সঙ্কট উত্তরণে বৈশ্বিক সংহতি আরও বেশি প্রয়োজন: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, খাদ্য ও জ্বালানি সঙ্কট, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কঠিন পরিস্থিতিতে আরও বেশি বহুপক্ষীয় সহযোগিতা ও সংহতি প্রয়োজন।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 27 July 2022, 09:38 AM
Updated : 27 July 2022, 09:38 AM

করোনাভাইরাস মহামারী ও ইউক্রেইন যুদ্ধের সঙ্কটে বিশ্ব যে কঠিন সময় পার করছে, সে কথা তুলে ধরে ডি-৮ কে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক জোট হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি বৈশ্বিক সংহতি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, “ডি-৮ এখন সমন্বয় তৈরির মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণ করতে প্রস্তুত। রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং আমাদের সরকারি-বেসরকারি খাতের অর্থপূর্ণ সহযোগিতার মাধ্যমে এটা সম্ভব হয়েছে।

“আমাদের অপার সম্ভাবনা যদি সঠিকভাবে অর্জন করা যায়, তাহলে একটি অর্থনৈতিক ব্লক হিসাবে আমাদের শক্তি বৃদ্ধি পাবে।”

ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে উন্নয়নশীল আটটি দেশের জোট ডি-৮ এর ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ডি-৮ এর মন্ত্রী পর্যায়ের বিংশতম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহামারী, সংঘাত, খাদ্য ও জ্বালানি সঙ্কট, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিশ্ব যেহেতু কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেহেতু আগের চেয়ে বহুপক্ষীয় সহযোগিতা ও বৈশ্বিক সংহতি আরও বেশি প্রয়োজন।

মহামারীর ক্ষত কাটিয়ে না উঠতেই রাশিয়া-ইউক্রেইন দ্বন্দ্ব বিশ্বকে নতুন বিপদে ঠেলে দিয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “সংঘাতে নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞায় খাদ্য, সার, শক্তি ও বিদ্যুৎ এবং অন্যান্য পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত করেছে।

“বাংলাদেশের মত দেশগুলো যুদ্ধের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি বিরূপ পরিস্থিতিতে পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম অধিকাংশ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। আমাদের সকলের উচিত সাহসিকতার সাথে এই মানবিক সংকট মোকাবেলায় এগিয়ে আসা।”

ডি-৮ দেশগুলোর সহযোগিতার ক্ষেত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৫তম বার্ষিকী উদযাপন করার সময়, আমি মনে করি, আমাদের আগামী দশকের জন্য কিছু নির্দিষ্ট মনোযোগের ক্ষেত্র তৈরি করা উচিত।

“প্রথমত, একটি সফল ডি-৮ এর জন্য পিটিএ (অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি) বাস্তবায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আমাদের বড় বাজার আছে, কিন্তু আমাদের সম্মিলিত বাজারও বিবেচনায় আনতে হবে। অন্তঃ ডি-৮ বাণিজ্য আমাদের ব্যবসার সম্ভাবনা এবং সুযোগ ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করবে। আগামী দশকে ১২৯ বিলিয়ন ডলার থেকে অন্তঃ ডি-৮ বাণিজ্য দ্বিগুণ করা আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।

“দ্বিতীয়ত, সদস্য দেশগুলোর বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে জায়গা দিতে প্রস্তুত। আমরা যদি এখনই প্রক্রিয়া শুরু করি, তাহলে আগামী দশকের মধ্যে আমাদের একটি শক্তিশালী ডি-৮ অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে।”

তৃতীয় প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আইসিটি এমন একটি ক্ষেত্র যার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। ডি-৮ দেশের যুবকদের শক্তিশালী কর্মশক্তিতে পরিণত করা যেতে পারে। বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশ ৪০ বছরের নিচে এবং আমাদের সাড়ে ৬ লাখ নিবন্ধিত আইটি ফ্রিল্যান্সার রয়েছে। এই বিশাল জনশক্তিকে আমরা আইটিভিত্তিক শিল্প তৈরি করতে এবং তরুণদের বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে ব্যবহার করতে পারি।

“চতুর্থত, খাদ্য নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীল খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে ডি-৮ এর বৈচিত্র্যময় কৃষি উৎপাদনে মনোনিবেশ করা উচিত। বাংলাদেশ তার সেরা অনুশীলন এবং অভিজ্ঞতা অন্যান্য ডি-৮ সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে ভাগ করে নিতে প্রস্তুত। আগামী দশকের মধ্যে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার জন্য আমাদের কৃষি উৎপাদনে মনোযোগ দেওয়া উচিত।”

পঞ্চম এবং চূড়ান্ত প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ডি-৮ সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে শক্তির ব্যবহার এবং বিকল্প শক্তির উৎসগুলোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এমন অন্যান্য দেশগুলোকে সম্পৃক্ত করে সক্ষমতা বিকাশের উপর দৃষ্টি দিতে হবে।”

করোনাভাইরাস মহামারীর প্রভাব কাটাতে আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়ায় নানা পদক্ষেপের কথা অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত আমরা ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমতুল্য ২৮টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি, যা আমাদের জিডিপির ৬ দশকি ৩ শতাংশ। ছয় কোটি ৭৪ লাখ মানুষ এবং ১১৮ হাজার ব্যবসায় উদ্যোগ এই প্যাকেজগুলো থেকে লাভবান হয়েছে।”

কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবিলায় সফলভাবে টিকাদান কর্মসূচির কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, “বাংলাদেশ সেই কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি, যারা সফলভাবে তাদের নির্ধারিত জনগোষ্ঠীকে কোভিড-১৯ এর টিকা দিয়েছে। কোভিড-১৯ পুনরুদ্ধার সূচকে ১২১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ পঞ্চম এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, ডি-৮ মহাসচিব রাষ্ট্রদূত ইসিয়াকা আব্দুল কাদির ইমাম, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, ডি-৮ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডি-৮ সিসিআই) সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক