Published : 29 Aug 2025, 03:50 PM
খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে ৩০টিরও বেশি কার্ড বানাল শিশুরা; তারাই মঞ্চস্থ করল পাপেট শো।
শুক্রবার সকালে ঢাকার মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে নাট্যসংগঠন বটতলার এ আয়োজন দেখা গেল।
বটতলার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (২৭ অগাস্ট) উপলক্ষ্যে নাট্যদলটি বিচিত্র আয়োজন সাজিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে ‘মুস্তাফা মনোয়ার জয়ন্তী’ শিরোনামে অর্ধদিনের এ আয়োজন করা হয়।
জটিল রোগে আক্রান্ত মুস্তাফা মনোয়ার অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পারলেও তার পরিবারের কাছে শিশুদের বানানো কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বটতলার যোগাযোগ বিষয়ক পরিচালক হুমায়ূন আজম রেওয়াজ।
বটতলা বলছে, “শিশুদের আন্দমুখর দিনই হোক মুস্তাফা মনোয়ারের জন্মদিনের উপহার।”

‘অভিনয়ে হাতেখড়ি’, অ্যাক্টরস' স্টুডিও এবং বটতলার এই আয়োজনে শিশুরা আনন্দে মেতেছিল নাটকের প্রদর্শনী, বই আর ছবি আঁকায়।
সকাল ৯টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে শিশুরা অংশ নেয় ‘আঁকিবুকি কর্মশালায়’। এ সময় তারা জন্মদিনের কার্ড বানায়। পরে পাপেট শো মঞ্চস্থ করে ইনভেন্টরস পাপেট ও টুগেদার উই ক্যান।
সবশেষে ছিল বটতলার ‘বন্যথেরিয়াম’ নাটকের প্রদর্শনী। মিলনায়তনের বহিরাঙ্গনে শিশুতোষ বইয়ের সম্ভার নিয়ে বসেছিল ‘ইকরিমিকরি’।
মুস্তাফা মনোয়ারের জন্ম ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর যশোরের শ্রীপুরে। তার বাবা কবি গোলাম মোস্তফার পৈত্রিক নিবাস ছিল ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। পাঁচ বছর বয়সে মা জমিলা খাতুন মারা যান। ছয় ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট তিনি।

নারায়ণগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে মুস্তাফা মনোয়ার কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে বিজ্ঞানে ভর্তি হন। সেখানে তিনি পড়াশোনা না করে কলকাতা চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৫৯ সালে কলকাতা চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয় থেকে ফাইন আর্টসে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন।
১৯৬৫ সালে মেরী মনোয়ারের সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের এক ছেলে সাদাত মনোয়ার ও এক মেয়ে নন্দিনী মনোয়ার।
মুস্তাফা মনোয়ার কর্মজীবন শুরু করেন পূর্ব পাকিস্তান চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে। পরে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের উপ-মহাপরিচালক, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ টেলিভিশন ঢাকার জেনারেল ম্যানেজার ও এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে কর্মরত ছিলেন।

এছাড়া জনবিভাগ উন্নয়ন কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ও এডুকেশনাল পাপেট ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।
শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০০৪ সালে একুশে পদক পাওয়া এই শিল্পী বর্ণিল কর্মজীবনে আরও অনেক পুরস্কার পেয়েছেন।
১৯৯০ সালে টিভি নাটকের জন্য টেনাশিনাস পদক, ১৯৯২ সালে চারুশিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে শিশু শিল্পকলা কেন্দ্র কিডস কালচারাল ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম কর্তৃক কিডস সম্মাননা পদক, ২০০২ সালে চিত্রশিল্প, নাট্য নির্দেশক এবং পাপেট নির্মাণে অবদানের জন্য শিশুকেন্দ্র থেকে বিশেষ সম্মাননা লাভসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।