৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

এখন ভাবতে হবে, নতুন কী করব: প্রসেনজিৎ

প্রসেনজিৎ বলেন, গত দশ-বারো বছর ধরে তিনি নতুন নতুন চরিত্র খোঁজার সংগ্রাম করে চলেছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 30 Sep 2026, 10:00 PM

Updated : 30 Sep 2026, 10:00 PM

কয়েকটা প্রজন্ম যার সিনেমা দেখে বড় হয়েছে, তিনি কলকাতার অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। বাণিজ্যিক ঘরানার সিনেমা করে কয়েক দশক কাটিয়ে দেওয়ার পর ২০১০ সালের পর থেকে কাজে ভিন্নতা আনেন তিনি। যেসব কাজে প্রসেনজিৎকে ‘অভিনেতা’ হিসেবে আবিষ্কার করে দর্শক।

প্রসেনজিতের ৬৪তম জন্মবার্ষিকী বুধবার। কাজে তার বিরাম নেই। নতুন কি ধরনের কাজের কথা ভাবছেন জানতে চাইলে কলকাতার বাংলা দৈনিক আনন্দবাজারকে বলেন, ‘‘সেটাই চিন্তার। এত চরিত্র করে ফেলেছি। এখন ভাবতে হয়, নতুন আর কী করব!’’

নিজেকে অভিনেতা হিসাবে ভাঙাগড়ায় বিশ্বাস রাখেন-বরাবর তা বলে এসেছেন প্রসেনজিৎ। কয়েক মাসের ব্যবধানে তাকে দেখা যাচ্ছে রকস্টার এবং ডাক্তার রূপে, দুটি সিনেমায়।

প্রসেনজিৎ বলেন, “কাজ নিয়ে সংগ্রাম করতে হচ্ছে। সহজে আর এ রকম চরিত্র আসছে না, যা আগে করিনি। ভাঙাচোরারও তো একটা সীমা আছে। আর আলাদা কী করব, বুঝে উঠতে পারছি না।’’

তবে তিনি মনে করেন, গত দশ-বারো বছর ধরে চলা চরিত্র খোঁজার সংগ্রাম তার একান্ত নিজের। যে কারণে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তা হল বছরে দুটি সিনেমা করবেন কেবল বাণিজ্যের কথা মাথায় রেখে। আরও দুটো করবেন, যা তার পছন্দের।

অভিনেতার কথায়, “আমার কাছে কেউই খুব সাধারণ চরিত্র নিয়ে আসেন না। যাতে নতুন কিছু করার আছে, তেমনই জিনিস নিয়ে আসেন।’’

তিনি বলেন, ‘‘আমাদের যেমন মাল্টিপ্লেক্সে ছবি দেখাতে হবে, তেমনই যারা এ সব জায়গায় যান না, তাদের কাছেও সিনেমা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।’’

এক সময়ে বাংলা সিনেমার শো হাউসফুল হত, সেই সব দর্শককে ফেরাতে সাধারণ সিনেমা হল দরকার বলে মনে করেন প্রসেনজিৎ।

১৯৬৮ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে হৃষিকেশ মুখার্জির ‘ছোট্ট জিজ্ঞাসা’ সিনেমায় প্রথম পর্দায় আসেন অভিনেতা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ছেলে প্রসেনজিৎ। আর ১৯৮৭ সালে সুজিত গুহের ‘অমর সঙ্গী’তে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পান। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি এই নায়ককে, একের পর এক হিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন ভক্তদের।

নব্বই দশকের শুরুতে ডেভিড ধাওয়ানের 'আঁধিয়ান' দিয়ে বলিউডে অভিষেক হয়েছিল প্রসেনজিতের। এর আগে সালমান খান অভিনীত ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ করারও প্রস্তাব এসেছিল অভিনেতার কাছে। এছাড়া তিনি কাজ করেছেন ‘সাংঘাই’ নামের একটি সিনেমাতে।

তবে প্রসেনজিৎকে 'অভিনেতা' হিসেবে তুলে ধরেন প্রয়াত নির্মাতা ঋতুপর্ণ ঘোষ, ২০০৩ সালে তার 'চোখের বালি' সিনেমায়। এর পর থেকে ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক সিনেমা থেকে দূরে সরে যান অভিনেতা।

২০১০ সালে নির্মাতা সৃজিত মুখার্জির হাত ধরে 'অটোগ্রাফ' সিনেমা এবং পরে একের পর এক গল্প ও চরিত্রনির্ভর সিনেমা করে নিজেকে 'অন্য মাত্রায়' তুলে ধরেন প্রসেনজিৎ। প্রশংসিত হয়েছে ‘কাকাবাবু’ সিরিজে অভিনয় করে।

তবে ওটিটিতে তার হাতেখড়ি হয়েছে হিন্দি সিরিজ দিয়ে। ২০২২ সালে ওয়েব সিরিজ 'স্কুপ' ও ‘জুবলি’ দিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি।