Published : 13 Oct 2022, 11:55 PM
মহামারী-উত্তর বিশ্বকে আবার উন্নয়নের ধারায় ফিরিয়ে আনতে সরকারি-বেসরকারি ও ব্যক্তিখাত, উদ্ভাবক, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমের একযোগে কাজ করার তাগিদ এসেছে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন থেকে।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘ফ্রুগাল ইনোভেশন ফোরাম’ (ফিফ) শীর্ষক এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের শেষ দিন বৃহস্পতিবার অতিথিদের বক্তব্যে এ বিষয়টি উঠে আসে।
ব্র্যাকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২০০ জন প্রতিনিধি এ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন; তাদের মধ্যে ৪০ জন বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বক্তব্য রাখেন।
সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে ব্যয় সাশ্রয়ী এবং টেকসই সমাধান উদ্ভাবনে পাঁচ দশক ধরে কাজ করে আসছে ব্র্যাক। সে প্রক্রিয়াটিকে বেগবান করার লক্ষ্যে ২০১৩ সালে ফ্রুগাল ইনোভেশন ফোরাম প্রতিষ্ঠা করে তারা।
এর আওতায় ব্র্যাক প্রতি বছর আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করে, যেখানে বিশ্বের, বিশেষ করে উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর উদ্ভাবক, সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধি, উন্নয়ন সংস্থা ও ব্যক্তিখাতের প্রতিনিধিরা মতবিনিময় করেন। এবছর এ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘মহামারী-উত্তর বিশ্বের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন।’
এবারের ফিফ সম্মেলনে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাসহ আর্থসামাজিক খাতের বিভিন্ন বিষয়ে উদ্ভাবনবিষয়ক পর্যালোচনা হয়। একদিনের মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন এবং ঢাকার হোটেল সোনারগাঁওয়ে দুদিনের প্যানেল আলোচনা ও কর্মশালা দিয়ে সাজানো হয় সম্মেলন।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম, ঢাকায় কানাডার হাই কমিশনার লিলি নিকলস, ইউএনডিপির পলিসি অ্যাডভাইজার আনির চৌধুরী, চাকমা সার্কেলের রানী ইয়ান ইয়ান, বিকাশ অ্যাপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের বৈশ্বিক উন্নয়ন ও কৌশলবিষয়ক উপপরিচালক হিলারি মিলার-ওয়াইজ, ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাভেদ আকতার, গ্রামীণ ফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান এবং এইচএসবিসি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনের বিভিন্ন পর্বে উপস্থিত ছিলেন।
আনির চৌধুরী বলেন, “মহামারী থেকে আমরা তিনটি জিনিস শিখেছি। সেগুলো হল– সরকার, মোবাইল ফোন কোম্পানি, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, ব্যক্তিমালিকানাধীন খাতের মধ্যে তথ্য-উপাত্তের সমন্বয় ঘটানো সম্ভব, যার মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়; রিমোট প্রযুক্তিতে রোগ শনাক্তকরণ, পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি এবং মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীবাহিনী স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে মুখ্য ভূমিকা পালন করে এবং মহামারীর সময় দ্রুত মতবিনিময়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হোয়াটসঅ্যাপের মতো ডিজিটাল মাধ্যমের সফল এবং ব্যাপক যে ব্যবহার হয়েছিল, তা মহামারী-উত্তরকালেও অব্যাহত রাখতে হবে “
ব্র্যাকের চেয়ারপারসন হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, “উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে শুধুমাত্র তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ত, দৃঢ়ভাবে জেন্ডার সমতামুখী এবং জনমানুষের যাপিত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে উদ্ভাবিত সমাধানই সফল ও কার্যকর হতে পারে। এটাই তিন দিনব্যাপী এই ফ্রুগাল ইনোভেশন ফোরাম থেকে নেওয়া সারমর্ম।
“বৃহৎ পর্যায়ে রূপান্তর ঘটাতে হলে বিশ্বের নীতিনির্ধারক মহল ও বেসরকারি পর্যায়ে কর্মরতদের একই ভাষায় কথা বলতে হবে। তারা ভিন্ন ভাষায় কথা বললে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না।”
সম্মেলনের শেষ দিনে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ কোভিড পরবর্তী ‘নতুন-স্বাভাবিক’ যুগে ব্র্যাকের ভবিষ্যৎ ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন।
তিনি বলেন, “ব্র্যাকের প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতে আমরা কাজ করে যাব। সমাজ ও দেশের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন সমস্যার উদ্ভব হবে। সরকার, ব্যক্তিখাত, উন্নয়ন অংশীদার এবং সামাজিক উদ্যোক্তাদের নিয়ে সমাধানমূলক যে ব্যবস্থাটি গড়ে উঠেছে, আমরা তারই অংশ। ব্র্যাক আগেও যা করেছে, এখনও ঠিক তাই করে যাবে। আমরা দেশে ও বিদেশে সরকার, ব্যক্তিখাত এবং পরিবর্তনের অগ্রদূতদের পাশাপাশি কাজ করে যাব।”