১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আর জি কর কাণ্ড: মুখ্যমন্ত্রী মমতার পদত্যাগের দাবি নির্ভয়ার মায়ের

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে প্রতিবাদ মিছিলে সামিল হয়ে ‘মানুষের চোখে ধুলো দেওয়ার’ চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ আশা দেবীর।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Aug 2024, 03:31 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:16 AM

দিল্লিতে ২০১২ সালে দলগত ধর্ষণের পর হত্যার শিকার নির্ভয়ার মা আশা দেবী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ দাবি করেছেন। 

কলকাতায় একজন শিক্ষানবিশ নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পরে মমতা পরিস্থিতি সামাল দিতে ‘ব্যর্থ’ হয়েছেন বলে আশা দেবী মন্তব্য করেছেন।  

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, গত ৯ অগাস্ট কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় ধর্ষণের শিকার হন ৩১ বছর বয়সী এক শিক্ষানবিশ নারী চিকিৎসক। তার সহকর্মী ও চিকিৎসকরা এ ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ করছেন।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে আশা দেবী বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে প্রতিবাদ মিছিলে সামিল হয়ে ‘মানুষের চোখে ধুলো দেওয়ার’ চেষ্টা করছেন। এই মামলায় দোষীদের মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে চলতি সপ্তাহে একটি মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে আশা দেবী বলেন, "দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনগণের বিশ্বাস নিয়ে খেলছেন, তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। তিনি নিজে একজন নারী। রাজ্যপ্রধান হিসেবে তার দায়িত্ব দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। 

“সেটা না করে তিনি জনগণের যৌক্তিক দাবীর ভুল ব্যাখ্যা করছেন। যেহেতু তিনি পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ, তাই এখনই তার পদত্যাগ করা উচিত।”

দেবী আরও বলেন, যতক্ষণ না কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার গুরুত্ব দিয়ে ধর্ষকদের জন্য আদালতের কাছে দ্রুত শাস্তি চাইছে, ততক্ষণ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই ধরনের নৃশংসতা চলতেই থাকবে।

“যেখানে কলকাতার মেডিকেল কলেজের মেয়েরা সুরক্ষিত নয়, সেখানে দেশে অন্য নারীরা ঠিক কতটা নিরাপদ সেটা বোধয় বলার অপেক্ষা রাখে না,” বলেন তিনি।  

কলকাতায় শিক্ষানবিশ চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় দেশজুড়ে বিক্ষোভের মধ্যে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সব রাজ্যকে প্রতি দু'ঘণ্টা অন্তর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের সমস্ত রাজ্য পুলিশ বাহিনীকে মেইল, ফ্যাক্স বা এমনকি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রতি দুই ঘন্টা অন্তর রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।