Published : 19 Apr 2026, 03:08 PM
প্রায় তিন দশক আগে লাকী আখান্দের সুর করা একটি গান এখন প্রচারে এসেছে।
'যার কাছে মন রেখে' শিরোনামের গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন তরুণ মুন্সী, গানের কথা লিখেছেন গোলাম মোর্শেদ।
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘গান জানালার’ ইউটিউব চ্যানেলে শোনা যাচ্ছে গানটি।
গানটি তৈরির পিছনের গল্প বলেছেন গোলাম মোর্শেদ। বলেন, “সময়টা ১৯৯৮ সাল। তখন লাকী আখান্দ আমার ধানমন্ডির অফিসে প্রায় নিয়মিতই সন্ধ্যার পরে গানের আড্ডা দিতে আসতেন। সেখানেই কোনো এক সন্ধ্যায় গানটি লেখা হয়েছিল। আমার জীবনের একটা বড় অংশ জুড়ে আছেন লাকী ভাই। শুধু তাকে ভেবেই অনেক গান আমার লেখা হয়েছে।
“'যার কাছে মন রেখে' গানটি দেখার পর লাকী ভাই নিজেই সুর করেছিলেন সেসময়। কিন্তু তার আর গাওয়া হয়ে উঠেনি। তিনি চলে যাবার পর আমিও গানটি এভাবেই রেখে দিয়েছিলাম।"
গান প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে এই গীতিকার বলেন, এই কাজ করার চিন্তাভাবনা তার মধ্যে সবসময়ই ছিল।
ভেতরের তাগিদের কথা তুলে ধরে গোলাম মোর্শেদ বলেন, “একটা সময় এসে মনে হল গানটি প্রকাশ করতে হয় লাকী ভাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে। তখন মনে হলো এই গান তরুণ মুন্সীর চাইতে ভালো কেউ গাইতে পারবে না। আমার সেই বিশ্বাস তরুণ রেখেছে। অসাধারণ করে সে গেয়েছে গানটি। শ্রোতারাও গানটি পছন্দ করবেন এমন প্রত্যাশা করছি।"
গানটি নিয়ে গায়ক তরুণ মুন্সী বললেন, "এ এক অন্যরকম অনুভূতি। লাকী ভাইয়ের জন্য লেখা গান আমি কখনো গাইবো তা স্বপ্নেও ভাবিনি। আমাকে গোলাম মোর্শেদ ভাই যখন গানটির কথা বললেন আমি এক অদ্ভুত ভালো লাগায় ডুবে গিয়েছিলাম। ছোটবেলা থেকে যার গান শুনে বড় হয়েছি , যাকে অনুসরণ করেছি মিউজিকের জন্য তারই গান গেয়েছি ,এটা আসলে বলে বোঝানো সম্ভব না।
“আমি বর্তমান সময়কে মাথায় রেখে লাকী ভাইয়ের কম্পোজিশন ঠিক রেখে নিজের মত করে গেয়েছি গানটি। শ্রোতারা গানটি ভালো লাগবে।"
গানটির মিউজিক ভিডিওটি পরিচালনা করেছেন রুমকী রুসা ও মাশরুর হোসাইন ।
সুরের ভাণ্ডার লাকী আখান্দ
পাশ্চাত্যের অনুকরণ নয়, দেশীয় সুরের সঙ্গে পশ্চিমা ধারার সংমিশ্রণ ঘটিয়ে মনে রাখার মত মেলোডি গান তৈরি করে বাঙালির হৃদয়ে চিরন্তন জায়গা করে নেন লাকী আখান্দ।
২০১৭ সালের ২১ এপ্রিল ফুসফুসের ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ে হেরে চির বিদায় নেন এই শিল্পী।
লাকী চারশর বেশি অপ্রকাশিত গান রেখে গেছেন এমন তথ্য গ্লিটজকে জানিয়েছিলেন তার ঘনিষ্ঠজন গীতিকার আসিফ ইকবাল। গানগুলো প্রকাশের দায়িত্বও তিনি দিয়ে গেছেন পরিবারের হাতেই।
সেসময় লাকী আখান্দের স্ত্রী মরিয়ম আখান্দ বলেছিলেন, “লাকীর গানতো সবাই গাইতে পারে না। যারা ভালোভাবে গাইতে পারে তাদেরকে দিয়েই গানগুলো গাওয়ানোর পরিকল্পনা আছে।”
লাকী আখান্দ মৃত্যুর আগে বারবার নির্দেশনা দিয়ে গেছেন,“গানগুলো যে গাইতে পারে, তাকে দিও। যে গাইতে পারে না তাকে দিয়ে গানগুলো নষ্ট করো না।” এমনটাই জানিয়েছিলেন তার স্ত্রী।
লাকী আখান্দ, আধুনিক বাংলা সংগীতের খ্যাতিমান শিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক। পাঁচ বছর বয়সেই তিনি তার বাবার কাছ থেকে সংগীত বিষয়ে হাতেখড়ি নেন। আজন্ম সংগীতের সারথী এই শিল্পী শৈশব পেরোতেই সুযোগ পেয়ে যান এইচএমভিতে। তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
কুমার বিশ্বজিৎ এর কণ্ঠে ‘যেখানে সীমান্ত তোমার’, আইয়ুব বাচ্চুর ‘কী করে বললে তুমি’, আর্কের হাসানের ‘হৃদয়ের দুর্দিনে যাচ্ছে খরা’- এর মত অনেক জনপ্রিয় গানের সুরারোপ করেন তিনি।
‘লিখতে পারি না কোনো গান আজ তুমি ছাড়া’ ব্যান্ডতারকা জেমসের গাওয়া জনপ্রিয় এই গানের সুরসংযোজনা ও সংগীতপরিচালনা করেছেন লাকী আখান্দ।
‘কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে’, ‘আবার এল যে সন্ধ্যা’, ‘কে বাঁশি বাজায়রে’, ‘স্বাধীনতা তোমাকে নিয়ে’, ‘নীল নীল শাড়ি পরে’, ‘পাহাড়ি ঝর্ণা’, ‘হঠাৎ করে বাংলাদেশ’সহ বহু গানে সুরারোপ ও সংগীতায়োজন করেছেন তিনি। তার নিজের সুর করা গানের সংখ্যা দেড় হাজারেরও বেশি।