Published : 27 Jan 2026, 12:38 PM
লগ্নজিতা চক্রবর্তী, স্নিগ্ধজিৎ ভৌমিকের পর এবার অনুষ্ঠান করতে গিয়ে কলকাতার সিনেমার অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী ‘হেনস্তার মুখে পড়েন’ বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংবাদ প্রতিদিন লিখেছে, বনগাঁর অনুষ্ঠানে দেরি করে পৌঁছনোর কারণে পারফরম্যান্সের মাঝেই মিমিকে জোর করে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে আয়োজক সংস্থার কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
বনগাঁ থানায় এ বিষয়ে মিমি অভিযোগও দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্তে নেমেছে।
ঘটনাটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করেছেন মিমি।
অভিনেত্রীকে ‘হেনস্তার অভিযোগে’ নাম উঠে আসছে তনয় শাস্ত্রী নামে এক জ্যোতিষীর। মিমি বলেন, নয়া গোপাল গুঞ্জ যুব সংঘের সদস্য তনয় শাস্ত্রীই তাকে ‘মঞ্চ থেকে নামিয়ে দিয়েছেন’।
ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে মিমি লিখেছেন, ‘মঞ্চে অসম্মান কখনও বরদাস্ত নয়’।
কলকাতার বাংলা দৈনিক আনন্দবাজারকে মিমি বলেন, “এই ধরনের ব্যবহার এই প্রথম পেলাম।
“তনয় শাস্ত্রীই আমাকে বলেন, ‘আপনি চলে যান’! আমি এতটাই হকচকিয়ে গিয়েছিলাম, যে প্রথমে বুঝতেই পারিনি, আমাকে বলা হচ্ছে। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে আমি তার দিকে ফের তাকাই ওই ব্যক্তির দিকে। তখনও একই কথার পুনরাবৃত্তি করেন তনয়।”
নিজের রাজ্যে শিল্পীদের হেনস্তা হওয়ার ঘটনায় উদ্বিগ্ন মিমি। বর্তমান পরিস্থিতি তাকে ভাবাচ্ছে, এ কথাও জানিয়েছেন তিনি।

মিমির কথায়, “আজ আমি এ রকম ঘটনার শিকার। তা হলে আগামী দিনে মঞ্চানুষ্ঠানে গিয়ে অন্য মহিলা শিল্পীও এ রকম ঘটনার শিকার হয়ে পারেন। তাই সকলেই সাবধান হোন। কার সঙ্গে, কোথায় যাচ্ছেন, সে বিষয়ে সতর্ক হোন।”
এই ঘটনার জেরে মিমির উপলব্ধি, “আমার আগেও অনেকের সঙ্গে এ রকম ঘটনা ঘটতে দেখেছি। তখন মনে হয়েছে, আমার সঙ্গে এ রকম কিছু হবে না। সেই ভুল ভেঙেছে। আমিও অনুষ্ঠান করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হলাম।”
তবে পুলিশ এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য জানায়নি।
ঘটনা কী ঘটেছিল?
গায়ক এবং অভিনেতারা কখনও শহরের বাইরে, জেলা শহরে, কখনও রাজ্যের বাইরে, বা দেশের বাইরে অনুষ্ঠান করতে যান।
রোববার বনগাঁর নয়া গোপাল গুঞ্জ যুব সংঘে মিমির তেমনইএকটি অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে পৌঁছতে তার ঘণ্টাখানেক দেরি হয়। এরপর তৈরি হয়ে তিনি মঞ্চে ওঠেন। অগণিত দর্শক তাকে দেখতে, তার সঙ্গে ছবি তুলতে উন্মুখ হয়ে ছিলেন। কিন্তু পারফরম্যান্সের মাঝে মিমিকে মঞ্চ থেকে ‘কার্যত জোর করে নামিয়ে দেওয়া হয়’।
দেরিতে কেন এসেছেন অভিনেত্রী? এই প্রশ্ন তুলে তাকে আর পারফর্ম করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন মিমি।
অভিনেত্রী আরও বলেন, যারা তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অপেক্ষা করছিলেন, তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। এবং সবটাই ঘটেছে আচমকা, কোনো আভাস ছাড়াই।
মিমির কথায়, “মঞ্চে এমন হেনস্তা কাম্য নয়, তা অসম্মানজনক। এখন এনিয়ে সরব না হলে এমন ঘটনা চলতেই থাকবে।”
উদ্যোক্তা ক্লাবের কর্মকর্তা রাহুল বসু, শোভন দাসসহ কয়েকজন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মিমি চক্রবর্তীকে অনুষ্ঠানে কোনো ধরনের ‘অসম্মান করা হয়নি’ ৷
শোভন বলেন, “উনি এক ঘণ্টা দেরি করে রাত সাড়ে ১১টার পর মঞ্চে ওঠেন৷ প্রশাসনের দেওয়া টাইম এবং মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের কথা ভেবে আমরা ঠিক রাত বারোটায় অনুষ্ঠান বন্ধ করি ৷ তার অনুষ্ঠান চলাকালীন অনুষ্ঠান বন্ধ ঘোষণায় অসম্মানিত মনে হতে পারে, কিন্তু আমরা তাকে সসম্মানে বিদায় দিয়েছি।”