Published : 11 Jun 2023, 09:21 PM
কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়িয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার আহ্বান জানিয়েছেন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।
রোববার ঢাকায় হোটেল লেকশোরে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৩-২৪: ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক এবং বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করেন।
এতে এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, “বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে কম রাজস্ব আদায়কারী দেশের অন্যতম। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যেও বাংলাদেশের কর-জিডিপির অনুপাত সবচেয়ে কম।”
এ পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসতে এনবিআরকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “বর্তমানে রাজস্ব সংগ্রহ, নীতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন সবকিছুই করছে এনবিআর, এটা কখনই হতে পারে না।
“প্রতিবছর সরকার রাজস্ব সংগ্রহের একটা প্রবৃদ্ধি ধরে এনবিআরকে রাজস্ব সংগ্রহের একটা টার্গেট দিচ্ছে। আর এনবিআর উৎসে কর এবং অগ্রিম কর এই দুই উৎস থেকে ব্যাপকহারে কর কেটে সরকারকে রাজস্বের যোগান দিচ্ছে।
এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, “সরকার দেশে ১০০টি ইকোনমিক জোন তৈরি করেছে। এসব শিল্পাঞ্চল এখন প্রায় শেষের দিকে। কিন্তু জ্বালানির নিশ্চয়তা নেই। জ্বালানির নিশ্চয়তা দিতে পারলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে বিদেশি বিনিয়োগ হবে।”
বিদেশি বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবলের অভাব পূরণ করতে দক্ষতা উন্নয়ন ও শিক্ষা খাতে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্পায়নে জ্বালানির নিশ্চয়তা চান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, “কর-জিডিপির অনুপাত বাড়ানোর জন্য ট্যাক্স রিটার্ন প্রিপেয়ারার (টিআরপি) বা এজেন্ট নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ ভালো প্রভাব ফেলতে পারে।
“প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি এবং বৈষম্য দূরীকরণকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছে সরকার। তাই সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এই বরাদ্দ থেকে বিধবা ও বয়স্ক ভাতা ১০০ টাকা বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হবে। প্রতিবন্ধীদের ভাতা ১ হাজার টাকায় উন্নীত করা হবে।
“আগামী অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ১ লাখ ২৬ হাজার ২৭২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে আরও ৮ লাখ ৫০ হাজার ভাতাভোগীর পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।”
প্যানেল আলোচক বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিআরআই এর নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে আরও বেশি সংশ্লিষ্ট হয়েছে। তাই বৈশ্বিক অর্থনীতির মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে।
“কিন্তু আমাদের সামষ্টিক অর্থনীতির ব্যবস্থাপনায় কোনও শৃংখলা নেই। জ্বালানি আমদানিতে প্রায় ২৭০ কোটি ডলার বকেয়া রয়ে গেছে। এখন প্রতিদিন আরও চাপ বাড়ছে। সামষ্টিক অর্থনীতির অন্যান্য সূচক বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে মন্দ-ঋণের তালিকাও বাড়ছে।”
বিদ্যমান পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশেষ করে জ্বালানি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বাজেটের কয়েকদিন আগে বা কয়েকদিন পরে ব্যবসায়ীদের সমস্যা নিয়ে কথা বললে এগুলো বাজেটে উপস্থাপন করা যায় না। যে কারণে এনবিআর ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সারা বছরই সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে সংলাপ হওয়া উচিত। এমন বৈঠক নিয়মিত হলে সমস্যার ৬০ ভাগ সমাধান হয়ে যায়।
রাজস্ব বাড়ানোর গুরুত্বারোপ করে তিনি টিআইএনধারীদের দুই হাজার টাকা নূন্যতম কর দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন।
বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ফজলে ফাহিম, মেট্রোপলিটন চেম্বারের সাবেক সভাপতি নিহাদ কবির, বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এসএম মান্নান কচি, বিটিএমএ এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. ফজলুল হক ও সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।