Published : 24 Oct 2022, 12:04 AM
বাজারে সরবরাহ ঠিক রাখতে আরো এক লাখ টন চিনি আমদানির খবর দিল বাংলাদেশ ব্যাংক।
রোববার ব্যতিক্রমী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, “গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে চিনি সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। তথাপি অচিরেই আরো ১ লক্ষ টন চিনি আমদানি করা হচ্ছে। একটু তদারকি করলে চিনির বাজার স্বাভাবিক হবে বলে আমরা আশাবাদী।’’
চিনি নিয়ে বাংলাদেশে ব্যাংকের এমন সংবাদ বিজ্ঞপ্তির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বিডিনিউজ টোয়িন্টিফোর ডটকমকে বলেন, নতুন আমদানি হওয়া চিনির মধ্যে ৫০ হাজার টন ইতোমধ্যে আমদানি প্রক্রিয়ায় মধ্যে (পাইপলাইনে) রয়েছে। এর বাইরে নতুন করে আরো ৫০ হাজার টন চিনি আমদানির এলসি (ঋণপত্র) খোলার অনুমোদন দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২১ সালে দেশে ১৭ লাখ টন চিনি আমদানি করা হয়েছিল। আর চলতি বছরের প্রথম ১০ মাস অর্থাৎ অক্টোবর পর্যন্ত আমদানি হয়েছে সাড়ে ১৬ লাখ টন।
বেশ কিছু দিন ধরে বাড়তে থাকা চিনির দর হঠাৎ করে একশ টাকা ছাড়িয়ে যায় গত সপ্তাহের শুরুতে। পরে বাজারে চিনি কমে যাওয়ার অজুহাতে খোলা চিনির দাম সপ্তাহের ব্যবধানে ১০ টাকা বেড়ে হয়েছে কেজিপ্রতি ১১০ টাকা।
বাজারে চিনির দর এক সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজিতে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অথচ গত ৬ অক্টোবর চিনির দাম কেজিতে ৬ টাকা বাড়ানো হয়।
বাজারে চিনির ঘাটতি থাকার কথা না: ভোক্তা অধিদপ্তর
চিনির চড়া দাম: ৫০ বাজারে অভিযান, ১৪৮ দোকানকে জরিমানা
চিনি উৎপাদন কমেছে, গ্যাস সংকটকে দুষছে সিটি ও ফ্রেশ গ্রুপ
ওই দিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যবসায়ীদের এক সভা শেষে মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ নতুন দর ঘোষণা করেন। সে অনুযায়ী কেজিপ্রতি খোলা চিনির দাম নির্ধারণ করা হয় ৯০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ৯৫ টাকা।
এমন প্রেক্ষাপটে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর শনিবার চিনি পরিশোধন ও বাজারজাতকারী তিনটি মিল পরিদর্শন করে।
সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে চড়া দামে চিনি বিক্রি এবং অনিয়মের কারণে দেশজুড়ে চলানো বিশেষ অভিযানে শনিবার দেড়শ ডিলার ও দোকানকে ৬ লাখ ৩৭ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়।
সিটি ও ফ্রেশ গ্রুপের মালিকানাধীন কোম্পানিগুলো দাবি করেছে, গ্যাস সংকটে চিনি উৎপাদন অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে তারা। এমন তথ্য জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিদর্শনকালে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজার ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দেশে ১৮ লাখ মেট্রিক টন চিনির চাহিদা পূরণ করার জন্য ৯৮ শতাংশ কাঁচামাল ব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনার মত দেশ থেকে আমদানি করা হয়।
“এলসি অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণ র সুগার আমাদের আছে। সেই হিসেবে আমাদের বাজারে কোনো ঘাটতি থাকার কথা না। সমস্যা হল, সেটাকে রিফাইন করা যাচ্ছে না, চলমান গ্যাস এবং বিদ্যুৎ সংকটের কারণে।”