১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ভাইঝির বিয়ে, জামিন পেলেন রাজপাল যাদব

এই জামিনই রাজপাল যাদবের চূড়ান্ত অব্যাহতি নয়।

ভাইঝির বিয়ে, জামিন পেলেন রাজপাল যাদব
রাজপাল যাদব।

গ্লিটজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Feb 2026, 06:23 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:58 PM

এগারো দিন কারাভোগের পর জামিন পেলেন বলিউডের কৌতুক অভিনেতা রাজপাল যাদব। ভাইঝির বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সাময়িকভাবে সাজা স্থগিত করে যাদবকে জামিন দিয়েছে দিল্লি হাই কোর্ট।     

বলিউড হাঙ্গামা লিখেছে, ৯ কোটি রুপির চেক প্রত্যাবর্তন মামলায় সাময়িকভাবে সাজা স্থগিত করে যাদবকে জামিন দিয়েছে দিল্লি হাই কোর্ট।      

যাদবকে বৃহস্পতিবার তার ভাইয়ের মেয়ের বিয়েতে যোগ দেওয়ার সুযোগ দিতে অস্থায়ীভাবে মুক্তির অনুমতি দেয় আদালত। তবে এটি চূড়ান্ত অব্যাহতি নয়।

আগামী ১৮ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী শুনানিতে তাকে সরাসরি অথবা অনলাইনে উপস্থিত থাকতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।        

এর আগে গত ১২ ফ্রেব্রুয়ারি অভিনেতার জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল দিল্লি হাই কোর্ট। 

সেদিনের শুনানিতে বিচারপতি স্বর্ণা কান্ত শর্মা বলেন, “আদালতের আদেশের কারণে যাদব জেলে যায়নি। জেলে গেছেন, কারণ নিজের প্রতিশ্রুতি পালন করতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।”  

শুনানিতে আদালত বলেছে, যাদব নিজেই অভিযোগকারী পক্ষের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছেছিলেন। পরে সেই চুক্তির শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হন।

অভিনেতার আইনজীবী দাবি করেন, মামলার কার্যক্রম চলাকালে যাদব ‘ভুল পথে পরিচালিত’ হয়েছিলেন এবং এখন বিষয়টি মিটমাট করতে প্রস্তুত। তবে আদালত এই যুক্তি নাকচ করে দেন।

সেসময় বিচারপতি বলেন, “যাদব ২০ থেকে ৩০ বার আদালতে হাজির হয়েছেন। অন্তত পাঁচবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে তিনি নিজেই প্রতিশ্রুতি রক্ষার আশ্বাস দিয়েছেন। তার পক্ষে একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীও ছিলেন। ফলে এখন ‘ভুল বোঝানো হয়েছিল’, এ দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।”

আদালত থেকে আরও বলা হয়, “যাদব বলেছিলেন মীমাংসার পথ খুঁজবেন, মধ্যস্থতায় গিয়েছিলেন এবং অর্থ পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছিলেন। বছরের পর বছর অর্থ পরিশোধ করেননি।” 

বিচারপতি শর্মা বলেন, “আদালতের সহানুভূতি থাকতে পারে, তবে তা আইনি কাঠামোর ঊর্ধ্বে নয়।”  

জটিলতা শুরু যেখান থেকে

এই আর্থিক সংকটের সূত্রপাত ২০১০ সালে। যাদব তার পরিচালনায় প্রথম চলচ্চিত্র ‘আতা পাতা লাপাতা’ নির্মাণের জন্য দিল্লিভিত্তিক কোম্পানি 'মুরালি প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড' থেকে পাঁচ কোটি রুপি ঋণ নিয়েছিলেন। দুই বছর পর ২০১২ সালে সিনেমাটি মুক্তির পর তেমন ব্যবসা করতে পারেনি। তখন সেই ঋণ পরিশোধ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয় এবং বিষয়টি আদালতে গড়ায়।

দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৮ সালের এপ্রিলে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রাজপাল যাদব ও তার স্ত্রী রাধাকে 'নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের' ১৩৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে। 

 পরে ২০১৯ সালে সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে যাদব দায়রা আদালতে রিভিশন আবেদন করেন, যা পরে গড়ায় দিল্লির হাই কোর্টে।

দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি চলার পর ২০২৪ সালের জুনে হাই কোর্ট সাময়িকভাবে অভিনেতার সাজা স্থগিত করে এবং স্পষ্টভাবে জানায় যে বকেয়া পরিশোধে ‘সৎ ও আন্তরিক’ উদ্যোগ দেখাতে হবে। 

এই সময়ের মধ্যে সুদ-জরিমানা যোগ হয়ে ৫ কোটি রুপি থেকে ঋণের অঙ্ক বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯ কোটিতে।

২০২৫ সালের অক্টোবরে যাদব দুই দফায় ডিমান্ড ড্রাফটের মাধ্যমে ৭৫ লাখ রুপি জমা দেন। সেসময় আদালত লক্ষ্য করে, বকেয়ার বড় অংশ তখনও অপরিশোধিত রয়েছে।   

এরপর গত বছরের ডিসেম্বরে ৪০ লাখ এবং জানুয়ারিতে ২ কোটি রুপি দেওয়ার কথা থাকলেও যাদব তা দেননি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শুরুতে মামলাটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি যাদব এক সপ্তাহের সময় চেয়ে ‘মার্সি প্লি’ বা শেষ মুহূর্তের সাজা মওকুফের আবেদন করেন, আদালত তা খারিজ করে দেন। 

গত ৫ ফেব্রুয়ারি আদালতে শেষবার হাজির হয়ে রাজপাল যাদবের আইনজীবী নতুন করে ২৫ লাখ রুপির একটি চেক ও নতুন পরিশোধের সময় তুলে ধরেন। তবে আদালত আত্মসমর্পণের আদেশ প্রত্যাহার করেননি।  

এরপর ওই দিন বিকাল ৪টার দিকে যাদব তিহার জেল কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

তিহার জেলে আত্মসমর্পণের আগে আবেগাপ্লুত রাজপাল আদালতে বলেন, “স্যার, আমি কী করব? আমার কাছে টাকা নেই। আর কোনো উপায় দেখছি না।”

 সহকর্মীদের কাছ থেকে সাহায্য চেয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সবাই যার যার মতই আছে। এখানে আমরা সবাই একা। কোনো বন্ধু নেই। এই সংকট আমাকে একাই সামলাতে হবে।”

সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন যাদবের সহকর্মীরা

অভিনেতা ও তার পরিবারের আর্থিক এবং আইনি সংকটের বিষয়টি জানার পর একজোট হয়ে বলিউডের অনেকে অর্থসাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। 

যাদবকে ১১ লাখ রুপি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জনশক্তি জনতা দলের (জেজেডি) প্রধান তেজ প্রতাপ যাদব। এছাড়াও অভিনেতা সোনু সুদ, সালমান খান, অজয় দেবগণ, নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকি আর্থিক সাহায্য করার কথা দিয়েছেন।

এখন ১৮ মার্চের শুনানিতে বোঝা যাবে যাদবের বাকি অর্থ পরিশোধে কতটা অগ্রগতি হয়েছে।

আরও পড়ুন

ঋণের অর্ধেক শোধ করেও জামিন মেলেনি রাজপাল যাদবের

রাজপাল যাদবের পাশে অভিনেতা সোনুজেজেডি নেতা

বলিউডের অভিনেতা রাজপাল যাদব কেন কারাগারে