ব্যবস্থার পরও না কমে বাড়ছে খেলাপি ঋণ: আনিসুল ইসলাম

“আমরা তাদের যে ট্র্যাক রেকর্ড দেখছি, সেখানে আমরা এটা দেখতে পাচ্ছি না," কেন্দ্রীয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমানোর রোডম্যাপ প্রসঙ্গে বলেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 13 Feb 2024, 06:58 PM
Updated : 13 Feb 2024, 06:58 PM

বর্তমান সংকটজনক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যাংক অন্যতম দুর্বল খাত মন্তব্য করে সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, ব্যবস্থা নেওয়ার পরও খেলাপি ঋণ কখনও কমতে দেখা যায় না।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

খেলাপি ঋণের তুলনামূলক পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, “২০০৮ সাল পর্যন্ত খেলাপি ঋণ ছিল ২৮ হাজার কোটি টাকা। এখন সেটা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু কখনও খেলাপি ঋণ কমতে দেখা যায় না, বাড়ছে।”

জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম বলেন, “সংসদে খেলাপি ঋণ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। কিন্তু কিছু হয়নি। এবার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তারা অন্যভাবে চেষ্টা করবেন, স্বচ্ছতা আনবেন। সে স্বচ্ছতা যাতে ফিরিয়ে আনেন।”

বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘সংকটজনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “ব্যাংক খাত অন্যতম দুর্বল খাত। তারল্য সংকট, ডলার সংকট আছে। এসব বিষয়ে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কিছু শক্ত পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।”

এমন প্রেক্ষাপটে অর্থমন্ত্রীকে এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জাতীয় পার্টির এ নেতা খেলাপি ঋণ ৮ শতাংশ নামিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্প্রতি ঘোষিত ‘রোডম্যাপের’ কথা সংসদে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “বর্তমানে যে খেলাপি ঋণ আছে সেটি মোট অনাদায়ি ঋণের ৯ শতাংশ। এটাকে কমিয়ে ৮ শতাংশে আনবেন। এটিকে সমর্থন করি। কিন্তু ওনারা তো করবেন না। আমরা তাদের যে ট্র্যাক রেকর্ড দেখছি, সেখানে আমরা এটা দেখতে পাচ্ছি না।"

এদিন রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া বলেন, "দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ডলার সংকট নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বিদেশে অনেক টাকা পাচার হয়ে গেছে। যদি অর্থমন্ত্রী এটা জানেনই তাহলে নাম প্রকাশ করুক, কারা বিদেশে টাকা পাচার করলেন।"

তিনি বলেন, "দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ ওঠলে কর্মকর্তাকে অন্য দপ্তরে বদলি করা হয়। এটা হয় প্রাইজ পোস্টিংয়ের মত। বড় দুর্নীতির বিষয় পত্র পত্রিকায় এলে বিভাগীয় তদন্ত হয়। কিন্তু সেটা আলোর মুখ দেখে না। এখন দেশে মূল সমস্যা দুর্নীতি ও বিচারহীনতা। কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সরকারকে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে।"

কিশোর গ্যাং ও তাদের প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মুজিবুল হকও। অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে এ বিষয়ে সরব হন তিনি।