের বেশির ভাগ কক্সবাজার জেলার ৩৩টি ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পে বসবাস করছেন। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী ক্যাম্প।
অনেক রোহিঙ্গা প্রায় নয় বছর ধরে এসব ক্যাম্পে বসবাস করছেন, যেখানে তাদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, জীবিকা এবং দীর্ঘমেয়াদি সুযোগের প্রবেশাধিকার সীমিত।