Published : 25 Sep 2025, 03:45 PM
সেলিম আল দীনের অর্জিত বিভিন্ন পদক, পুরস্কার, নাটকের পাণ্ডুলিপি ও অন্যান্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র সংরক্ষণ ও রক্ষার জন্য ফেনীতে অবস্থিত সেলিম আল দীন যাদুঘরে জমা করতে নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুসহ চারজনকে লিগ্যাল নোটিস পাঠিয়েছেন সেলিম আল দীনের ভাইয়ের ছেলে সালাহ উদ্দিন শুভ্র।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিহাব উদ্দিন খান বৃহস্পতিবার শুভ্রের পক্ষে ডাকযোগে ওই নোটিস পাঠিয়েছেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
নোটিসপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন মো. কামরুল হাসান, আব্দুস সালাম ও নাসরিন সুলতানা বিলকিস।
শুভ্র বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, পদকসহ অন্যান্য সামগ্রী ফেনীতে সেলিম আল দীন কেন্দ্রে সংরক্ষণ করা হবে। তিনি এই কেন্দ্রের সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।
যাদের বিরুদ্ধে এই উকিল নোটিস পাঠানো হয়েছে, তারা সবাই প্রয়াত সেলিম আল দীনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
এর মধ্যে নাসির উদ্দীন ইউসুফ ছিলেন সেলিম আল দীনের অনেক বছরের বন্ধু। সেলিম আল দীনের বেশিরভাগ নাটকই মঞ্চে নির্দেশনা দিয়েছেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ।
সেলিম আল দীন ও নাসির উদ্দীন ইউসুফের হাত ধরেই গড়ে উঠেছে ঢাকা থিয়েটার, গ্রাম থিয়েটারের মতো বৃহৎ নাট্যসংগঠন, যা ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনকে আলোকিত করছে।
সেলিম আল দীনের নাট্যকার হয়ে ওঠার পেছনে ঢাকা থিয়েটার ও গ্রাম থিয়েটারের রয়েছে বড় ভূমিকা।
সালাহ উদ্দীন শুভ্রের অভিযোগ, “সেলিম আল দীনের অর্জিত ও ব্যবহৃত বিভিন্ন মূল্যবান দ্রব্য সামগ্রী, পদক, পুরষ্কার, নাটক ও অন্যান্য পাণ্ডুলিপি, ব্যবহার্য অন্যান্য সামগ্রী বেআইনিভাবে নিজেদের কাছে রেখেছেন চারজন।”
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আমরা নানাভাবে চেষ্টা করেও সেলিম আল দীনের পদক ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে লিগ্যাল নোটিস দিয়েছি। ১৫ দিনের মধ্যে জবাব না পেলে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।"
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাসির উদ্দীন ইউসুফ ও কামরুল হাসান বৃহস্পতিবার দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, তারা নোটিস হাতে পাননি।
কী অভিযোগ
নোটিসে বলা হয়েছে, "নাট্যকার সেলিম আল দীন একজন বিশ্বমানের নাট্যকার, লেখক, গবেষক ও নাট্য নির্দেশক ছিলেন। নাট্যজগতে তার অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ‘নাট্যাচার্য’ উপাধিতে ভূষিত ছিলেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পদকসহ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পদক ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন তিনি। এছাড়া তিনি অসংখ্য নাটক রচনা করে সুনাম কুড়িয়েছেন।
"তার এই সমস্ত পদক, পুরস্কার,পাণ্ডুলিপি, মূল্যবান দ্রব্য সামগ্রী ও তার ব্যবহার্য সামগ্রী জাতীয় সম্পদ এবং দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। বাংলাদেশের সংবিধানের ২৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের দায়িত্ব জনগণের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উত্তোরাধিকার সংরক্ষণ করা এবং জাতীয় ভাষা, সাহিত্য ও শিল্পকলা সমূহের পরিপোষণ ও উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।”
নোটিসে বলা হয়, “দুর্ভাগ্যজনক যে, প্রয়াত সেলিম আল দীনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুবিধা নিয়ে নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, মো. কামরুল হাসান, আব্দুস সালাম এবং নাসরিন সুলতানা বিলকিস সমস্ত স্মৃতিচিহ্ন, ব্যবহার্য জিনিসপত্র, পাণ্ডুলিপি, পদক ও পুরস্কারসমূহ নিজেরা ভাগাভাগি করে নিজেদের কাছে নিয়ে রেখেছেন যা ধীরে ধীরে সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং প্রদর্শনের অভাবে সেলিম আল দীন ভক্ত, গবেষক ও অনুরাগীরা সেগুলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।"
সেলিম আল দীনের জন্মস্থান ফেনীতে সেলিম আল দীন কেন্দ্র এবং সেই কেন্দ্রের অংশ হিসেবে ‘সেলিম আল দীন মিউজিয়াম’ রয়েছে, যা ২০০৯ সাল থেকে সচল রয়েছে বলে নোটিসে জানানো হয়।
সেখানে বলা হয়, "উক্ত কেন্দ্র ও যাদুঘরে অগণিত ভক্ত, অনুরাগী, দেশি-বিদেশি গবেষকরা নিয়মিত যাতায়াত করলেও সেলিম আল দীনের মূল্যবান এই সমস্ত পদক, পুরস্কার, পাণ্ডলিপি ও তার ব্যবহার্য জিনিসপত্রের দেখা পাচ্ছেন না, যা সবাইকে মর্মাহত করে চলেছে।"
নোটিসে অভিযোগ করা হয়, নোটিসদাতা বারবার সেসব সামগ্রী ফেরত দিতে বললেও নোটিস গ্রহণকারীরা ‘কর্ণপাত করেননি’ । বিশেষ করে নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু ‘বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী হওয়ায়’ নোটিসদাতাকে ‘অপমান, অপদস্থ’ করতেন এবং এসব জিনিস তার তত্ত্বাবধানে থাকবে বলে ‘ধমক’ দিতেন।
নোটিসদাতা সেলিম আল দীনের ভাতিজা হিসেবে উত্তরাধিকার আইনেও সমস্ত কিছু ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে তিনি সেগুলো সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন।
সেলিম আল দীনের সমস্ত পদক, পাণ্ডুলিপি, পুরস্কার, মূল্যবান দ্রব্য সামগ্রী ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র ফেরত দেওয়ার জন্য ১৫ দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে নোটিসে। তা না হলে উচ্চ আদালতে রিট মামলা করাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে সেখানে।