Published : 13 Apr 2026, 05:52 PM
শেষযাত্রার আগে কাছের মানুষ, ভক্তদের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন ভারতীয় কিংবদন্তী কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে।
শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিকাল ৪টায় শিবাজী পার্ক শ্মশানে শেষকৃত্য হবে তার। চার বছর আগে এখানেই শেষকৃত্য হয়েছিল আশার বড় বোন আরেক কিংবদন্তী লতা মঙ্গেশকরের।
পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে শেষ বিদায় জানাতে পুলিশের একটি দল সোমবার লোয়ার প্যারেলে আশা বাসভবন কাসা গ্রান্দেতে পৌছাঁয়।
সর্বস্তরের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এদিন শিল্পীর মরদেহ তার বাসভবনের লবিতে রাখা হয়।
আশা ভোঁসলের শেষকৃত্যে যোগ দেবেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফদনবিস।
এর আগে রোববার সন্ধ্যায় ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতাল থেকে শিল্পীর মরদেহ তার বাসভবনে নেওয়ার পর শ্রদ্ধা নিবেদনে করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুম্বাইয়ের এই হাসপাতালেই রোববার জীবনাবসান ঘটে ৯২ বছর বয়সী এই কিংবদন্তীর।
ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে আগের দিন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ভর্তি করা হয়েছিল হাসপাতালে।
আট দশকের বেশি সময় ধরে ২০টি ভিন্ন ভাষায় ১১ হাজারেরও বেশি গান গেয়ে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে স্থান পাওয়া শিল্পী আশা ভোঁসলে। তার জন্ম ১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর।
বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের হাত ধরে সংগীতজীবনে পা রেখেছিলেন আশা ভোঁসলে। সময়টা ছিল ১৯৪৩ সাল। প্রথম প্লেব্যাক করেন মারাঠি সিনেমায়।
এরপর ১৯৪৮ সালে ‘চুনারিয়া’ সিনেমায় ‘খাতু আয়া’ গানের মধ্য দিয়ে হিন্দি চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক জগতে তার যাত্রা শুরু। তিনি প্রথম এককভাবে হিন্দি গানে কণ্ঠ দেন ১৯৪৯ সালে। শাস্ত্রীয়, লোকসংগীত, পপ, গজলসহ বিভিন্ন ঘরানার গান গেয়ে ক্যারিয়ার সমৃদ্ধ তিনি।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আশা ভোঁসলে শর্মিলা ঠাকুর, আশা পারেখ, রেখা, উর্মিলা মাতণ্ডকর, কারিশমা কাপুর, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন থেকে শুরু করে শমিতা শেঠি পর্যন্ত আরও বহু অভিনেত্রীর জন্য গান গেয়েছেন।
সিনেমার গানের পাশাপাশি নানা ধরনের নিরীক্ষামূলক গানেও পারঙ্গমতার স্বাক্ষর রেখেছেন আশা ভোঁসলে।
আশা ভোঁসলের সর্বশেষ প্লেব্যাক করেন ২০২২ সালের জ্যাকি শ্রফ অভিনীত 'লাইফ'স গুড' সিনেমায়। 'রুত ভিগে তন' গানটি গেয়েছিরেন তিনি। এছাড়া ৯১ বছর বয়সে তার প্রয়াত স্বামী সংগীত পরিচালক রাহুল দেববর্মণকে উৎসর্গ করে 'সাইয়াঁ বিনা' নামে একটি একক গান প্রকাশ করেন।
ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মান ‘দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার’-এ ভূষিত হয়েছেন আশা ভোঁসলে এবং ‘পদ্মবিভূষণ’ও অর্জন করেছেন।
এসব সম্মাননার পাশাপাশি ১৯৮১ সালে ‘উমরাও জান’ সিনেমার তিনি প্রথমবার জাতীয় পুরস্কার পান, দ্বিতীয় জাতীয় পুরস্কার তার ঘরে আসে ১৯৮৮ সালে ‘ইজাজত’ সিনেমার জন্য। এছাড়া ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও জিতেছেন তিনি। পেয়েছিলেন গ্র্যামিতে মনোনয়নও।
আশা ও রাহুল: সুরের সহচর, প্রেমের সঙ্গী
কণ্ঠের যে জাদু আশা ভোঁসলেকে করে তোলে প্লেব্যাক সুপারস্টার
আশা ছিলেন বলিউডের মানুষের 'স্বজন'
আশাজির সঙ্গে আমার ছিল অন্তরের সম্পর্ক: রুনা লায়লা
কত সম্পদ রেখে গেছেন আশা ভোঁসলে?
যন্ত্রণাময় দাম্পত্য থেকে আত্মহননের চেষ্টা, আশার জীবনের এক অধ্যায়