‘জাদুকর সত্যচরণ’: এবার প্রসেনজিৎ ‘জাদুকর’
১৯৬৮ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে হৃষিকেশ মুখার্জির ‘ছোট্ট জিজ্ঞাসা’ সিনেমায় প্রথম পর্দায় আসেন প্রসেনজিৎ।
পশ্চিমবঙ্গের অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় তার আগামী সিনেমা ‘জাদুকর সত্যচরণ’-এ জাদুবিদ্যা নিয়ে হাজির হচ্ছেন।
স্টারমার্ক সিনেমাজ এন্টারটেইনমেন্ট-এর প্রযোজনায় তৈরি এই সিনেমায় নাম ভূমিকায় দেখা যাবে প্রসেনজিৎকে। প্রথম ঝলকেই রহস্যময় এক চরিত্রের আভাস মিলেছে। জাদু, রহস্য এবং অ্যাডভেঞ্চারে মোড়া এক দুনিয়ার আভাস তৈরি করেছে অভিনেতার এই ছবি।
কলকাতার সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’ জানিয়েছে, প্রসেনজিতের সাজ, অভিব্যক্তি অজানা জগতের ইঙ্গিত দেয়। তবে সত্যচরণের চরিত্র সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আনেনি নির্মাতারা।
‘জাদুকর সত্যচরণ’ তৈরি হচ্ছে লেখক হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্তের সৃষ্টি করা চরিত্র ও গল্প অবলম্বনে। সাহিত্যিকের তৈরি সেই জগতকে সিনেমার ভাষায় নতুন করে তুলে ধরছেন নির্মাতারা। চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন সব্যসাচী চৌধুরী।
তবে শুধু সাহিত্যকে পর্দায় পুনর্নির্মাণ করাই এই সিনেমার উদ্দেশ্য নয়। বরং গল্পের চরিত্র, রহস্য এবং জাদুর আবহকে আরও বিস্তৃত করে একটি বড়পর্দার উপযোগী সিনেম্যাটিক জগত তৈরি করতে চাইছেন নির্মাতারা।
জাদু ও রহস্যকে শুধুমাত্র সংলাপ বা গল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দৃশ্যের মাধ্যমে দর্শকের সামনে তুলে ধরাই নির্মাতাদের লক্ষ্য।
কদিন আগে মুক্তি পেয়েছে অভিনেতার ‘ডাক্তার কাকু’ সিনেমাটি। চিত্রনাট্যে দেখানো হয়েছে, বাবা-ছেলে দুজনেই চিকিৎসক। কিন্তু পেশা এবং মানুষের প্রতি দায়িত্ব প্রসঙ্গে তাদের ভাবনায় পার্থক্য রয়েছে। ব্যক্তিগত মতপার্থক্যের সঙ্গে যখন রোগীর জীবন বাঁচানোর দায়িত্ব এসে মিশে যায়, তখন সম্পর্কের সেই টানাপোড়েনই সিনেমার মূল বিষয় হয়ে ধরা দেয়
১৯৬৮ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে হৃষিকেশ মুখার্জির ‘ছোট্ট জিজ্ঞাসা’ সিনেমায় প্রথম পর্দায় আসেন অভিনেতা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ছেলে প্রসেনজিৎ। আর ১৯৮৭ সালে সুজিত গুহের ‘অমর সঙ্গী’তে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পান। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি এই নায়ককে, একের পর এক হিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন ভক্তদের।
নব্বই দশকের শুরুতে ডেভিড ধাওয়ানের 'আঁধিয়ান' দিয়ে বলিউডে অভিষেক হয়েছিল প্রসেনজিতের। এর আগে সালমান খান অভিনীত ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ করারও প্রস্তাব এসেছিল অভিনেতার কাছে। এছাড়া তিনি কাজ করেছেন ‘সাংঘাই’ নামের একটি সিনেমাতে।
তবে প্রসেনজিৎকে 'অভিনেতা' হিসেবে তুলে ধরেন প্রয়াত নির্মাতা ঋতুপর্ণ ঘোষ, ২০০৩ সালে তার 'চোখের বালি' সিনেমায়। এর পর থেকে ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক সিনেমা থেকে দূরে সরে যান অভিনেতা।
২০১০ সালে নির্মাতা সৃজিত মুখার্জির হাত ধরে 'অটোগ্রাফ' সিনেমা এবং পরে একের পর এক গল্প ও চরিত্রনির্ভর সিনেমা করে নিজেকে 'অন্য মাত্রায়' তুলে ধরেন প্রসেনজিৎ। প্রশংসিত হয়েছেন ‘কাকাবাবু’ সিরিজে অভিনয় করে।
তবে ওটিটিতে তার হাতেখড়ি হয়েছে হিন্দি সিরিজ দিয়ে। ২০২২ সালে ওয়েব সিরিজ 'স্কুপ' ও ‘জুবলি’ দিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি।
