১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বলিউডের অভিনেতা রাজপাল যাদব কেন কারাগারে

অভিনেতার সাজার মেয়াদ ছয় মাস।

বলিউডের অভিনেতা রাজপাল যাদব কেন কারাগারে
রাজপাল যাদব।

গ্লিটজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Feb 2026, 12:36 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:54 PM

দেড় দশকের বেশি সময় আগে আগে নেওয়া একটি ঋণকে ঘিরে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতা শেষ পর্যন্ত গড়াল তিহার জেলে আত্মসমর্পণ পর্যন্ত। এই পরিণতি বলিউডের কৌতুক অভিনেতা রাজপাল যাদবের; পর্দায় যার উপস্থিতি মানেই হাসির রোল।

তিনি এখন দিল্লির তিহার জেলে সাজাভোগ করছেন। তার সাজার মেয়াদ ছয় মাস। 

জটিলতা শুরু যেখান থেকে

আর্থিক সংকটের সূত্রপাত হয় ২০১০ সালে। যাদব তার পরিচালনায় প্রথম চলচ্চিত্র ‘আতা পাতা লাপাতা’ নির্মাণের জন্য দিল্লিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান 'মুরালি প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড' থেকে পাঁচ কোটি রুপি ঋণ নিয়েছিলেন। দুই বছর পর ২০১২ সালে সিনেমাটি মুক্তির পর তেমন ব্যবসা করতে পারেনি। তখন সেই ঋণ পরিশোধ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয় এবং বিষয়টি আদালতে গড়ায়।  

দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রাজপাল যাদব ও তার স্ত্রী রাধাকে 'নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের' ১৩৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে।

পরে ২০১৯ সালে সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে রাজপাল দায়রা আদালতে রিভিশন আবেদন করেন, যা পরবর্তীতে দিল্লি হাই কোর্টে ওঠে।

দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি চলার পর ২০২৪ সালের জুনে হাই কোর্ট সাময়িকভাবে অভিনেতার সাজা স্থগিত করে এবং স্পষ্টভাবে জানায় যে বকেয়া পরিশোধে ‘সৎ ও আন্তরিক’ উদ্যোগ দেখাতে হবে। 

এই সময়ের মধ্যে সুদ-জরিমানা যোগ হয়ে ৫ কোটি রুপি থেকে ঋণের অঙ্ক বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯ কোটি টাকায়।

২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে যাদব দুই দফায় ডিমান্ড ড্রাফটের মাধ্যমে ৭৫ লাখ রুপি জমা দেন। সেসময় আদালত লক্ষ্য করে, বকেয়ার বড় অংশ তখনও অপরিশোধিত রয়েছে।

এরপর গত বছরের ডিসেম্বরে ৪০ লাখ এবং জানুয়ারিতে ২ কোটি রুপি দেওয়ার কথা থাকলেও যাদব তা দেননি। 

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শুরুতে মামলাটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। সেসময় দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি স্বর্ণা কান্ত শর্মা বলেন, "খ্যাতি বা পেশাগত পরিচয়ের কারণে কাউকে অনির্দিষ্টকাল ছাড় দেওয়া যায় না। আদালতের আদেশ অমান্যের আর সুযোগও নেই।"

 গত ৪ ফেব্রুয়ারি যাদব এক সপ্তাহের সময় চেয়ে ‘মার্সি প্লি’ বা শেষ মুহূর্তের সাজা মওকুফের আবেদন করেন, আদালত তা খারিজ করে দেন।

বিচারকের ভাষ্য, যাদব বারবার আদালতের নির্দেশ অমান্য করেছেন এবং এতে বিচারব্যবস্থার প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হয়নি।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি আদালতে শেষবার হাজির হয়ে রাজপাল যাদবের আইনজীবী নতুন করে ২৫ লাখ রুপির একটি চেক ও নতুন পরিশোধ সূচি উপস্থাপন করেন। তবে আদালত আত্মসমর্পণের আদেশ প্রত্যাহার করেননি।

এরপর ওই দিন বিকেল ৪টার দিকে যাদব তিহার জেল কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।