Published : 13 Dec 2025, 09:03 PM
তিনি তারকা পরিবারের সন্তান, তার বাবা বিনোদ খান্না হিন্দি সিনেমার আলোচিত অভিনেতা। কিন্তু তারকার সন্তান হিসেবে একের পর এক সিনেমা নিজের দখলে রাখার কোনো প্রবণতা তার ভেতরে দেখা যায়নি। তিনি অক্ষয় খান্না। বাস করেন কিছুটা নিভৃতে।
নব্বই দশকের হিন্দি সিনেমার অনেক দর্শকের কাছে এক পছন্দের অভিনেতা তিনি।
অক্ষয় ঝলক তুলেছেন গেল ৫ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়া আদিত্য ধরের ‘ধুরন্ধর’ সিনেমায়। মুক্তির প্রথম দিন থেকে স্পাই-অ্যাকশন থ্রিলার সিনেমাটি দারুণ ব্যবসা করছে বলে লিখেছে এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ ভারতের আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।
মুক্তির প্রথম দিনেই ২৮ কোটি রুপি আয় করে চমকে দেয় ‘ধুরন্ধর’; প্রথম চারদিনে সিনেমাটি ঘরে তোলে ১২৬ কোটি রুপি।
সিনেমার টিজার ট্রেইলারে রাণবীর সিংয়ের অভিনয় আলোচনায় থাকলেও মুক্তির পর তার জায়গা নিয়েছে অক্ষয় খান্না অভিনীত রেহমান ডাকাত চরিত্রটি। পাকিস্তানের করাচির গ্যাংস্টার রেহমান ডাকাতের ছায়া অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে অক্ষয়ের চরিত্রটি।
তবে চলতি বছরটি ‘অক্ষয়ের বলে’ মন্তব্য করেছেন সিনেমা বিশ্লেষকদের কেউ কেউ। তাদের ভাষ্য, ‘ছাবা’ সিনেমা এতদূর এগিয়েছে অক্ষয়ের ডানায় ভর করে। লক্ষ্মণ উতেকরের ‘ছাবা’ সিনেমায় আওরঙ্গজেব চরিত্রে তাক লাগিয়ে দেন অক্ষয়।
১৯৯৭ সালে ‘হিমালয় পুত্র’ সিনেমা দিয়ে বড় পর্দায় নাম লেখানো অক্ষয় নায়ক, খলনায়ক নানা চরিত্রে কাজ করেছেন। তবে ১৯৭৫ সালে জন্ম নেওয়া এই অভিনেতা সংসার জীবনে এখনো একা। এনডিটিভি লিখেছে, এই একার জীবন নিয়ে অক্ষয়ের ভাষ্য, কোনো ঘটনা বা কারো চাপের বশে তিনি বিয়ে করতে চান না।
তিনি বলেন, “সঠিক জীবনসঙ্গিনী নির্বাচন করে তবে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। আপনি পরিবারের চাপে যদি বিয়ে করেন, তাহলে সেটি ভুল হবে।”
নিজেকে সংসার করার জন্য উপযুক্ত মানুষ বলে মনে করেন না তিনি।
অক্ষয়ের কথায়, “আমি এ ধরনের জীবনের জন্য প্রস্তুত নই। বিয়ে করতে চাই না। বিয়ে একটি প্রতিশ্রুতি, যা জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আনে।”
২০১৬ সালে, বোম্বে টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে, বিয়ে থেকে নিজেকে দূরে রাখার পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন।
“আমি এখন আরও বেশি প্রতিশ্রুতি-ভীতু। আগে আমি এমন ছিলাম না, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে, সম্পর্কের ব্যাপারে আরও সতর্ক হয়েছি। বিয়ে ব্যাপারটার সাথে অনেক কিছু জড়িত যে আমি একা থাকাটাই উপভোগ করি।”
অক্ষয় বেশি আলোচিত হয়েছিলেন ১৯৯৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আ আব লটে চলে’ সিনেমা করে।
তার ‘তাল’, ‘দিল চাহতা হ্যায়’, ‘হামরাজ’, ‘হালচাল’, ‘গান্ধী, মাই ফাদার’সহ আরো বহু সিনেমা দিয়ে করেছেন তিনি। বিশেষ করে ‘তাল’ সিনেমা অক্ষয়-ঐশ্বরিয়া জুটি সে সময় আলো ছড়ায়।
অক্ষয়ের ক্যারিয়ার কিছুটা খারাপ হতে শুরু করে ২০১০ সালের পর। ধীরে ধীরে হারাতে বসেন তিনি।
তবে অক্ষয়ের প্রত্যাবর্তন হয় ‘ইত্তেফাক’ সিনেমা দিয়ে।