Published : 26 Jun 2025, 07:19 PM
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ‘অচলাবস্থা নিরসনে’ প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ চেয়েছে আন্দোলনে নামা কর্মীদের প্লাটফর্ম— এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ।
বৃহস্পতিবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, “সার্বিক পরিস্থিতিতে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ মনে করে, প্রধান উপদেষ্টার সানুগ্রহ হস্তক্ষেপ ছাড়া এ অচলাবস্থার নিরসন হবে না।
“তাই এই অচলাবস্থা নিরসনে আমরা প্রধান উপদেষ্টার সানুগ্রহ হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
দাবি আদায়ে চার দিন ধরে অবস্থান কর্মসূচি ও কলম বিরতি পালন করছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ।
বৃহস্পতিবার রাজস্ব ভবন ঘিরে রাখে সেনাবাহিনীর একটি দল। সঙ্গে ছিল র্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও কোস্ট গার্ড। তারা কার্যালয় ভেতর থেকে আটকে রাখেন; কাউকে ঢুকতে দেননি এবং কাউকে বের হতেও দেননি।
পরিষদের সভাপতি অতিরিক্ত কমিশনার হাছান মোহাম্মদ তারেক রিকাবদার ভবনে ঢুকতে বাধা পেয়ে মূল ফটকেই বসে পড়েন। পরে বাইরে থাকা অন্য কর্মীরাও ফুটপাত ও সড়কের একটা অংশে বসে পড়েন। তাদের সঙ্গে যোগ দেন এনবিআরের কয়েক সদস্য ও কমিশনার।
এরপর বিকাল সোয়া ৪টার দিকে মূল ফটকের সামনেই সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।
সেখানে পরিষদের সভাপতি বলেন, “আপনারা দেখছেন, আজ বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করে এনবিআরের তিনটি গেইট বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এনবিআর কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী আজ এনবিআরে ঢুকতে পারছে না। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।
“বিষয়টি আমাদের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দমন-নিপীড়নের কথা মনে করিয়ে দেয়। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার যেমন দমন-নিপীড়ন করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ব্যর্থ করতে পারেনি, ঠিক তেমনি আমাদের ওপর দমন নিপীড়ন করেও আমাদের যৌক্তিক রাজস্ব সংস্কারের দাবিকে কেউ রুখতে পারবে না। এনবিআরের বিলুপ্তি রোধে আমাদের জীবনের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত আমরা বিসর্জন দিতে রাজি আছি।”
বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কর ও কাস্টমস ক্যাডারের ‘একটি প্রতিনিধি দলকে’ আলোচনার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা। বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় ওই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে ওই বৈঠকে ‘আমন্ত্রণ না পাওয়ায়’ অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেয় পরিষদ।
এদিকে অফিস সময় শেষে ভেতর থেকে সেনাবাহিনী ফটক খুলে দিলেও কেউ বের হতে পারেননি। কারণ বাইরে থেকে একটি তালা পরিষদের তরফে লাগানো ছিল। পরে সোয়া ৫টার দিকে তালা খুলে দেওয়া হয়।
সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা সড়কের প্রধান গেইট থেকে মূল সড়ক পর্যন্ত দুই পাশে সারিবদ্ধ হয়ে ভেতরের গাড়ি ও বাস বের করে দেন।
মে মাসে এনবিআর দুই ভাগ করে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব নীতি নামে দুটি স্বতন্ত্র বিভাগ করে অধ্যাদেশ জারি হয়। সেটি বাতিলের দাবিতে কলম বিরতিসহ নানা কর্মসূচি দিয়ে আন্দোলনে নামেন এনবিআরের কর্মীরা।
তাদের আন্দোলনের মধ্যে সরকার পিছু হটে। বলা হয়, অধ্যাদেশ বাস্তবায়নে এনবিআর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
এরপর কাজে যোগ দিলেও আন্দোলনকারীরা এনবিআর চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে অটল থাকেন এবং সংস্থার কার্যালয়ে তাকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন।
পরে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় অফিসে ফেরেন এনবিআর চেয়ারম্যান।
শুক্রবারের মধ্যে চেয়ারম্যান অপসারণ না হলে শনিবার থেকে কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সব দপ্তরে ‘লাগাতার কমপ্লিট শাটডাউন’ শুরুর ঘোষণা রয়েছে পরিষদের তরফে। একই সঙ্গে সব দপ্তর থেকে ‘মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।
আরও পড়ুন
'খুবই ঝামেলার' মধ্যে আছি: এনবিআর চেয়ারম্যান