Published : 29 Oct 2022, 10:49 PM
সবসময় খরচ কমিয়ে ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ মুনাফা করতে চাওয়ার চেষ্টার কারণে বেসরকারি খাত পরিবেশ রক্ষায় হঠাৎ ‘অতি উৎসাহী হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে’ বলে মনে করেন না সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী।
ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতিতে নাম লেখানো সংসদে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির এই সভাপতি মনে করেন যখন একজন ব্যবসায়ীকে মুনাফা বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া হবে তখনই তিনি সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং পরিবেশ রক্ষায় ব্যয় করতে এগিয়ে আসবেন।
শনিবার বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচীর (ইউএনডিপি) যৌথ আয়োজনে ‘টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের রিপোর্টিং: প্রত্যাশা এবং অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সাবের হোসেন বলেন, “বেসরকারি খাতের একজন ব্যবসায়ী সবসময় তার উৎপাদন খরচ কমিয়ে আয় বাড়ানো এবং সর্বোচ্চ মুনাফা করতে চায়।
“আর আপনি যতই বলেন পরিবেশ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেন, এটা তারা শুনবে না। এটা শুধু বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে নয় সারা বিশ্বের বেসরকারি খাতের বৈশিষ্ট একই।“
বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে পরিবেশ রক্ষায় জরুরিভিত্তিতে কাজ শুরু হলেও কোনও বেসরকারি কোম্পানির সংশ্লিষ্টতা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
“তাই বাংলাদেশের বেসরকারি খাত পরিবেশ রক্ষায় হঠাৎ অতি উৎসাহী হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে, এটা আমি মনেও করি না”, বলেন তিনি।
তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিবেশ রক্ষার জন্য ব্যয়কে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে দেখানো হলে প্রতিষ্ঠানগুলো উৎসাহিত হতে পারে বলে মনে করেন সাবের হোসেন।
পণ্য উৎপাদনের বাজারমূল্যের বেশির ভাগ অর্থ যাতে উদ্যোক্তারা পান সেই ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রয়োজনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের পোশাক রপ্তানি বাজারে যে দামে বিক্রি হচ্ছে তার মাত্র ২০ শতাংশ বাংলাদেশ পাচ্ছে। এই ২০ শতাংশ নিয়েই আমরা মারামারি করছি। বাকি ৮০ শতাংশই বিভিন্ন মধ্যবর্তী স্তরগুলোর কাছে চলে যাচ্ছে।
“আমাদের দেশের একজন উৎপাদক মুনাফার এত কম হার পেয়ে কীভাবে টেকসই উন্নয়নে বিনিয়োগ করবে,” প্রশ্ন তার।
এসময় তিনি চলতি বছরের জুনে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের একটি প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে বলেন, ফোরামের একটি প্রবন্ধে বলা হয়েছে বেসরকারি উদ্যোক্তারা উৎপাদনের বিপরীতে প্রায় ৬০ শতাংশ লাভ করে। তাই তারা টেকসই উন্নয়নে বিনিয়োগও করতে পারবে।
“কিন্তু আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা পাচ্ছেন মোট বাজারমূল্যের মাত্র ২০ শতাংশ।“
সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি প্লাস্টিক শিল্প বর্জ্যকে পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করে পরিবেশ রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন।
আলোচনায় অন্য বক্তারা দেশের বিশেষ করে বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশ রক্ষায় ব্যয় করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাধ্য করার দাবি জানান।
মূল প্রবন্ধে তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমানে বিশ্ব পরিস্থিতি যেভাবে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে তাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কম সময়ে বেশি মুনাফাকে দীর্ঘ স্থায়ীত্বের জন্য হুমকি বলে মনে করতে হবে। তাই এখন উচিত হবে কম মুনাফা করে দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কৌশল গ্রহণ করা। ইতোমধ্যে ইউরোপ ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো এ নীতি গ্রহণ করে এগোচ্ছে।
এজন্য দেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে টেকসই উন্নয়নে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সিটিজেন প্ল্যাটফর্ম ফর এসডিজি’স বাংলাদেশের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় সভায় ইউএনডিপির সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি প্রসেনজিৎ চাকমাসহ বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।