১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চাক নরিসকে মনে রাখার বার্তা স্ট্যালোন, শোয়ার্জনেগারসহ অ্যাকশন তারকাদের

১৯৭৩ সালে প্রথম চলচ্চিত্র ‘দ্য ওয়ে অব দ্য ড্রাগন’-এ রোমের কলোসিয়ামে মার্শাল আর্টস কিংবদন্তি ব্রুস লির সঙ্গে লড়াইয়ে নামেন নরিস।

গ্লিটজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Mar 2026, 11:22 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:14 PM

অ্যাকশন অভিনেতা চাক নরিসের বিদায়ে শোকাচ্ছন্ন হলিউড। মৃত্যুর কদিন পেরিয়ে গেলেও সোশাল মিডিয়ায় নরিসের সহকর্মীরা 

সাবেক কারাতে চ্যাম্পিয়ন ৮৬ বছর বয়সে মারা যান শুক্রবার। ‘কোড অব সাইলেন্স’, ‘মিসিং ইন অ্যাকশন’ আর ‘ডেল্টা ফোর্স’ সিনেমায় চাক নরিসকে সমাজের অসৎ মানুষদের পিটিয়ে সোজা করে দিতে দেখা যায়। আর টেলিভিশন সিরিজ ‘ওয়াকার, টেক্সাস রেঞ্জার’-এ তিনি আইনের শাসনকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেন।

সত্তর-আশির দশকের এই অভিনেতার চলে যাওয়ার পর থেকেই হলিউডের তারকারা একের পর এক বার্তা দিচ্ছেন ও তার সঙ্গে কাজ করা কিংবা সময় কাটানোর স্মৃতি রোমন্থন করছেন।

হলিউডের অ্যাকশন আইকন সিলভেস্টার স্ট্যালোন ২০১২ সালে এক্সপ্যান্ডেবলস টু সিনেমায় নরিসের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন। ওই সিনেমার পরিচালকও ছিলেন স্ট্যালোন।  

ইনস্টাগ্রামে এক বার্তায় বলেন, “চাকের সঙ্গে কাজ করাটা দারুণ ছিল। সে সব দিক থেকেই পুরোদস্তুর আমেরিকান ছিল। দারুণ একজন মানুষ। তার অসাধারণ পরিবারকে আমার তরফ থেকে সমবেদনা জানাই।”

এক্সপ্যান্ডেবলস টু দিয়ে প্রায় সাত বছর পর বড় পর্দায় ফেরেন নরিস। ওই সিনেমাতে স্ট্যালোনের সঙ্গে ছিলেন আরেক অ্যাকশন সুপারস্টার আর্নল্ড শোয়ার্জনেগারও।

এক এক্স বার্তায় শোয়ার্জনেগার লিখেছেন, “ফিটনেস প্রমোশন থেকে শুরু করে একই সিনেমায় কাজ করাসহ আমি তার (নরিস) সঙ্গে নানাভাবে কাজ করেছি, এবং সেগুলোর জন্য আমি কৃতজ্ঞ। তিনি পর্দা ও বাস্তব জীবনে আদতেই একজন দুর্ধর্ষ মানুষ ছিলেন। তার কিংবদন্তি সবসময় আমাদের সঙ্গে থাকবে। তার পরিবারের প্রতি আমার শ্রদ্ধা।”

আশির দশকে স্ট্যালোন, শোয়ার্জনেগারের সঙ্গে অ্যাকশন সিনেমায় পাল্লা দেয়া আরেক তারকা ডালফ লুন্ডগ্রেনও ছিলেন এক্সপ্যান্ডেবলস টুতে। নোরিসের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লুন্ডগ্রেন ইন্সটাগ্রামে লেখেন, “চাক নরিস একজন সত্যিকারের চ্যাম্পিয়নস। যখন আমি একজন তরুণ মার্শাল আর্টিস্ট ছিলাম ও সিনেমায় যোগ দেয়ার চেষ্টা করছিলাম তখন তিনিই ছিলেন আমার আদর্শ। আসল মানুষ হতে যে শক্তি, মানবিক গুণ ও শ্রদ্ধা থাকতে হয় সেগুলো সবই তার মধ্যে ছিল। বন্ধু, তোমাকে আমরা মিস করবো।”

আরেক অ্যাকশন আইকন জঁ-ক্লদ ভ্যান ড্যাম তার শোকবার্তায় লিখেছেন, “বন্ধু চাক নরিসের বিদায়ে আমার গভীর সমবেদনা। আমার ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তার সঙ্গে আমার পরিচয়। তাকে আমি সবসময় শ্রদ্ধা করেছি। তার পরিবারের প্রতি আমার প্রার্থনা ও সমবেদনা। তাকে কেউ কখনও ভুলবে না।” 

দুই ডজনের বেশি সিনেমায় নরিসকে দেখা গেছে ওয়ান ম্যান আর্মি, সৈনিক, আইনরক্ষক, যুদ্ধ-ফেরত যোদ্ধা এবং আদর্শ আমেরিকানের চরিত্রে, যারা অপরাধীদের ধরেন, যুদ্ধবন্দিদের মুক্ত করেন, জিম্মিদের উদ্ধার করেন এবং সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা করেন।

১৯৭৩ সালে প্রথম চলচ্চিত্র ‘দ্য ওয়ে অব দ্য ড্রাগন’-এ রোমের কলোসিয়ামে মার্শাল আর্টস কিংবদন্তি ব্রুস লির সঙ্গে লড়াইয়ে নামেন নরিস।

২০১২ সালের ব্লকবাস্টার ‘দ্য এক্সপেনডেবলস ২’ সিনেমায় অভিনেতা সিলভেস্টার স্ট্যালোন, আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার ও ব্রুস উইলিসের সঙ্গে খলনায়ক জ্যঁ-ক্লদ ভ্যান ড্যামকে পরাস্ত করতে দেখা যায় তাকে।

টাইম ম্যাগাজিন তাকে চিত্রিত করেছিল ‘দ্য আলটিমেট টাফ গাই’ হিসেবে। ১৯৮৫ সালে পত্রিকাটি লিখেছিল, “বি-গ্রেড অ্যাকশন সিনেমার জগতে সাবেক কারাতে চ্যাম্পিয়ন নরিস নিঃসন্দেহে সুপারস্টার হয়ে উঠেছেন।”

অ্যাকশনভরা সিনেমাগুলোতে তাকে গুলি এড়িয়ে যেতে, মারাত্মক সব ফ্লাইং কিক মারতে এবং একসঙ্গে একাধিক প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করতে দেখা যেত।

‘মাচো ম্যান’ ভাবমূর্তি তাকে বক্স অফিস ও টেলিভিশনে জনপ্রিয় করে তোলে। ১৯৯৩ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি ‘ওয়াকার, টেক্সাস রেঞ্জার’ সিরিজে সার্জেন্ট করডেল ওয়াকার চরিত্রে অভিনয় করেন, যিনি একজন ন্যায়নিষ্ঠ আইনরক্ষক এবং মার্শাল আর্ট বিশেষজ্ঞ সাবেক মেরিন।

২০০৫ সালে এক মার্কিন শিক্ষার্থী তার শারীরিক ক্ষমতা ও পৌরুষ নিয়ে তৈরি ‘চাক নরিস ফ্যাক্টস’ নামের কৌতুকগুলো ছড়িয়ে দিলে শ্মশ্রুমণ্ডিত এই অভিনেতা, লেখক ও প্রযোজক অনলাইনে কাল্ট হিরো হয়ে ওঠেন। সেগুলো ভাইরাল হয়ে বেশ কয়েকটি বইয়ের অনুপ্রেরণা জোগায়।

সেসব কৌতুকের একটিতে বলা হয়, চাক নরিস সকালে কফির বদলে এক মগ পেরেক খান! আরেকটি কৌতুক হল, চাক নরিস পুশ-আপ করেন না; তিনি আসলে পৃথিবীকে নিচে ঠেলে দেন।

চলে গেলেন 'ওয়াকারটেক্সাস রেঞ্জারতারকা চাক নরিস

‘চাক নরিস মারা যাননি, মৃত্যু শেষ পর্যন্ত তার সঙ্গে দেখা করার সাহস অর্জন করেছে’