Published : 21 Mar 2026, 08:51 AM
বেশ কয়েক বছর আগে দক্ষিণ ভারতের অভিনেতা রজনিকান্তর জন্য ওয়েবসাইট তৈরি করেছিলেন গুরবকশ সিং নামের এক ভদ্রলোক। অ্যাডেবি ফ্ল্যাশে তৈরি সাইটটি এমনভাবে ডিজাইন করা যে, শুরুতেই ব্রাউজার গোটা সাইটটি পিসিতে নামিয়ে ফেলে। তারপর পর্দায় এক নোটিস দেখায়–এই সাইট চলে রজনি পাওয়ারে। সাইটটি দেখতে হলে তাই ইন্টারনেট কানেকশন কেটে দাও!
বলা বাহুল্য, এই নকশার মূল বিষয় ছিল অভিনেতার ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ ইমেজ ধারণ করা।
রজনিকান্তর ওয়েবসাইট তৈরির উৎসাহ হলিউডের অভিনেতা চাক নরিসের ফ্যান বেইজ বা ইমেজ থেকে মিলেছে কি না, সেটা তর্কসাপেক্ষ। তবে, অনেক আগে থেকেই একই ইমেজ নিয়ে কাল্ট হয়ে ছিলেন চাক নরিস।
খৃষ্টান ধর্মবিশ্বাসের গভীর অনুরাগী নরিস ৮৬ বছর বয়সে চলে গেলেন স্বর্গ মাতাতে। ফেলে গেলেন একরাশ অনুরাগী আর তাকে নিয়ে তৈরি নানা গালগপ্পো।
পশ্চিমে অভিনেতাদের জন্য যত পুরস্কার আছে, তার কোনোটা কখনো চাক নরিসের হাতে ওঠার সাহস করেছে, এমনটা শোনা যায় না। তার আপন বলতে ছিল কারাতের জন্য টানা ছয়টি ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন খেতাব, আর অনেকগুলো ব্ল্যাক বেল্ট।
আর হলিউডের ‘ডাউন টু আর্থ’ এই অভিনেতা জায়গা পেয়েছেন ‘হলিউড বুলেভা’র ৭০১৮ নম্বরের কাছাকাছি ফুটপাথের ওপর বসানো এক সোনালি তারকায়, যে হাঁটাপথের নাম ‘হলিউড ওয়াক অফ ফেইম’।
কিন্তু এই চাক নরিসকে নিয়েই এমন সব মজার বাণী তৈরি হবে কেন? এর উত্তর রয়েছে তার অভিনীত চরিত্রগুলোয়।
একবারে সোজাসাপ্টা চলা আদর্শ আমেরিকান, যিনি সবসময় ন্যায়ের পক্ষে থাকেন, অন্যায় সহ্য করেন না, আর তাকে খেপিয়ে দিলে অসাধ্য সাধন করে ফেলেন–মোটাদাগে এই ছিল তার চরিত্রগুলোর চরিত্র। ফলে চাক নরিস হয়ে ওঠেন সাধারণ মানুষের মধ্যেই তাক লাগানো সক্ষমতার সমার্থক।
চাক নরিস কী কী করতে পারেন, সেসব নিয়ে ২০০৫ সালের দিকে একটি তালিকা বানান এক ভক্ত। ‘চাক নরিস ফ্যাক্টস’ নামের ওই তালিকা এরপর নানাজনের অবদানে সমৃদ্ধ হয়েছে।

এবারে বাছাই করা কিছু ‘চাক নরিস ফ্যাক্টস’ সম্পর্কে জানা যাক–
● চাক নরিস ঘড়ি পরেন না। কখন সময় কত হবে সেটা তিনি নিজেই ঠিক করেন।
● চাক নরিস কখনো বাঁয়ে ঘোরেন না, কারণ, ‘হি ইজ অলওয়েজ রাইট’।
● চাক নরিস বই পড়েন না। বইয়ের দিকে তাকালেই দরকারি বিষয় তার জানা হয়ে যায়।
● রেস্তোরাঁয় চাক নরিস ওয়েটারকে টিপস দেন না। ওয়েটারই উল্টা তাকে দেয়।
● চাক নরিসের চোখের জলে ক্যান্সার সারে। সমস্যা হল, তিনি কখনো কাঁদেন না।
● চাক নরিসের বাসায় চুলা, ওভেন বা মাইক্রোওভেন নেই। কারণ প্রতিশোধ নামের খাবারটি পরিবেশন করতে হয় ঠান্ডা।
● সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না, যদি না সেই মানুষটা চাক নরিস হন।
● চাক নরিস বাড়ি ছাড়ার সময় বাবাকে বলেছিলেন, “এখন থেকে তুমিই বাড়ির কর্তা।”
● চাক নরিস বুক-ডন দেন না। তিনি পৃথিবীকে নিচে ঠেলে দেন।
● চাক নরিসকে লাইট জ্বালিয়ে ঘুমাতে হয়, কারণ অন্ধকার তাকে ভয় পায়।
● ভূতের ভয় পাওয়ার গল্পের ভুত ঘুমানোর আগে বিছানার নিচে তাকিয়ে দেখে সেখানে চাক নরিস বসে আছে কি না।
● চাক নরিস সাঁতার কাটতে গেলে হাঙররা সমুদ্র ছেড়ে চলে যায়।
● মেঘ বৃষ্টি দেয় না। চাক নরিসকে দেখলে মেঘের ঘাম ঝরে।
● চাক নরিস জ্বালানির দাম নিয়ে চিন্তা করেন না। তার গাড়ি চলে ভয়ে।
● চাক নরিস রান্না করতে গেলে পেঁয়াজ কাঁদে।
● চাক নরিস আয়নায় তাকালে আয়না ভেঙে যায়। কারণ কাচও এত বোকা নয় যে দুই চাক নরিসের মাঝখানে দাঁড়াবে।
● ভূতেরা ক্যাম্পফায়ারে বসে চাক নরিসের গল্প বলে।
● চাক নরিস অসীম পর্যন্ত গুনেছেন। দুইবার।
● মহাকাশ আছে, কারণ সেটা চাক নরিসের সঙ্গে একই গ্রহে থাকতে ভয় পায়।
● পলকহীন তাকানোর প্রতিযোগিতায় চাক নরিস সূর্যকেও হারিয়েছেন।
● একবার এক গোখরা সাপ চাক নরিসকে ছোবল দিয়েছিল। পাঁচ দিন যন্ত্রণার পর বেচারা সাপটাই মারা গেল।
● যে কোনো সংখ্যাকে চাক নরিস শূন্য দিয়ে ভাগ করতে পারেন।
● চাক নরিসের ক্যালেন্ডারে ৩১ মার্চের পর সরাসরি ২ এপ্রিল আসে। তার ক্যালেন্ডারে এপ্রিল ফুলস ডে নেই।
● বিবর্তন তত্ত্ব বলে কিছু নেই। আছে প্রাণীদের এক তালিকা, চাক নরিস যাদের বাঁচতে দিয়েছেন।
● চাক নরিস দুইটা বরফের টুকরো ঘষে আগুন জ্বালাতে পারেন।
● চাক নরিস ভুল করলে ভুলটাই তার কাছে ক্ষমা চায়।
● আগুন চাক নরিসকে পোড়ায় না। চাক নরিস আগুনকে পোড়ান।
● চাক নরিসের কিবোর্ড লাগে না। তিনি কম্পিউটারকে বলেন, আর সেটা টাইপ করা হয়ে যায়।
● চাক নরিস কিন্তু মঙ্গলে গিয়েছেন। দেখেন না, সেখানে প্রাণের চিহ্ন নেই!
● সূর্য ওঠে আর ডোবে চাক নরিসের ঘুমের সময় অনুযায়ী।
● একবার পুলিশ চাক নরিসকে থামিয়েছিল। তিনি পুলিশকে সতর্ক করে ছেড়ে দিয়েছিলেন।
● চাক নরিস তার বাড়ির উঠানে ঘাস কাটেন না। ঘাসগুলোই বড় হতে ভয় পায়।
● চাক নরিস জীবনে একবারই ভুল করেছিলেন, যখন ভেবেছিলেন তিনি ভুল করেছেন।
● চাক নরিস আয়নায় তাকালে কোনো প্রতিবিম্ব দেখা যায় না, কারণ তিনি এক পিস।
● অভিনয়ের সময় চাক নরিস স্টান্ট ব্যবহার করতেন কেবল কান্নার দৃশ্যের জন্য।
● একবার তার নামে রাস্তার নাম রাখা হয়েছিল, পরে বদলাতে হয়েছে। কারণ, কেউ ওই রাস্তা পেরোতে সাহস করত না।
● যে হাসপাতালে চাক নরিসের জন্ম, সেটা তিনিই বানিয়েছিলেন।
● চাক নরিস কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছিলেন। এখন ভাইরাসটাই কোয়ারেন্টাইনে আছে।
● কিংবদন্তিরা চিরকাল বাঁচে। চাক নরিস তার চেয়েও বেশি দিন বাঁচেন।
আর সব শেষে যোগ হওয়া ‘ফ্যাক্ট’ হচ্ছে–চাক নরিস মারা যাননি। মৃত্যু শেষ পর্যন্ত তার সঙ্গে দেখা করার সাহস অর্জন করেছে।