ডলারের দর আরো ৫০ পয়সা বাড়ল

প্রবাসী আয়ে ব্যাংকের প্রণোদনায় কোনো সীমা থাকবে না।

নিজস্ব প্রতিবেদক
Published : 31 Oct 2023, 06:30 PM
Updated : 31 Oct 2023, 06:30 PM

ক্রয় ও বিক্রয় উভয় ক্ষেত্রেই ডলারের দর ৫০ পয়সা করে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) এবং বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ অথরাইজড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা)।

মঙ্গলবার রাতে অনলাইনে জরুরি বৈঠক ডেকে সংগঠন দুটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নতুন এ দর কার্যকর হবে বুধবার থেকেই।

বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রবাসী আয় দেশে আনতে রেমিটেন্সের বিপরীতে ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া প্রণোদনার কোনো ঊর্ধ্বসীমা থাকবে না।

তবে শর্ত হল, যে দরেই রেমিটেন্স আনা হোক না কেন, ১১১ টাকার বেশি দরে বিক্রি করতে পারবে না কোনো ব্যাংক।

গত ১৯ অক্টোবর এক বৈঠক করে এবিবি ও বাফেদা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স আনতে সরকারের দেওয়া আড়াই শতাংশের সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে আরো আড়াই শতাংশ হারে প্রণোদনা দিতে পারবে।

মঙ্গলবার সেই সিদ্ধান্ত বদলেছে জানিয়ে বাফেদার নির্বাহী সচিব আবুল হাশেম  বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সব ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়ে প্রতি ডলারে ৫০ পয়সা বাড়িয়ে দর নির্ধারণ করা হয়েছে ১১০ টাকা ৫০ পয়সা, আর বিক্রয়ে দর হবে সর্বোচ্চ ১১১ টাকা।

“ব্যাংক চাইলে রেমিটেন্স গ্রহীতাকে যে কোনো হারে প্রণোদনা দিতে পারে। কিন্তু তা অবশ্যই হতে হবে ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে এবং প্রণোদানার অর্থ রেমিটেন্স সুবিধাপ্রাপ্ত গ্রাহকই পাবে, কোনো এক্সচেঞজ হাউস তা পাবে না।’’

নতুন সিদ্ধন্ত অনুযায়ী, সেবাখাতসহ সব ধরনের রপ্তানি আয়, বিদেশ থেকে আসা সব ধরনের আয়ে ডলারের দর হবে ১১০ টাকা ৫০ পয়স, যা এতদিন ছিল ১১০ টাকা।

রেমিটেন্স আনতে এই দরের সঙ্গে সরকার আড়াই শতাংশ হারে প্রণোদনা দিয়ে আসছে। তাতে রেমিটেন্স পর্যায়ে ডলারের দর হবে ১১৩ টাকার সামান্য বেশি।

অন্যদিকে ডলার বিক্রিতে (আমদানি, আন্তঃব্যাংক, বিদেশে অর্থ প্রেরণ) বিনিময় হার হবে সর্বোচ্চ ১১১ টাকা, যা এতদিন ছিল ১১০ টাকা ৫০ পয়সা। অর্থাৎ, ১১১ টাকা হবে আন্তঃব্যংকে ডলারের দর।

বিনিময় হার বাজারমূখী করতে টাকার মান আরো কমানোর পরামর্শ এলেও বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী নির্বাচনের আগে না কমানোর পক্ষে ছিল।

গত সোমবার সন্ধ্যায় ডলারের দর বাড়ানো নিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।

বৈঠকে রাষ্ট্রায়াত্ত সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফজাল করিম, অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুরশেদুল কবীর, রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ও কয়েকটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান সেলিম আরএফ হোসেন আলোচনার বিষয় ‘কনফিডেনশিয়াল’ বলে জানিয়েছিলেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে।

এবিবি ও বাফেদার ওই বৈঠকের পরের দিন বাড়ানো হল ডলারের দর। এর আগের বারও ডলারের দর বাড়ানোর আগে গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল এবিবি ও বাফেদা নেতারা।

রিজার্ভ ক্ষয় কমাতে রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়ে আসছেন অর্থনীতিবিদরা। হুন্ডি কমাতে বিনিময় হার আরো বাজারমুখি করতে টাকার মান কমানোরও পরামর্শ রয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে হুন্ডি ও খোলাবাজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে রেমিটেন্স আনতে ব্যাংকে প্রবাসীদের ডলার পাঠাতে বিনিময় হার বাড়ানো হল।