Published : 29 Aug 2025, 01:29 AM
রূপকথার শেষটা সুখেরই হওয়ার কথা। প্রেম, বিচ্ছেদ আর ভেঙে যাওয়া স্বপ্নের এগারোটি অ্যালবামের পর টেইলর সুইফট যেন খুঁজে পেলেন নিজের ‘প্রিন্স চার্মিং’।
দুই বছরের সম্পর্কের পর অবশেষে বাগদানের ঘোষণা দিয়েছেন সুইফট ও কেনসাস সিটি চিফসের তারকা কেলসি—একই দিনে দুজনের একটি যৌথ ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ‘হ্যাপি এন্ডিং’-এর সেই মুহূর্তটি প্রকাশ্যে আসে। ফুলসজ্জিত পরিবেশে আংটি পরানোর ছবিগুলো মুহূর্তে ভাইরাল হয়; অভিনন্দনে সরব থাকে খেলাধুলা আর বিনোদন–দুই জগতই।
কিন্তু প্রশ্নটা এখানেই— ১১টি অ্যালবাম জুড়ে প্রেম, বিচ্ছেদ আর ভাঙা স্বপ্নের কাহিনী বলে যিনি বিশ্বজুড়ে শ্রোতাদের ছুঁয়েছেন, সেই সুইফটের ব্যক্তিজীবনের এই ‘হ্যাপি এন্ডিং’ কি বদলে দেবে তার গানের জগত?
প্রেম-ভাঙা, আবার প্রেম: গানের ভিতর সুইফটের ডায়েরি
সুইফটের বড় শক্তি, নিজের জীবনের গল্পকে সূক্ষ্ম, নির্দিষ্ট তথ্যের সঙ্গে প্রেম, আশা, বিশ্বাসঘাতকতা ও হৃদয়ভাঙার সার্বজনীন অনুভূতির বুননে গানে মিশিয়ে দেওয়া।
প্রথম সিঙ্গল ‘টিম ম্যাকগ্রো’ থেকে শুরু করে ‘অল টু ওয়েল’ (জেক জিলেনহল), ‘আই নিউ ইউ ওয়্যার ট্রাবল’ (হ্যারি স্টাইলস), ‘গেটঅ্যাওয়ে কার’ (টম হিডলস্টন)—প্রেম, বিভ্রান্তি, প্রতিশোধ—সবই ছিল তার লেখার মূল সুর। মিডিয়ার কটূক্তিকে তিনি মজা করে উড়িয়ে দিয়েছেন ‘শেইক ইট অফ’-এ, আর ‘ব্ল্যাঙ্ক স্পেস’-এ নিজেরই ‘সিরিয়াল ডেটার’ ইমেজকে ব্যঙ্গের চরিত্রে রূপ দিয়েছেন।
‘দ্য টর্চার্ড পোয়েটস ডিপার্টমেন্ট’-এর গান ‘বাট ড্যাডি আই লাভ হিম’-এ (২০২৪) তিনি ম্যাটি হিলিকে ঘিরে অনলাইনে ‘পিচফর্ক হাতে তোড়া করা পুরিতটানদের’ সঙ্গে সরাসরি আলাপ জুড়েছেন—“আমার নামটা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব আমি”—এমন আত্মবিশ্বাসী সুরে। সমালোচকেরা গানটিকে সেই সম্পর্ককে ঘিরে সমালোচনার জবাব হিসেবেই দেখেছেন।
‘সুখ’ কি সৃজনশীলতাকে নিস্তেজ করে?
সংগীতের ইতিহাস বলছে, কেবল বিচ্ছেদই ভালো গান বানায়—এমন নিয়ম নেই। কেউ কেউ বলেন, ‘বিবাহিত সুখ’ রক-এ প্যাশন কমিয়ে দেয়। আবার অন্যরা দেখান, পরিণত বয়সের প্রশান্তি নয়া ভাষা খুলে দেয়। ম্যাডোনার ‘রে অব লাইট’ মাতৃত্ব-পরবর্তী এক আধ্যাত্মিক সাউন্ডস্কেপ গড়েছিল; বিয়ন্সের ২০১৩ সালের স্ব-শিরোনামের অ্যালবাম বদলে দিয়েছিল আরঅ্যান্ডবির ভবিষ্যৎ বয়ান। টেইলর সুইফট নিজেও ‘ডেলিকেট’ ও ‘লাভার’-এ ছয় বছরের (জো অ্যালউইন) সম্পর্কে থেকে লেখা সুখের গান দিয়ে প্রমাণ করেছেন, কোমলতা মানেই দুর্বলতা নয়।
কেলসিকে ঘিরে ইতিমধ্যে যে গানগুলো
কেলসির ছায়া ‘টিটিপিডি’-তেও পড়েছে। ‘সো হাই স্কুল’-এ তার সৌজন্যতা—“দরজা খুলে দেওয়া”—টেইলরের পুরুষ-ভরসাকে ফিরিয়ে দেয়; ‘দ্য অ্যালকেমি’-তে সুপার বোল জয়ের মুহূর্তে ট্রফি ছেড়ে তার দিকে ছুটে আসা প্রেমিকের কথা গেয়েছেন তিনি।

সামনে কী: ‘দ্য লাইফ অব আ শোগার্ল’
এনগেজমেন্টের ঠিক আগে–পরে সুইফট যে দ্বাদশ অ্যালবাম ‘দ্য লাইফ অব আ শোগার্ল’ এর ঘোষণা দিয়েছেন, সেটি তার ভাষায় আগের চেয়ে ‘বেশি আপবিট’। ইউরোপীয় লেগে ‘এরাস’ ট্যুর চলাকালেই এর বড় অংশ রেকর্ড হয়। নিউ হাইটস পডকাস্টে কেলসি বলেছেন, গানগুলো ‘শুনতেই নাচতে ইচ্ছে করে’; পপ বিটের উপরেও টেইলরের ‘কবিতার মত’ রেফারেন্স বজায় আছে। অফিসিয়াল স্টোরে ১২ ট্র্যাকের সংস্করণও প্রি-অর্ডারে গেছে। কভারের নতুন ভিজুয়াল—শোগার্ল গ্ল্যাম—নিয়ে তুমুল আলাপ।
‘ডায়েরি’ থেকে কল্পকাহিনী—আরও এক মোড়?
আগের ‘গৃহস্থালি সুখ’-পর্বে (অ্যালউইন-যুগ) টেইলর ‘ফোকলোর’ ও ‘এভারমোর’-এ ডায়েরির বদলে কল্পগল্পকে বেছে নিয়েছিলেন—অর্গানিক অ্যাকুস্টিক সাউন্ডস্কেপে তিনি চরিত্র বানিয়েছেন, দুনিয়া বানিয়েছেন। সেই মোড় তার শিল্পী-স্বীকৃতি আরও পোক্ত করেছে; অনেকেই বলেন, সেটিই নতুন টেইলর সুইফটের জন্ম। তাই বিয়ের পরের অধ্যায়েও হয়ত তিনি নতুন বয়ান, নতুন কাঠামো খুঁজবেন—শুধু প্রেম নয়, বন্ধুত্ব, খ্যাতি, স্মৃতি, এমনকি ‘গৃহস্থ সুখের’ অন্তর্লীন দ্বন্দ্ব নিয়েও।
‘১৩’-এর মৌসুম?
‘সুইফটিরা’ মজা করে বলছেন—তার ‘লাকি নম্বর’ ১৩; বারো নম্বরের পরের অ্যালবামটাই হবে বিয়ের পরের প্রথম রেকর্ড। সত্যিই যদি ‘শোগার্ল’ সুখের সুরে দরজা খুলে দেয়, তাহলে ত্রয়োদশ অ্যালবাম হয়ত সেই সুখের জটিলতা—চুক্তি, গোপনতা, আলো–আঁধারির—আরেক স্তর খুলবে। সুখ মানেই নিস্তেজতা নয়; সুইফটের ক্ষেত্রে, সুখ হয়ত গল্প বলার নতুন সাহস।
টেলর সুইফট: ১২ অ্যালবামের টাইমলাইন
২০০৬: টেইলর সুইফট
২০০৮: ফিয়ারলেস
২০১০: স্পিক নাউ
২০১২: রেড
২০১৪: ১৯৮৯
২০১৭: রেপুটেশন
২০১৯: লাভার
২০২০: ফোকলোর
২০২০: এভারমোর
২০২২: মিডনাইটস
২০২৪: দ্য টর্চার্ড পোয়েটস ডিপার্টমেন্ট
২০২৫ (ঘোষিত): দ্য লাইফ অব আ শোগার্ল
[প্রতিবেদনটি তৈরি করতে পিপল ডটকম, এবিসি নিউজ, ইএসপিএন, কসমোপলিটন, সান এবং টেইলর সুইফট অফিসিয়াল স্টোর থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে।]