চিকিৎসককে ধর্ষণ-হত্যা: প্রতিবাদী পদযাত্রায় কলকাতার অভিনয় শিল্পীরা
প্রতিবাদী পদযাত্রায় শিল্পীরা এই অপরাধের বিচার চেয়ে স্লোগান ধরেন। তাদের সঙ্গে শামিল হয়েছিলেন সাধারণ নাগরিকরাও।
কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নারী চিকিৎসককে ধর্ষণের পর হত্যার প্রতিবাদে পদযাত্রা করেছেন নাটকের অভিনয় শিল্পীরা।
আনন্দবাজার লিখেছে, সুজন নীল মুখোপাধ্যায়, পৌলমী বসু, সুদীপ্তা চক্রবর্তী, চৈতি ঘোষাল, বাদশা মৈত্র, অনির্বাণ চক্রবর্তী, দেবদূত ঘোষ, সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়সহ কয়েক প্রজন্মের শিল্পীরা কলকাতার গিরিশ মঞ্চ থেকে পায়ে হেঁটে শনিবার রাতে আরজি কর হাসপাতালে পৌঁছান।
প্রতিবাদী পদযাত্রায় শিল্পীরা এই অপরাধের বিচার দাবিতে স্লোগান ধরেন। তাদের সঙ্গে শামিল হন সাধারণ নাগরিকরাও।
অভিনেত্রী সুদীপ্তা বলেন, “আমরা নাট্যকর্মী। সবাই বলে থাকেন, আমাদের কাজ রং মেখে সং সাজা। তা হলে সেই কাজ ছেড়ে পথে নামতে হচ্ছে কেন? এটা তো আমাদের কাজ নয়।”
“মৃতা তরুণী চিকিৎসকের জন্য ন্যায়বিচার চাওয়ার পাশাপাশি নারী সুরক্ষার জন্য আরও কয়েকটি দাবি আমাদের আছে। আমরা সেসব সাধারণের কাছে পৌঁছে দিতে পথে নেমেছি,” বলেন অভিনেতা সুজন নীল মুখোপাধ্যায়।
হাসপাতালে পৌঁছে সেখানে অবস্থানরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন নীল, সুদীপ্তা, বাদশারা।
হাসপাতাল চত্বরে অভিনেতা বাদশা বলেন, “প্রভাবশালীরা দিনের শেষে বিলাসবহুল ঘরে আরামে ঘুমোন। আর যারা আমাদের নতুন জীবন দেন, সেই চিকিৎসকেরা সেমিনার হলে রাত্রিযাপন করেন! এত বৈষম্য কেন?”
এ সময় অভিনয় শিল্পীরা মোমবাতি জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা জানান নিহত চিকিৎসকের প্রতি।
বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলেও প্রত্যয় জানান তারা।
নাট্যাভিনেতাদের পাশাপাশি আগের দিন শহরে প্রতিবাদী মিছিলে হেঁটেছিলেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, পরিচালক অরিন্দম শীল, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, বিরসা দাশগুপ্ত, বিদীপ্তা চক্রবর্তী। তাদের ওই জমায়েতে অংশ নিয়েছিলেন অভিনেত্রী সোহিনী সরকার, শোভন গঙ্গোপাধ্যায়, শোলাঙ্কি রায়, অলিভিয়া সরকার, স্বস্তিকা মুখার্জি, শ্রীলেখা মিত্রসহ আরও অনেকে।
রোববারও সিনেমা জগতের শিল্পীদের জমায়েত হওয়ার কথা রয়েছে।
অভিনেতা-অভিনেত্রী-সংগীত শিল্পী এবং পরিচালকদের ভাষ্য, আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসকের মৃত্যু ও নির্যাতনে তারা চূড়ান্ত মর্মাহত এবং ক্ষুব্ধ। ওই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে জড়িতদের কঠিনতম শাস্তি দাবি করেছেন তারা।
প্রতিবাদের ঢেউ লেগেছে বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতেও।
পরিচালক ও প্রযোজক করণ জোহর সোশাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “গত কয়েক দিন ধরে এই ভয়াবহ ও ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। নারীদের নিরাপত্তা দিতে আমরা ব্যর্থ। সত্যিই এখনও আমার কাছে ভাষা নেই। এই ভয়ানক হত্যাকাণ্ড নিয়ে কী লেখা যায়! প্রশাসন যদি এই ঘটনায় বিচার দিতে ব্যর্থ হয়, তা হলে আমাদের আর কিছুই থাকবে না।
“এই ব্যর্থতার পরিণাম আমাদের সবাইকে ভোগ করতে হবে। সত্যিই এই ঘটনা আমার মন ভেঙে দিয়েছে, অসুস্থ করে দিয়েছে।”
প্রতিবাদ করেছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা অনুপম খেরও। তার ভাষ্য, “এই অপরাধের শাস্তি একটাই, সেটা মৃত্যু। আর অন্য কোনো শাস্তি হতে পারে না।”
এদিকে চলচ্চিত্রে জাতীয় পুরস্কার পাওয়া মেকআপ আর্টিস্ট সোমনাথ কণ্ডু তার পুরস্কার উৎসর্গ করেছেন নিহত চিকিৎসককে।
গত ৯ অগাস্ট কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় ধর্ষণের শিকার হন ৩১ বছর বয়সী এক শিক্ষানবিশ নারী চিকিৎসক। গত ৮ অগাস্ট থেকে তিনি টানা ৩৬ ঘণ্টার ডিউটিতে ছিলেন, রাতে সহকর্মীদের সঙ্গে খাবার খেয়ে তিনি পালমোনোলজি বিভাগের সেমিনার হলে বিশ্রাম নিতে যান। সেখানে সকালে তার মরদেহ পাওয়া যায়।
ময়নাতদন্তে নিহত চিকিৎসকের শরীরে চরম যৌন নির্যাতনের প্রমাণ মেলে। এরপরই উত্তাল হয়ে ওঠে আরজি কর হাসপাতালসহ পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। তখন থেকেই ওই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও চিকিৎসকদের কর্মবিরতি চলছে। ক্ষোভে-প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষেরাও।
পুরনো খবর
